| প্রচ্ছদ

ইন্টারনেটে প্রেম

বিয়ে করতে পাকিস্তানের পথে বাংলাদেশি যুবক: সীমান্তে আটক

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে বার। প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ ২৩:১৮:৩৯ ।

সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে প্রেমিকার কাছে পৌঁছানোর স্বপ্ন শেষমেষ পুরণ হলো না শরীয়তপুরের নয়ন মিয়ার। পাকিস্তানী এক তরুণীর সাথে ইন্টারনেটে গড়ে ওঠে গভীর প্রেম। ওই মেয়ের আহ্বানে বৈধ কাগজ-পত্র ছাড়াই নয়ন বেড়িয়ে পরে করাচীর পথে। প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলেন তিনি। পথিমধ্যে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যবর্তী ওয়াগা সীমান্তে বিএসএফ'র কাছে আটক হন এই প্রেমিক যুবক।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, পাকিস্তানি ওই তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন বাংলাদেশি যুবক নয়ন মিয়া আবদুল্লাহ। দিন দিন সম্পর্ক গাঢ় হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পাক তরুণী নয়ন মিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং এর জন্য করাচি আসতে বলেন। এতেই প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিতে ভিসা, পাসপোর্ট ছাড়াই অন্ধের মত পাকিস্তানের পথে রওনা দেন নয়ন মিয়া।
কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার অভিযোগে নয়ন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে বিএসএফ। তাকে তুলে দেয়া হয় পাঞ্জাব পুলিশের হাতে।
নয়ন মিয়ার বাড়ি শরীয়তপুরের বেপারিপাড়া গ্রামে। পোস্ট গ্রাজুয়েশনে পড়াশোনা করেন তিনি।
পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন মিয়া জানান, ছয় মাস আগে করাচির এক তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাশোনা হয় তার। দু’জনে সবসময়ই ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলতেন। 
সম্প্রতি ওই যুবতী তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু শর্ত একটাই, তাকে করাচিতে যেতে হবে। শুনে পেছন ফিরে তাকাননি নয়ন। ভুলে যান সীমান্তের বেরিকেড। ঝুঁকি নিয়ে প্রথমে কলকাতা পৌঁছেন, সেখান থেকে অমৃতসরে। প্রায় ১৫ দিন আগে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যবর্তী ওয়াগা সীমান্তে পৌঁছার পর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন নয়ন। ওই সীমান্ত পেরোতে পারলেই প্রেমিকার কাছে পৌঁছে যেতে পারতেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে পাঞ্জাব পুলিশ একটি মামলা করেছে। অমৃতসরের পুলিশ কর্মকর্তা সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট বিক্রমজিৎ সিং বলেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সম্পর্কে জানানো হবে বাংলাদেশি দূতাবাসকে।

পুণ্ড্রকথা/জাআ

মন্তব্য