| প্রচ্ছদ

নওগাঁয় দুই ভুয়া চিকিৎসক আটক; ৫০ হাজার টাকা জরিমানা; দেড় বছরের জেল; ১৫ লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ ওষুধ ধ্বংস

নওগাঁ প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৫১ বার। প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ ।

নওগাঁয় র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ অভিযানে ধামইরহাট  ও সাপাহার থেকে রায়হান আলী(৩২)  এবং আব্দুল করিম(৫০) নামে দুই ভূয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা ধামইরহাট উপজেলার ভাতকুন্ডু গ্রাম থেকে রায়হান আলী ও একই দিন সকালে জেলার সাপাহার উপজেলার মাইপুর গ্রাম আব্দুল করিমকে আটক করে। এসময় রায়হান আলীর বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার নিষিদ্ধঘোষিত ওষুধ জব্দ করে সেখানেই ধ্বংস করা হয়েছে। আটক রায়হান আলী ধাইমইরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামের সাদেক আলী মন্ডলের ছেলে এবং আব্দুল করিম মাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে বলে জানা গেছে। এদিকে ওইদিন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্রমান আদালত রায়হান আলীকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও আব্দুল করিমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। ওইদিন বিকেলে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


র‌্যাব জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুর রশিদ জানান, এসএসসি পাস রায়হান আলী স্বপ্নে পাওয়া ও জ¦ীন দিয়ে এলাকায় নানা ধরনের রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ওই চিকিৎসক নিজেকে বড় ডাক্তার দাবি করে হাই এন্টিবায়েটিকসহ প্রেসক্রিপসনে ওষুদের নাম লিখেন এবং জ্বিন-ভুত ছাড়ানোর নামে আগত রোগীদের লাঠি পেটা, লোহার তৈরী ত্রিশুল, মনামনিসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ ওষুধ দিয়ে অবৈধভাবে গত ৮ বছর ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারনা করে আসছিলেন, সর্বশেষ জিনের রোগীকে লাঠি পেটা করতে গিয়ে অসুস্থ্য হওয়ার খবর প্রকাশ  হলে এলাকায় কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বুধবার দুপুরে ভুয়া ওই চিকিৎসকের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে মাদক, নিষিদ্ধ ওষুধ, তাবিজ, গর্ভপাত ঘটানোর ওষুধসহ  বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট গনপতি রাযের ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

 
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু ইসা মো. আরাফাত ইমাম বলেন, এসব ওষুধ খেলে লিভার সিরোসিস, ক্যান্সারসহ মানুষের বিভিন্ন দুরোরোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে, এবং  বিশেষ করে পুরুষরা পুরুষত্বহীন হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। 


উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, উপজেলার কোন বাসা বাড়ীতে এতগুলো নিষিদ্ধ ওষুধ দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি, শুধু মাত্র এসএসসি পাস করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল, চিকিৎসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এই ভুয়া চিকিৎসক, সরকার ও প্রশাসন সাধারণ জনগণের এধরনের ক্ষতি কোন ভাবেই বরদাস্ত করবে না। তাই তাকে কারাদন্ডসহ জব্দ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। 


এব্যাপারে অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক রায়হান আলী বলেন, আমি স্বপ্নে চিকিৎসা শিখেছি, জিন, ভুত তাড়ানো, বাশলী রোগের চিকিৎসা করি। এসএসসি পাস করে প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়েটিক লিখা বৈধ কিনা প্রশ্ন করলে তিনি কোন জবাব দিতে পারেননি।


এছাড়া জেলার সাপাহার উপজেলার মাইপুর গ্রামে আব্দুল করিম (৫০) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলো। এমন সংবাদ পেয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে আব্দুল করিমকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে ওই ভুয়া চিকিৎসকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের জেল দেওয়া হয়।

মন্তব্য