| প্রচ্ছদ

শিক্ষা-গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে বগুড়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৬৫ বার। প্রকাশ: ২০ মে ২০২০ ১৭:৫১:১৮ ।

জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে ২৫ শতাংশ বরাদ্দ, স্বাস্থ্য ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির এবং করোনা দুর্যোগকালীন তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে শহরের সাতমাথায় এই কর্মসূচি পালন করেছে জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাংগাঠনিক সম্পাদক মুক্তা আক্তার মীম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বগুড়া জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, সদস্য মাসুদ পারভেজ, রাধা রানী বর্মন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল বর্মন, জেলা অর্থ সম্পাদক নিয়তি সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারীতে দেশ এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। শ্রমজীবী মানুষেরা ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ফলে তাদের আয়ের সমস্থ পথ বন্ধ। অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। তারা পরিবারের খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ রকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে আগীম মাসে আমাদের দেশের জাতীয় বাজেট পেশ হবে। অথচ এই বাজেট পেশ হওয়ার সাথে সাথে যাদের জীবনযাত্রার উপর প্রভাব পড়বে, তাদের সাথে কোনো আলোচনা না করে বাজেট পেশ করা হবে। দেশের চিকিৎসা খাতের বাজেট কী হবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তা জানে না। শিক্ষা ও গবেষণায় কী হবে  ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ তা জানে না৷ দেশের মানবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তি রূপান্তর করতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির কোনো  বিপল্প নেই।

বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নিতির জন্য প্রয়োজন অর্থ বরাদ্দ। ইউনোস্কর সুপারিশ অনুয়ায়ী একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা প্রয়োজন৷ আমাদের দেশের মত দেশে এটা আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন। অথচ স্বাধীনতার পর সকল বাজেটে আমরা দেখছি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব না দিয়ে অনউৎপাদন শীলখাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তাই দেশের উন্নয়নে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য ও গবেষনা বরাদ্দ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

নারী নেত্রী রাধা রানী বর্মন বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার সংক্রমণ রোধ করতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ আমরা জানতে পেরেছি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন-ফি প্রতিষ্ঠানে জমা দেবার নোটিশ জারি করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন এমন সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পরিবার কর্মজীবী। তাদের হাত চললে পেট চলে। করোনা পরিস্থিতিতে আজ তারা চরম আর্থিক সংকটে দিশেহারা হয়ে দিনাতিপাত করছে৷ তার উপর যদি ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজের বেতন ফি দিতে হয়, তাহলে অনেক অভিভাবক ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হবে৷ এই বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মানববন্ধনে তারা ৩ দফা বাস্তবায়ন করতে সরকারের নিকট জোর দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, জাতীয় বাজেটে ২৫ ভাগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা, স্বাস্থ্য ও গবেষনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাসা-মেস ভাড়া মওকুফে প্রজ্ঞাপন ও রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ দিতে হবে। আর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ বছরের বেতন-ফি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করতে হবে। এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে বুধবার মানববন্ধন শেষে বগুড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মন্তব্য