| প্রচ্ছদ

করোনা আতঙ্ক

বগুড়ার শেরপুরে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে অভিযান : জরিমানা আদায়

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ১৭৭ বার। প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২০ ।

দেশে করোনা ভাইরাসে তিনজন আক্রান্ত হওয়ার খবরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। পাশাপাশি এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে ভিড় করছেন তারা। ফলে এসব পণ্য বিক্রি বেড়ে গেছে। আর হঠাৎ বাড়তি চাহিদার কারণে সুযোগ নিয়েছেন এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। এমনকি মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। মাত্র পাঁচ টাকার মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টাকায়। এদিকে করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

এসময় চড়া  দামে মাস্ক বিক্রি করায় ফরিদুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে দুই হাজার জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত উত্তরা প্লাজা মার্কেটের বর্ধিত অংশের এসএম ফ্যাশন হাউজের সত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম দ্বিগুণ দামে মাস্ক বিক্রি করছেন-গোপনে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পরে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওই ব্যবসায়ীর নিকট থেকে উক্ত পরিমাণ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ধরণের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্ট কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা অভিযান পরিচালনা করছি এবং জনস্বার্থে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বেড়ে গেছে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় দোকানগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দাম অনেক  বেশি নেয়া হচ্ছে।

নাজমা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করি, সেজন্যই মাস্ক কিনতে এসেছি। কয়েকদিন আগে যে মাস্ক কিনেছি দশ টাকা দিয়ে সেটাই এখন কিনলাম ৬০টাকায়।

আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ওষুধ বিক্রেতা বলেন, স্যানিটাইজার নামের হাত ধোয়ার যে জিনিসটি এতদিন বিক্রি হয়নি, অথচ এখন তা বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই উপজেলার বিভিন্ন ওষুধের দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর মাস্কের জন্য যে পরিমাণ ভিড় বোঝাই যাচ্ছে মানুষ করোনায় আতঙ্কিত। তাই এই সুযোগে ১০-১৫ টাকার মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজধানী ঢাকায় মাস্কের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদার তুলনায় মাস্ক পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া করোনার আতংকে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাস্ক কিনছেন। ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
 

মন্তব্য