| প্রচ্ছদ

করোনা সংকটের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ

ফারুখ ফয়সল
পঠিত হয়েছে ২৮১ বার। প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ ০০:০৮:০৭ ।

করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগ কোভিড-১৯-এর বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আজ গোটা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। এই মহামারির উচ্চ ঝুঁকির তালিকার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ২৫ নম্বরে।
করোনা মহামারির কারণে উদ্ভূত ক্রমবর্ধমান বাধাগুলো আমলে নিয়ে জাতিসংঘের হয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টার আমেরিকান কমিশন ফর হিউম্যান রাইটস (আইএসিএইচআর) ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আন্তরাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) রিপ্রেজেনটেটিভ অন ফ্রিডম অব দ্য মিডিয়া যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের স্বাস্থ্য কেবল সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভর করে না। এটি একজন ব্যক্তি, ব্যক্তির পরিবার ও সমাজের জন্য হুমকিসমূহের ধরন ও সুরক্ষার উপায় সম্পর্কিত সঠিক তথ্যে সহজে প্রবেশগম্যতার ওপরও নির্ভর করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার, যার মধ্যে কিনা সব ধরনের মত ও তথ্যের সন্ধান, গ্রহণ ও জানানোর অধিকার অন্তর্ভুক্ত, যেকোনও মাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে সব জায়গায় সবার জন্য প্রযোজ্য। এই অধিকার কেবল শর্তসাপেক্ষে সীমিত/সংকীর্ণ বিধিনিষেধের আওতায় আসতে পারে। ’

এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন যে করোনাভাইরাসের কারণে আবির্ভূত হুমকির প্রকৃতি/ধরন সম্পর্কে সত্য তথ্য সরবরাহ করা রাষ্ট্রগুলোর জন্য অপরিহার্য। মানবাধিকার আইনের অধীনে সবার কাছে সহজলভ্য উপায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহের জন্য সর্বত্রই রাষ্ট্রসমূহ/সরকারসমূহের বাধ্যবাধকতা আছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, তথ্যে প্রবেশগম্যতার অধিকারের অর্থ হলো, সাংবাদিকদের কাজের সুরক্ষার জন্য সরকারগুলোকে অবশ্যই বিশেষ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।  

কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) প্রতিরোধের এই বৈশ্বিক প্রয়াসে স্বাধীন সাংবাদিকতা, নাগরিক প্রতিবেদন (সিটিজেন রিপোর্টিং), জনসাধারণের মুক্ত আলোচনা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ অত্যাবশ্যক। মহামারির যে সব নিয়ামক মত প্রকাশের স্বাধীনতায় প্রভাব বিস্তার করে, সরকারগুলোকে অবশ্যই সেসব বিষয়ে পলিসি ও করণীয় ঠিক করতে হবে।  গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কোভিড-১৯-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। পক্ষপাত এড়িয়ে সাংবাদিকদের নির্ভুলভাবে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে, বিভিন্ন প্রপাগান্ডা-প্রচারণা ও সরকারি বৈষম্য খতিয়ে দেখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে এসব ক্ষেত্রে যথাযথ সংশোধন ও প্রত্যুত্তরের অধিকার রয়েছে।

অন্যান্য মৌলিক মানবাধিকারের পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় আইনগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।  কোভিড-১৯-এর মতো জনস্বাস্থ্য সংকট চলাকালে তথ্যের অবাধ প্রবাহ সংকটপূর্ণ হয়ে পড়ে। ভাইরাসঘটিত ‘এপিডেমিক’ ও ‘প্যানডেমিক’ নিজেদের প্রকৃতিগত কারণেই সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আঞ্চলিক, জাতীয় বা বৈশ্বিক স্তরে বিশাল জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে। রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ কোনও ভাইরাসের বিস্তার এবং বাস্তব সময়ে নতুন ‘হটস্পট’গুলোর উত্থানকে ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে  না।  বরং ‘এপিডেমিক’ ও ‘প্যানডেমিক’ মোকাবিলায় কার্যকর জনস্বাস্থ্য উপাদানগুলো নির্ভর করে সাধারণ জনগণের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদনের ওপর। সাংবাদিক, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও একটি ভাইরাসের বিস্তার শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  একই সময়ে ব্যক্তিবিশেষ, চিকিৎসক এবং মহামারি বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক এবং হালনাগাদ তথ্য না পেলে কার্যকরভাবে নিজেদের এবং অন্যদের সুরক্ষা দিতে পারবেন না। সরকারিভাবে অস্বীকার ও তথ্য অবরোধ মহামারির বিস্তারে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।   

ভাইরাসঘটিত ‘এপিডেমিক’ ও ‘প্যানডেমিক’-এর মতো জনস্বাস্থ্য সংকটগুলো প্রায়শই নীতিনির্ধারকদের কার্যকলাপকে বিশেষভাবে নজরে আনে। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময় জনমনের শঙ্কা ও হতাশাগুলো বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় নীতি ও কর্মকর্তাদের ভূমিকার যৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন, উভয় প্রকার সমালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।  সরকারি সংস্থাসমূহের সমালোচনা দমন করার রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের কমিটি (সিইএসসিআর) জোর দিয়ে বলেছে, তথ্যে প্রবেশগম্যতা স্বাস্থ্যের অধিকারের একটি মূল উপাদান। যখন রাষ্ট্রগুলো স্বাস্থ্য বিষয়ক ভাষ্যসমূহ আটকে দেয় অথবা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যসমূহ পেতে বাধা দেয় এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য স্বতপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ না করে, তখন জনগণ বিরূপ স্বাস্থ্য প্রভাবের সম্মুখীন হন এবং স্বাস্থ্যের অধিকার পুরোপুরি ভোগ করতে পারেন না।

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত কমিটি স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সেন্সর করা বা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক আলাপ বা উদ্যোগে জনসাধারণের অংশগ্রহণ রোধে অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে।  কোভিড-১৯-এর মতো একটি মহামারির প্রাদুর্ভাবের ব্যাপারে  ‘পাবলিক রিপোর্টিং’ দমনের অভিপ্রায় এর তদারকি ও প্রতিকার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে। বিপরীতে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা এটা নিশ্চিত করে যে জনসাধারণ, সাংবাদিক এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দ্বারা সংগৃহীত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য প্রধান স্টেকহোল্ডারদের কাছে পৌঁছায়। স্বাস্থ্যের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ দূতও (স্পেশাল এনভয়)  জনস্বাস্থ্য নীতিতে স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা, নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহি এবং নিজস্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তথ্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। অনুরূপভাবে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত কমিটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের ইচ্ছাকৃত রোধ বা ভুল উপস্থাপনের নিন্দা করেছে।

ভুল তথ্য একটি ভাইরাসঘটিত মহামারি বা অন্যান্য জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।  কোভিড-১৯ যখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, বিশ্বজুড়ে মানুষ তখন নানান বানানো গল্প থেকে সত্য উদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত।  কেউ কেউ বিশ্বাস বা প্রথাকে আঁকড়ে ধরেছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর বদলে আরও গভীরতর করেছে। ভুল তথ্যের হুমকিকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারগুলোর অবস্থান সঠিক। বিভিন্ন মিথ ছড়ানো কার্যকরভাবে রুখতে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত তথ্যের প্রচারণা মোকাবিলা করতে তাদের উচিত পলিসি তৈরি করা। ভুল তথ্য কেবল জনস্বাস্থ্য প্রচেষ্টাকেই ব্যাহত করে না; এটি অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকেও ধাবিত করতে পারে।  ভুল তথ্য হুমকির পরিস্থিতি তৈরি করলেও সংশ্লিষ্ট ‘ধারণাকৃত’ ভুল তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আরোপিত যে কোনও বিধিনিষেধ অবশ্যই আইনি বৈধতা, ন্যায্যতা, প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিকতা অনুযায়ী হতে হবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনকারী ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে কিছু রাষ্ট্র নিজেরাই বিকৃত তথ্য ছড়িয়েছে ও প্রচারণা চালিয়েছে।  জনস্বাস্থ্য সংকটের সময় সরকারি কর্মসূচিগুলো এবং পলিসিসমূহ নিবিড়ভাবে যাচাই করা হয় এবং প্রায়শই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘটনার ‘প্রতিবেদন/সংবাদ’ নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে ‘ধারণা নির্মাণ’ করার একটি প্ররোচনা কাজ করে।  এমনকি কিছু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভাইরাসের বিস্তার গোপন করা বা রাজনৈতিক লাভের জন্য মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে।  রাষ্ট্রীয় মদতে প্রচারিত ভুল তথ্য খুবই বিপজ্জনক।  এটি রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহের ওপরে থাকা মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং সরকারি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ায়।  এরপরও সরকার, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ নাগরিকরা  দ্বিমত পোষণ করেন এমন মতের নিন্দা এবং নির্দিষ্ট ধরনের মত প্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের জন্য এটা ব্যবহার করে থাকেন।

কোভিড-১৯-এর মতো জনস্বাস্থ্য সংকটের প্রাদুর্ভাবকালে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য সরবরাহে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।  মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম যেকোনও মহামারির সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াগুলো কী তা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।  আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগৃহীত প্রধান বার্তাগুলো নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য স্টেহোল্ডারের কাছে পুনরায় পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করতে পারে। অবশ্য এটাও ঠিক যে সাংবাদিকরাও মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ পেশাগত মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।  ভুল প্রতিবেদন অথবা ঘটনার উপস্থাপনে বৈষম্যমূলক ‘প্রতিবেদন/সংবাদ’ তৈরি পেশাগত মান ক্ষুণ্ন করে।  সাংবাদিকদের ওপর খড়গহস্ত হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলো কোভিড-১৯ মোকাবিলায় তাদের নিজস্ব সক্ষমতাকেই খাটো করছে।

সহজ যোগাযোগ, তথ্য প্রচার ও মত আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো প্রতিনিয়ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবকালে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রবণতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, নানা গোষ্ঠী এবং ব্যক্তি নির্বিশেষে ভাইরাস সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রতি ঝুঁকছেন। অবশ্য অলাইনে পাওয়া বিচিত্র ও পরস্পরবিরোধী তথ্যে তারা বিভ্রান্তও হচ্ছেন।

সংকটের এই সময়ে সর্বজনীন তথ্য সুলভ করতে সরকারের উচিত তথ্য স্বাধীনতার আইন ব্যবহার করা। এরমধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ধরনের তথ্যের বাধ্যতামূলক প্রকাশ নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কাছে তথ্য চাইতে পারে। 

এটা গুরুত্বপূর্ণ যে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ নিশ্চিত করবে যে তারা ভুল তথ্য ছড়াবে না এবং সরকারগুলো উদ্দেশ্যমূলক প্রচার বা বিকৃত তথ্যের প্রচারণা থেকে বিরত থাকবে।

সরকারগুলোর উচিত সত্য তথ্য সরবরাহকারীদের উপযুক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তদুপরি, কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সরকারের অসদাচরণ এবং নীতিগত ব্যর্থতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে সুরক্ষাও দেওয়া প্রয়োজন।

লেখক: আঞ্চলিক পরিচালক, আর্টিকেল নাইনটিন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া

email: [email protected]

মন্তব্য