| প্রচ্ছদ

সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

বগুড়ার শেরপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৭৪ বার। প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২০ ।

বগুড়ার শেরপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরধরে একই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের হাতে লাঞ্ছিত হওয়া ওই শিক্ষকের নাম মো. আফছার আলী। তিনি উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের নিশিন্দারা দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক। রোববার (১৫মার্চ) বিকেলে শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডস্থ শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয়। এছাড়া প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি-ধামকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন ওই শিক্ষক। এমনকি সন্ত্রাসীদের ভয়ে যথাসময়ে মাদ্রাসাতেও যেতে পারছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় শিক্ষক আফছার আলী বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে নিশিন্দারা দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে তার সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল আজিজ, শুকুর মাহমুদের সঙ্গে বিরোধ তৈরী হয়। এরপর থেকেই তাকে নানাভাবে হয়রানি করতে নানামুখি ষড়যন্ত্র শুরু করেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ৫মার্চ মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ তার সঙ্গে মারমুখি আচরণ করা হয়। পরে মাদ্রাসা প্রধানের হস্তক্ষেপে চলে যান তারা। কিন্তু ওইদিন দুপুরে মাদ্রাসার কাজে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে নিশিন্দারা কালীমন্দিরের সামনে পৌঁছলে তাকে পথরোধ করেন প্রতিপক্ষ আজিজ ও শুকুর মাহমুদ। এসময় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সর্জিত হয়ে তাদের ভাড়াটে লোকজনও জড়ো হন সেখানে। এরপর তাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। জনাব আফছার আলী অভিযোগ করে আরও বলেন, এরপরও তারা থেমে যাননি। প্রতিনিয়তই প্রাণনাশসহ তাকে নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি-ধামকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে  বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরণের কোন ঘটনাই ঘটেনি। এছাড়া অভিযোগকারী ব্যক্তি আমার শিক্ষক। তাই তার সঙ্গে খারাপ আচারণ করার প্রশ্নই আসে না। বরং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরধরে মূলত তাকে ফাঁসানোর জন্যই এই মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযোগ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মন্তব্য