| প্রচ্ছদ

মুখে বিস্ফোরনের ক্ষত নিয়ে তিনদিন পানিতে দাঁড়িয়ে থেকে মারা গেল অন্তঃস্বত্ত্বা হাতি

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে বার। প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ ২১:৪৭:৫৫ ।

বিস্ফোরনে ক্ষতবিক্ষত চোয়াল নিয়ে তিন দিন পানিতে দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে অন্তঃস্বত্ত্বা এক হাতি। ভারতের সাইলেন্ট ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের (এসএনভিপি) ভেতর ক্ষুধার্ত এক হাতিকে আনারস খেতে দিয়েছিল বন্যপ্রাণী শিকারীরা। আনারসের মধ্যে বিস্ফোরন (বাজি) ঠাসা ছিল। চিবানোর সময় মুখের ভেতর ফেটে গিয়ে হাতির চোয়াল ও দাঁত ভেঙ্গে যায়। মানুষের চরম নিষ্ঠুরতায় অব্যক্ত এক যন্ত্রণা নিয়ে তিন দিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অবলা প্রাণীটি।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছে হাতিটি। মুখ দিয়ে কিছুই খেতে পারছিল না। শেষে ভেলিয়ার নদীতে নেমে মুখ ও শুর ডুবিয়ে রেখেছিল। সম্ভবত পানি খেয়ে কিছুটা আরাম পাচ্ছিলো সে। নদীতে দাঁড়ানো অবস্থাতেই তিন দিন পর মারা যায় হাতিটি।   
দ্য হিন্দু পত্রিকা জানিয়েছে, কেরালার ওই পার্কের ভেতরে আনারসের মধ্যে বিস্ফোরক ভরে হাতিটিকে খেতে দেয়া হয়েছিল। এতে ফল চিবানোর সময়ই মুখের ভেতরেই বিস্ফোরণ ঘটে।  

বনবিভাগ ২৫মে ঘটনাটি জানতে পারে। উদ্ধারের চেষ্টাও চালায়। কিন্তু পানি থেকে কিছুতেই সরানো যাচ্ছিল না হাতিটিকে।
এমন নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে হাতিটির মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। নেটিজেনরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, হাতিটি মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে হাতিটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল।
পালাক্কাড় এলাকার সাইলেন্ট ভ্যালি নাশনাল পার্কের বন্যপ্রাণী বিভাগের ওয়ার্ডেন স্যামুয়েল ওয়াচা জানিয়েছেন, হাতিটিকে হত্যার ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

পুণ্ড্রকথা/জাআ

মন্তব্য