| প্রচ্ছদ

ঘুষ লেনদেনের মামলায় ডিআইজি মিজান ও বাছিরের বিচার শুরু

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪৫ বার। প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ ।

দুর্নীতির মামলায় পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান মিজান ও দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হলো।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ আদেশ দেন। খবর যুগান্তর অনলাইন 

গত ৪ মার্চ দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েস অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ১৯ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ ফানাফিল্যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আজ আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এবং আসামিপক্ষে সৈয়দ রেজাউর রহমান ও এহসানুল হক সমাজী শুনানি করেন। পরে দুদক কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তাদের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৭ সাক্ষী আছেন, যার মধ্যে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী। তা ছাড়া আলামত হিসেবে তাদের মধ্যকার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড আছে। আমরা বিষয়গুলো আদালতকে বলেছি। সব কিছু শুনে আদালত মামলাটি বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন।

গত ১৬ জুলাই দুদক পরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা শেখ মো. ফানাফিল্লা মানিলন্ডারিং আইনে সংস্থার ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন। ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর দুদক পরিচালকের পদ থেকে খন্দকার এনামুল বাছির ও পুলিশের ডিআইজির পদ থেকে মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গত ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে ওই চ্যানেলকে দিয়েছিলেন মিজান। ডিআইজি মিজানও এ বিষয়ে নিজেই গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ওই অর্থ ঘুষ দেন বলে ডিআইজি মিজান দাবি করেন।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে জোর করে বিয়ে করার সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরসহ দুদকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর পর নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে বিতর্কিত ডিআইজি মিজানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদরদফতরে সংযুক্ত করা হয়। পরে ২৫ জুন তাকে সাময়িক বরখাস্তের কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত বছর ২২ জুলাই এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করে দুদকের একটি দল। সেই থেকে তিনি কারাগারে। অপরদিকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার ডিআইজি মিজানকে এ মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়।

মন্তব্য