| প্রচ্ছদ

লালার নমুনা সংগ্রহে ত্রুটি

বিএসএমএমইউকে অ্যান্টিজেন কিটের পরীক্ষা বন্ধ রাখতে গণস্বাস্থ্যের চিঠি

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে বার। প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ ১৯:০৪:২৪ ।

গনস্বাস্থ্যের অ্যান্টিজেন কিটে ত্রুটি রয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে কিট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার গণস্বাস্থ্যের জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার গণমাধ্যমকে জানান "কিটে নয় বরং অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ'র নমুনা (লালা) সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি রয়েছে।"
দেশ রুপান্তরের খবরে বলা হয়েছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতার পরীক্ষা চলছে বিএসএমএমইউতে। এর মধ্যে অ্যান্টিবডি কিটের পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে অ্যান্টিজেন কিটের নমুনা (লালা) সংগ্রহে ত্রুটি থাকায় আপাতত বিএসএমএমইউ'কে পরীক্ষা বন্ধ রাখতে চিঠি দিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের উদ্ভাবক বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বলেন, আমাদের উদ্ভাবিত কিটে কোনো ত্রুটি নেই। অ্যান্টিজেন কিটে পরীক্ষা করা হয় লালা থেকে। লালা সংগ্রহের সময় লালার সঙ্গে যদি কফ বা থুথু থেকে যায়, তবে এই কিটের পরীক্ষায় ফলাফল সঠিক নাও আসতে পারে। আমরা দেখলাম বিএসএমএমইউ লালার যে নমুনা সংগ্রহ করছে, তার সঙ্গে কফ বা থুথু চলে এসেছে। ফলে অ্যান্টিজেন কিটের পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে আমরা বিএসএমএমইউ-কে চিঠি দিয়ে অ্যান্টিজেন কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছি।
তিনি গণমাধ্যমকে আরও বলেন, 'ইতিমধ্যেই আমরা লালা সংগ্রহের একটি সহজ ও সার্বজনীন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। কটনবাডের মতো একটি জিনিস তৈরি করেছি। যা মুখের ভেতরে আধা মিনিট থেকে এক মিনিট রাখলে, লালা চুষে নিবে। কটনবাডের সঙ্গে শুধু লালা লেগে থাকবে, কফ বা থুথু থাকবে না। এখন এটা আমরা পরীক্ষা করছি। তারপর বিএসএমএমইউকে নমুনা সংগ্রহের জন্য এটি সরবরাহ করতে পারবো। তখন তারা আবার অ্যান্টিজেন কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু করতে পারবেন।’
বিএসএমএমইউকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়,‘...অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটের নমুনা (লালা) যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংগ্রহে অসামঞ্জস্যতা পাওয়ায় সঠিক ফলাফল নির্ণয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন শনাক্তকরণের জন্য লালার নমুনায় যথাযথ উপকরণ থাকছে না বা অন্য বস্তুর মিশ্রণ লক্ষণীয়। সম্মিলিত মনিটরিং টিম এই সমস্যাটি চিহ্নিত করেছে। গণস্বাস্থ্য আরএনএ বায়োটেক টেকনিক্যাল টিম এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তাদের আরঅ্যান্ডডি ল্যাবে সুনির্দিষ্টভাবে সর্বোপরি ব্যবহারযোগ্য লালা সংগ্রহ পদ্ধতি প্রয়োগের কাজ শুরু করেছে। যা শিগগিরই আমরা আপনাদেরকে জানাতে পারবো বলে আশা করছি। এতে কয়েকদিন সময় লেগে যাবে। এমন অবস্থায় আমাদের লালা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটটির পরীক্ষা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।'

পুণ্ড্রকথা/জাআ

মন্তব্য