| প্রচ্ছদ

করোনাভাইরাসের মধ্যেই আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল

পুন্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২৯৬ বার। প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২০ ।

পঙ্গপালের ঝাঁক ১০টি দেশের কয়েক লাখ মানুষকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিতে যাচ্ছে। আরব উপসাগরের মরুভূমিতে পঙ্গপালের এই নজিরবিহীন বংশবিস্তার মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের দাবী। খবর গার্ডিয়ান। পঙ্গপালের বিস্তারে সম্মুখসারির দেশ হচ্ছে ইয়েমেন। সেখানে বছরজুড়ে এই পতঙ্গের উপস্থিতি থাকে। গত পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধ ইয়েমেনের পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে আরব উপদ্বীপের দেশটিতে পতঙ্গটি ব্যাপকহারে বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
ওমানের বালুময় মরুভূমিতেও শস্যগ্রাসী এই পতঙ্গের জন্ম হয়।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ কেইথ ক্রিসম্যান বলেন, যখন এই অঞ্চলের পরিবেশ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছিল, তখন অঞ্চলটিতে একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে পঙ্গপালের নতুন একটি প্রজন্মের বিস্তার সহজ হয়ে যায়। পতঙ্গটির বিস্তার আট হাজার গুণ বেড়ে যায়।
ক্রিসম্যান বলেন, এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে গেছে। যাতে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের বিস্তার স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হুশিয়ারি, পঙ্গপালের কারণে অন্তত আড়াই কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে যাবে। আর পঙ্গপাল পর্যবেক্ষণ বিভাগ লোকাস্ট ওয়াচের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তত ১০টি দেশে এই পতঙ্গ দেখা গেছে। কেনিয়ার একটি এলাকায় এমন একটি ঝাঁক শনাক্ত হয়েছে যার আকার লুক্সেমবার্গের মতো হবে।
এই পতঙ্গের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ১৪ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে জুনের দিকে পঙ্গপালের বর্তমান সংখ্যা ৪০০ গুণ বেড়ে যাবে।
কাজেই পরিস্থিতির অবনতি গত কয়েক দশকের তুলনায় বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগের যে কোনো পঙ্গপাল মহামারীর তুলনায় তা দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন ও ইয়েমেন যুদ্ধ বড় অনুঘটকের ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য