| প্রচ্ছদ

বগুড়ার শেরপুরে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ : এলাকা রণক্ষেত্র, আহত ২০

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ২১৮ বার। প্রকাশ: ১৪ মে ২০২০ ১৬:৪১:২৩ ।

বগুড়ার শেরপুরে রনক স্পিনিং মিল লিমিটেডের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ছয় রাউন্ডের মতো ফাঁকা গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ অন্তত বিশজন আহত হয়েছেন। তারা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সেসহ একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বুধবার (১৩মে) দিনগত রাত অনুমান ১১টা থেকে  বৃহস্পতিবার (১৪মে) দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের সীমাবাড়ী-রানীরহাট সড়কের শোলাকুড়ি এলাকায় অবস্থিত রনক স্পিনিং মিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই কারখানার দুই শ্রমিক শরীফুল ইসলাম ও আব্দুল মালেক পরিচয়পত্র কার্ড ছাড়াই বুধবার রাতের শিফটে কাজে যোগ দিতে কারখানায় যান। কিন্তু পরিচয়পত্র কার্ড ছাড়া ভেতরে যেতে না দেয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে অন্যান্য শ্রমিকরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পরে ওই দুই শ্রমিককে মারপিটের প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে কারখানা এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন। একইসঙ্গে বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য দাবি নিয়েও বিক্ষোভ করতে থাকেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। একপর্যায়ে কারখানার প্রধান ফটক ও অফিস ভাঙচুর করে আগুন দেয়ার চেষ্টা চালান তারা। আর খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। শুরু হয় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এভাবে রাতভর সংঘর্ষ চললেও সকালের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা আবারও সংঘটিত হয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন তারা। এমনকি তিন পুলিশ সদস্যকেও বেধড়ক মারপিট করে আহত করা হয়। এসময় পুলিশ লাটিচার্জ শুরু করলে আবারও সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের ওপর বৃষ্টিরমতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) মো. গাজীউর রহমান স্যারের মধ্যস্থতায় কারখানা মালিক পক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে সৃষ্ট ঘটনা ও শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পুর্ণ শান্ত ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির।

মন্তব্য