| প্রচ্ছদ

বগুড়ার শাজাহানপুরে পিপিই না থাকায় করোনার ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 
পঠিত হয়েছে ৯৩ বার। প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২০ ।

নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় বিদেশ ফেরত ১৬ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেণ্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেণ্ট (পিপিই) না থাকায় চরম ভাবে করোনার ঝুঁকিতে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকরা। করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমেছে। অফিস-আদালত, হাটবাজার ও বন্দরে জনসমাগম আগের চেয়ে কমে আসছে।

 
 উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, করোনা ভাইরাসের তথ্য সংগ্রহ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে শাজাহানপুরে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ২০ সদস্যের মেডিকেল টীম গঠন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ বেড বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিদেশ ফেরত মানুষের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদেরকে হোম কোয়ারেণ্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছেন। শাজাহানপুর উপজেলা নির্র্বাহী অফিসার মোছা: মাহমুদা পারভীন গতকাল বৃহস্পতিবার দুুপুরে মাঝিড়া বন্দরে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছেন। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ জনসাধারণকে সচেতন করতে স্ব স্ব ইউনিয়নে মাইকিং করছেন। অপরদিকে পুলিশী সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের হাত ধোঁয়ার জন্য প্রবেশ পথে বেসিন স্থাপন করেছে শাজাহানপুর থানা কর্তৃপক্ষ।

 
শাজাহানপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসকদের প্রতি কড়া নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেণ্ট (পিপিই) সরবরাহ করেনি। অপরদিকে করোনা একটি মারাত্নক ছোঁয়াছে ভাইরাস হওয়ায় পিপিই ছাড়া কেউ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে তিনিও আক্রান্ত হবেন। সামান্য সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলেই করোনা সন্দেহে অনেকে হাসপাতালে ছুটে আসছেন। ছুটে আসা এসব মানুষের শারিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন চিকিৎসকগণ। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিপিই অর্থাৎ ক্যাপ, গগজ, মাস্ক, বিশেষ জামা-পাজামা এবং গামবুট সরবরাহ না করায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন চিকিৎসকরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা: এমদাদুল হক জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে অন্ত:বিভাগে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। গত ২ দিন আগেও অন্ত:বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে বৃহস্পতিবার রয়েছে মাত্র ১৭ জন। শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং থানা পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, শাজাহানপুর উপজেলার গন্ডগ্রামে ৪ জন, আশেকপুরে ৮ জন, গোহাইল ইউনিয়নে ২ জন এবং খরনা ইউনিয়নে ২ জন সহ মোট ১৬ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেণ্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশনা না মানলে মোবাইল কোর্টের আওতায় নেয়া হবে মর্মে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: মাহমুদা পারভীন জানিয়েছেন, বিদেশ ফেরত কোন ব্যক্তি হোম কোয়ারেণ্টাইনে থাকতে পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যায় পড়লে তাকে সরকারি ভাবে কোয়ারেণ্টাইনে রাখতে ডোমনপুকুর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার একটি ভবনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যারা হোম কোয়ারেণ্টাইনের নির্দেশনা অমান্য করবে মোবাইল কোর্টের আওতায় নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  
 

মন্তব্য