| প্রচ্ছদ

নওগাঁর মহাদেবপুরে মিলছে গোল্ডেন ক্রাউন (তরমুজ): করোনার প্রভাবে লোকসানের মুখে চাষি

নওগাঁ প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৬১ বার। প্রকাশ: ১৫ মে ২০২০ ১৭:২২:০৭ ।

হলুদ রঙগের তরমুজ। কেউ বলছেন ‘রক মেলন’। কেউ বলছেন গোল্ডেন ক্রাউন। তবে যাই হোকে, জৈষ্ঠের ক্ষরতাপে রসালো স্বাদ মিটাতে এই ফলের জুড়ি নেই। রসে ভরা নতুন জাতের এই তরমুজ চাষ হচ্ছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে। হোসেনপুর গ্রামের চাষি আব্দুল খালেক নিজ উদ্যোগে এই তরমুজের চাষ করেছেন। গাছ ভরে ফলনও এসেছে। গত বছর ২ লাখ টাকার এই মিষ্ট ফল বিক্রি করে  লাভবান হলেও এবার করোনার প্রভাবে এখনো আশানুরুপ ফল বিক্রি করতে পারেননি তিনি।
চাষি আব্দুল খালেক জানান, ২০১৯ সালে দিনাজপুর জেলার স্থানীয় এক কৃষকের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করেন। এরপর নিজের ১০ কাঠা জমিতে চাষ শুরু করেন। সে বছর প্রায় ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছিলেন। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা দরে।
চাষি আব্দুল খালেক বলেন- স্বল্প মেয়াদি এই ফল সারা বছর উৎপাদন হয়। তাই বছরে কয়েকবার চাষ করা যায়। পরিপক্ক ফলের বাইরের রঙ হলুদ হলেও ভেতরে লাল। খেতে অন্যান্য জাতের তরমুজের মতই রসালো, সুস্বাদু ও মিষ্টি। বীজ বোপনের মাত্র ৪০ থেকে ৫০  দিনেই গাছে ফল ধরে। পরিপক্ক হতে সময় লাগে ২০ দিন। ওজন হয় ৩ থেকে সাড়ে ৪ কেজি পর্যন্ত। বীজ বোপনের দিন থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই ফলন বিক্রি শুরু করা যায়। মাচায় চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়। 
স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষি খালেক নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। হলুদ তরমুজের পাশাপাশি খালেক এবার আরো ১০ কাঠা জমিতে একই জাতের কালো রঙগের তরমুজ চাষ করেছেন। সেগুলোতে ফুল ও ফলন আসতে শুরু করেছে।
হলুদ তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন চাষি আব্দুল খালেক। কিন্তু কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া  করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চলমান লকডাউনে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তরমুজের বাজার দর পড়ে যাওয়ায় লোকসানের শংকায় তিনি। তবে পরিস্থিতি অল্পদিনেই স্বাভাবিক হয়ে আসলে এবারো তিনি লাভবান হবেন আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, রকমেলন বা গোল্ডেন ক্রাউন সম্ভবত সবচেয়ে বেশী চাষ হয় আফ্রিকায়। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের দিনাজপুর, নওগাঁ, রাজশাহীসহ বেশ কিছু জেলায় সামান্ন আকারে চাষ শুরু হয়েছে। বাজারে অন্য তরমুজের চেয়ে  চাহিদা বেশী থাকায় চাষিরা এই ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুন চন্দ্র রায় জানান, চাষি আব্দুল খালেকের সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক চাষিই গোল্ডেন ক্রাউন বা রকমেলন চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তাই আগামীতে এই ফলের চাষ ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগ কাজ শুরু করেছে।

মন্তব্য