| প্রচ্ছদ

নওগাঁয় দুই নার্সের ঘুমের কারনে করুন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল এক নবজাতক

নওগাঁ প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৭৫ বার। প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২০ ।

নওগাঁ  সদর আধুনিক হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় এক নবজাতকের করুন মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই শিশু এবং হাসপাতালে অন্য রোগিদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  এদিকে নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকালে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে ওই দুই নার্স পলাতক রয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে বৃহষ্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কির্ত্তীপুর ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী প্রসুতী বানু বেগমের একটি পুত্র সন্তান ভুমিষ্ঠ হয়। ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ওই দিন সন্ধ্যায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে তাকে ভর্ত্তি করা হয়। এ সময় ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র  নার্স রোজিনা ও তানিয়া চিকিৎসকের পরামর্শে রাতে শিশুটিকে ফটোথেরাপী দেয় । ফটোথেরাপী মেশিনটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর খুলে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও মেশিনটি না খুলে ওই নার্সরা তাদের নির্দিষ্ট কক্ষে দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মেশিনটি না খোলার কারনে শিশুটির শরীর পুড়ে যেতে শুরু করে। শরীরের একাংশ কালো হতে থাকে। এই অবস্থা দেখে শিশুর পিতা জহুরুল ইসলাম, নানী রওশন আরাসহ অন্য রোগিদের অভিভাবকরা রাত ৩টার দিকে কর্তব্যরত নার্সদের বিশ্রাম কক্ষে গিয়ে ডাকাডাকি শুর করে। কিন্তু নার্সরা ঘুম থেকে না উঠে বদ্ধ কক্ষ থেকে ওই শিশুর অভিভাবকদের জানায় সকাল ৬ টার আগে তারা ডিউটিতে যেতে পারবে না। এই অবস্থায় রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে নবজাতক। 
এব্যাপারে নবজাতকের পিতার জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন ওই দুই নার্স আমাদের সাড়াতে জেগে উঠে শিশুর মুখ থেকে মেশিনটে খুলে ফেললে আজকে আমার সন্তানকে হারাতে হতো না। ওই দুই নার্সের অবহেলার কারনেই আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। এই ঘটনার পর থেকে ওই দুই নার্স পলাতক রয়েছে। শুক্রবার সকালে ওই নার্সকে হাসপাতালে খুজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। 
এবিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মুনির আলী আকন্দ বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের কারনে ওই শিশুর মৃত্যু হলে ওই নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

মন্তব্য