| প্রচ্ছদ

টেলিসেবা নেওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

বগুড়ায় ক্লিনিকে সাধারণ রোগেরও মিলছে না চিকিৎসা

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৬৯০ বার। প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০ ।

বগুড়া শহরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণ জ্বর-সর্দির পাশাপাশি অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে । করোনা ভাইরাসের কারণে গত তিন-চারদিন থেকে শহরের কিছু কিছু ক্লিনিকে অনেক চিকিৎসক রোগি দেখা কমে দিয়েছেন। এতে করে ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যাও কয়েকগুণ কমে গেছে।  
সর্দি-কাশি, জ্বর, মাথা ব্যাথাসহ সাধারণ অসুখগুলোর জন্য শহরের অধিকাংশ মানুষ বগুড়া শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে গত মঙ্গলবার থেকে ওই হাসপাতালকে কোভিড-১৯ এর জন্য পুরোপুরি আইসোলেটেড করা হয়েছে। অপরদিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল শহর থেকে কিছুটা দুরে হওয়ায় সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে শহরের লোকজন বাড়ির আশে-পাশের ক্লিনিকগুলোতে গেলেও প্রায় ক্লিনিকে চিকিৎসকের দেখা মিলছে না। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া জেলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক ওনাস অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ২৫০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার আছে। এরমধ্য বগুড়া সদরেই রয়েছে ১৫০টির মত। ওই অ্যাসোসিয়েনের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাকলায়েন জানান, ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কমে গেছে। এছাড়া গত ৩-৪ দিন থেকে চিকিৎসকরাও ঠিকমত আসছেন না। ফলে সাধারণ চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। 
বগুড়া সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সামির হোসেন মিশু জানান, বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসকের কাছে এখনও পার্সোনাল প্রটেকশন ইক্যুয়িপমেন্ট (পিপিই) এখনও নেই। করোনাভাইরাসের কারণে তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই জ্বর সর্দি-কাশি দেখলে কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এ কারণে তারা যতটা সম্ভব টেলিসেবা দিতে চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, ইতোমধ্যে আমিও জানতে পেরেছি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকরা যাওয়া কিছুটা কমে দিয়েছে। মূলতঃ আমরা চেষ্টা করছি, জ্বর, সর্দি-কাশির রোগীদের যতটা সম্ভব বাড়ি রেখে টেলিফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার। মূলতঃ করোনাভাইরাসের কারণে সবাই যেন বিচ্ছিন থাকে এজন্যই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এখন আমরা টেলি স্বাস্থ্যসেবাকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং জনবহুল এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার হটলাইন নম্বরগুলো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডাঃ ওয়াদুদ জানান, কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য শহরের ভিতর অবস্থিত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে যেহেতু বিশেষায়িত করা হয়েছে, স্বাভাবিভাবেই এই হাসপাতালের উপর চাপ কিছুটা বেশি পড়বে। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত হাসপাতালে আসা প্রতিটি রোগীই যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পান। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে রোগীদেরও আমরা সচেতন করার চেষ্টা করছি। তারা যেন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে না এসে বাড়িতে থেকেই টেলিফোনের মাধ্যমেই স্বাস্থ্য সেবা নেন। 

 

মন্তব্য