| প্রচ্ছদ

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

পুন্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১১২ বার। প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২০ ১৬:৫৬:৩৫ ।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হলে সহজে কোনো রোগে আক্রান্ত করতে পারে না। জৈবিকভাবে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একবার দুর্বল হয়ে গেলে কোনো ওষুধেরই তা নিশ্চিতভাবে জোরদার করার ক্ষমতা নেই। তাই সুস্থ থাকতে করোনাভাইরাসের এই সময়টাতে শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

আপনি জানেন কী, কিছু খাবার রয়েছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়াটিকসের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পুষ্টিবিদ ও মুখপাত্র মেলিসা মজুমদার বলেন, কোনো ‘সাপ্লিমেন্ট’ই নিশ্চিতভাবে করোনোভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারবে না। যারাই এমনটি হয় বলে দাবি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে এফটিসি (ফেডারেল ট্রেড কমিশন) এবং এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)। খাবার খেয়ে কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার শক্তি বজায় রাখা যায় সে ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।

আসুন জেনে নেই খাবার খেয়ে কীভাবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।

প্রোটিন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী কোষ ও ‘অ্যান্টিবডি’ গঠনের মূল উপাদানই প্রোটিন। উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উভয় থেকেই প্রোটিন পাওয়া যায়। খেতে পারেন মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, দুধ, টকদই, ডিম, পনির, বাদাম, ডাল ও শিম।

ভিটামিন সি: ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অ্যান্টিবডির রক্তে মাত্রা বাড়ায় ভিটামিন সি ও শ্বেতকণিকাকে পৃথক হতে সাহায্য করে। ফলে শরীর বুঝতে পারে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন। ভিটামিন সি সর্দিজ্বর থেকে সুরক্ষা দেয়। কমলা, আঙুর, কিউই, স্ট্রবেরি, লাল ও সবুজ মরিচ, ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি থেকে সহজেই প্রতিদিন ২০০ গ্রাম ভিটামিন সি পাবেন।

বেটা ক্যারোটিন: মিষ্টি আলু, আম, পালংশাক, ব্রকলি, বাঙ্গি, গাজরে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান। এসব খাবারে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন, যা শরীরে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন 'এ' শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয়। শরীরে আসা বিষাক্ত উপাদানের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টিবডি’কে সক্রিয় করে তোলে এ ভিটামিন 'এ'।

ভিটামিন 'ডি': বস্টন ইউনিভার্সিটির ভিটামিন ‘ডি’ গবেষণা বিশেষজ্ঞ জানান, সংক্রামক জীবাণু, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিত করে ধ্বংস করে এমন এক প্রোটিনের নিয়ন্ত্রণ থাকে ভিটামিন ডির দখলে। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসার অভাবে ভিটামিন ডির অভাব দেখা দিতে পারে। ফলে সবাই সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বাড়বে। চর্বিযুক্ত মাছ, ডিম, পাস্তুরিত দুধ, পনির, মাশরুম ইত্যাদি ভিটামিন ‘ডি’র আদর্শ উৎস।

দস্তা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী কোষের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দস্তা। এর ‘সাপ্লিমেন্ট’ সাধারণ সর্দিজ্বরের সমস্যায় কার্যকর হতে পারে। খেতে পারেন শিম, মটরশুঁটি, মসুর ডাল, বাদাম, বীজজাতীয় খাবার, যব, কাঁকড়া, চিংড়ি, গরুর মাংস, টকদই ইত্যাদি।

পর্যাপ্ত পানি পান করা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩.৭ লিটার ও নারীদের ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার তরল গ্রহণ করতে হবে।

মন্তব্য