| প্রচ্ছদ

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর ঘোষণা ডিসি’র

বগুড়ায় কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেটহোমগুলো এখনও খোলা

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ১৪৭ বার। প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও বগুড়ায় কিছু কোচিং সেন্টার মালিক এবং শিক্ষক এখনও তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রেখেছেন। এতে অভিবাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। 
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোচিং বা প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে-এমন কথা বলার পর তারা ছেলে-মেয়েদের কোচিং সেন্টার ও শিক্ষকরে কাছে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক কোচিং থেকে আবার সিলেবাস শেষ করার দোহাইও দেওয়া হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষক আবার রোজকার কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলেও শিক্ষার্থীদের ডেকে আনছে।
তবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সবকিছুর আগে শিশুদের নিরাপত্তা। কাজেই যারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এখনও কোচিংগুলো খোলা রেখেছেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের সাজা দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গত ১৬ মার্চ ঢাকায় মন্ত্রীসভার বৈঠকে ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধ থাকবে। কিন্তু পুণ্ড্রকথায় অভিযোগ আসে যে, বগুড়া শহরের অনেক এলাকাতেই কোচিং সেন্টার ও ব্যাচ ভিত্তিক প্রাইভেট হোমগুলো সরকারি নির্দেশ অমান্য করা খোলা রাখা হয়েছে। 
অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পুণ্ড্রকথার একাধিক প্রতিবেদক ১৭ ও ১৮ মার্চ দু’দিন শহরের জলেশ্বরীতলা, উপশহর, হাকিড়  মোড়, রাহুল সেন্টার এবং কলেজ বটতলা এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে কোচিং সেন্টার ও শিক্ষকদের ব্যাচভিত্তিক প্রাইভেট হোমগুলো খোলা দেখতে পায়। এমনকি সেগুলোতে আগের মতই সকাল-বিকাল নিয়ম করে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া অব্যাহত রেখেছে। 
অভিভাবকরা দাবি করেছেন, কোচিং মালিক ও শিক্ষকরা নানা অজুহাতে তাদের ছেলে- মেয়েদের কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট হোমে যেতে বাধ্য করছে। ফাতেমা বেগম নামে এক অভিভাবকের অভিযোগ কোন কোন কোচিং থেকে বলা হচ্ছে কোচিং বন্ধ রাখলে ছেলে-মেয়েরা পিছিয়ে পড়বে। আবার তাদের কেউ কেউ বলছেন সিলেবাস দ্রুত শেষ করতে হবে। অনেকে আবার রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ারও দোহাই দিচ্ছেন।  জোৎস্না বেগম নামে অপর এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই ছেলে-মেয়েদের পাঠাচ্ছি।’
ওদিকে কোচিংয়ে আসা শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরার আগে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও পৌর পার্কে বসে রীতিমত আড্ডা দিচ্ছে। এমনকি করোনা নিয়ে তাদের বেশ নির্লিপ্তভাবও দেখা গেছে। একজন শিক্ষার্থীতো বলেই বসলো- ‘বগুড়ায় এখনও কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি তাই এ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই।’ আরেকজন বললো, ‘বাসায় গিয়ে হাত সাবান দিয়ে ধুলেই হবে’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে শহরের রেস্টুরেন্টগুলো। মার্চ মাসের বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে চমকপ্রদ অফার দিচ্ছে তারা। এই সুযোগ লুফে নিয়ে বিকালে শিক্ষার্থীরা একযোগে আড্ডা ও ভিড় জোগাচ্ছে রেস্টুরেন্টগুলোতে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরেও কোচিং সেন্টার খোলা রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, ‘এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অভিভাবকদের সচেতন হতে বলবো। আর যারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
 

 

মন্তব্য