| প্রচ্ছদ

বিচার পেলেন নির্ভয়া, ন্যায় পেলেন কি?

পুন্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৪ বার। প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২০ ।

একটা বৃত্ত সম্পন্ন হল যেন। ফাঁসি দেওয়া হল চার দোষী, মুকেশ সিংহ, পবন গুপ্ত, বিনয় শর্মা এবং অক্ষয় ঠাকুরকে। সাড়ে সাত বছর ধরে চলা জটিল আইনি মারপ্যাঁচের পর শেষমেশ বিচার পেল নির্ভয়া ও তাঁর পরিবার। কিন্তু ন্যায় পেল কি?
কথায় বলে ‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনায়েড’। নির্ভয়ার ক্ষেত্রেও কি সেটাই হল না? সেই ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই চার দোষীকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। তার পরেও চার দোষীর ফাঁসি হতে লেগে গেল প্রায় সাতটা বছর।
ভারতের বিচার ব্যবস্থার ফাঁক ফোকরগুলো দারুণ ভাবে কাজে লাগালেন দোষীদের আইনজীবীরা। সেই অভিশপ্ত ১৬ ডিসেম্বরের পর গোটা দেশের নজর থেকেছে এই মামলার দিকে। কিন্তু যত বারই মনে হয়েছে এ বার হয়তো সাজা পাবে দোষীরা, তখনই বিকল্প রাস্তা খুঁজে বের করেছেন তাদের আইনজীবীরা। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত, উচ্চ আদালত থেকে শীর্ষ আদালত, শীর্ষ আদালত থেকে কিউরেটিভ পিটিশন, রিভিউ পিটিশন। বিগত সাড়ে সাত বছরে বারে বারে পিছিয়েছে ওই চারজনের ফাঁসি। আর চোখের জল ফেলে নির্ভয়ার মা আশা দেবী পেয়েছেন শুধু ‘তারিখের পর তারিখ’। আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘কবে হবে ফাঁসি?’

ছবির এই বাসে উঠিয়েই গণধর্ষণ এবং অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছিল নির্ভয়ার উপর। পিটিআই
১৬ ডিসেম্বর ২০১২ – একটা কালো দিন হয়ে থাকবে ভারতের ইতিহাসে। সে দিন রাতে দক্ষিণ দিল্লির মুনিরকায় এক তরুণীর উপর চলা নির্যাতনের বীভৎস ঘটনায় লজ্জিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছিল সমগ্র ভারত। তার পর পেরিয়েছে সাতটা বছর। সে রাতের দোষীরা ফাঁসিকাঠে উঠল। সাত বছর ধরে বিচারপর্ব চলার পর একটা বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ হল।
দিনটা ছিল একটা রবিবার। বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে ফিরছিলেন ২৩ বছরের প্যারামেডিক্যালের ছাত্রী। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দক্ষিণ দিল্লির মুনিরকা থেকে বাস ধরেছিলেন ওঁরা দু’জন। পরবর্তী এক ঘণ্টায় বদলে যায় ওদের জীবন। বাসের মধ্যে তরুনীর উপর চলে গণধর্ষণ আর অকথ্য অত্যাচার। ওই দুষ্কর্মে জড়িত ছিল বাস ড্রাইভার-সহ ছ’জন। যাদের মধ্যে একজন নাবালকও ছিল।
রাত ১১টা নাগাদ, ওদের ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রাস্তা থেকে। জামাকাপড় ছিড়ে, রক্তে ভেসে গিয়েছিল শরীর। সফদরজঙ্গ হাসপাতালে শুরু হয় চিকিৎসা। সারা দেশে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে খবর। ভারতজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। যার অবসান ঘটে ৪ ধর্ষকের ফাঁসির মধ্য দিয়ে। আনন্দবাজার পত্রিকা অবলম্বনে।

মন্তব্য