| প্রচ্ছদ

করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্র এখন ইউরোপ: ডব্লিউএইচও

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৬৮ বার। প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২০ ।

চীনের পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে ইউরোপের দেশগুলোতে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রোস আধ্যানম ঘেব্রেইয়েসুস জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্রস্থল এখন ইউরোপ।

পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে বিশ্বের দেশগুলোকে আরও কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া, সামাজিক পদক্ষেপ আর সামাজিকভাবে দূরত্ব তৈরির তাগিদ দিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির

বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে টেড্রোস অ্যাধানম ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, 'পরিস্থিতি যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকতে দেওয়ার সুযোগ নেই।'

বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এর মধ্যেই জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বা মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইতালি। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতালিতে সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৬ জনে, আর আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭ হাজার ৬৬০ জনে।

ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে ১২০ জনের, আর আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ২৩১ জন। শনিবার থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য দেশজুড়ে সতর্কাবস্থা জারি করতে যাচ্ছে দেশটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ১২৩টি দেশের ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ জনকে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।

টেড্রোস অ্যাধানম ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, 'বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই রোগটির নতুন কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপ। চীনকে বাদ দিলে বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যত নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে বা যত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, এর বেশিরভাগই হচ্ছে ইউরোপে। রোগটির কেন্দ্রস্থল চীনে প্রতিদিন যত জন নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে এখন বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে ইউরোপে।'

স্পেন ও ইতালির বাইরে ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের দেশে ২ হাজার ৮৭৬ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৭৯ জন মারা গেছে। জার্মানিতে ৩ হাজার ৬২ জন রোগী পাওয়া গেছে এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৭৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এরই মধ্যে বিদেশিদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ডেনমার্ক, চেক রিপাবলিক, শ্লোভাকিয়া, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড। এছাড়া বেলজিয়াম, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির একাংশে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক দেশ সমাবেশ বন্ধের পাশাপাশি থিয়েটার, রেস্তোরা ও বার বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিচ্ছে। প্যারিসের লুভ জাদুঘর এবং আইফেল টাওয়ারে শুক্রবার থেকে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য