| প্রচ্ছদ

ঈদের কেনাকাটা: চয়েস আর বাজেটের সমন্বয় করেছে ‘ফিটফাট’

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট:
পঠিত হয়েছে ১৪৯১ বার। প্রকাশ: ০৬ জুন ২০১৮ । আপডেট: ০৬ জুন ২০১৮ ।

ঈদের কেনা-কাটায় ‘চয়েস’ আর ‘বাজেট’ বড় ফ্যাক্টর। মার্কেটে গেলে ড্রেস পছন্দ হয় তো বাজেটে কুলায় না। আবার অনেক ড্রেসের দাম বাজেটের মধ্যে থাকলেও সেগুলো চয়েস হয় না। তাই একটি ড্রেস কেনার জন্য দশটি দোকান, শো-রুম কিংবা চার-পাঁচটি মার্কেটও ঘুরতে হয়। সারাদিন রোজা থেকে ইফতারির পর চয়েস আর বাজেটের সমন্বয় করতে এমন ছোটাছুটি কার ভাল লাগে বলেন! ঈদের কেনাকাটার চয়েস আর বাজেটের এমন বিরক্তিকর টানাটানি সকলকে বিশেষত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেই যে বেশি যন্ত্রণা দেয় সেটা কম-বেশি সবারই জানা। তো চয়েস আর বাজেট নিয়ে যাতে বিরক্তির অবস্থার মধ্যে পড়তে না হয় সেজন্য অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘পুণ্ড্রকথা’ কিছু আইডিয়া সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চায়।ড্রেস চয়েসের ক্ষেত্রে প্রথমেই মনোযোগ দেওয়া উচিত লেটেস্ট ট্রেন্ড অর্থাৎ যেটার প্রচলন বেশি সেগুলোর দিকে। চয়েসের ক্ষেত্রে বয়সটাও বিবেচনা করেন অনেকে। তবে ‘এই বয়সে এমন পোষাক পড়লে মানুষ কি বলবে’- এমন ভাবনা থেকে অনেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। সেটা করার আগে ভাবুন আনার বয়স যদি ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হয় তাহলে আপনি নিজেকে তরুণ ভাবতে পারেন। কারণ ফ্যাশনের গ্রামারই আপনাকে সেটা ভাবতে বলছে। এরপর দেখুন বাজেটের দিকে। এভাবে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এবার ঈদে আপনার চয়েস অনুযায়ী ড্রেস কেনার নিশ্চয়তা দিতে চায় ফ্যাশন হাউস ‘ফিটফাট’।

পাঞ্জাবি: গত কয়েক বছর তরুণরা শর্ট ও সেমি লং পাঞ্জাবী পড়লেও এবারের ট্রেন্ড প্রিন্টেড লং পাঞ্জাবী। তার সঙ্গে আলিগড়ি পাজামাও বেছে নিতে পারেন। এসব পাঞ্জাবী পাবেন ১ হাজার ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকায়। এর বাইরে কাবলি ড্রেসের প্রতি তারুণ্যের ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কাবলির ডিজাইনে একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার অনেক কুচি দেয়য়া পাটিয়ালি কাবলির প্রচলন বেশি। কাবলি পাঞ্জাবীর দাম ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা।
শার্ট: শার্টের ক্ষেত্রে চয়েসের শীর্ষে রয়েছে প্রিন্টেড কালার শার্ট। ব্লু, শেড, গ্রীণ শেড এবং ভাইব্রেন্ট-এর চাহিদা বেড়েছে। যেহেতু এখন গরমকাল চলছে তাই কটন ও রেমি কটনেই স্বাচ্ছন্দ পাবেন। দাম ১ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার এবং টি-শার্ট ও পোলো শার্ট ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় মিলবে।
প্যান্ট: প্যান্টের ক্ষেত্রে চলছে ডেনিম ও চিনো প্যান্টের প্রচলন বেশি। স্টিচ কাপড়ের ন্যারো  প্যান্টই তরুণরা পছন্দ করছেন। ব্র্যান্ডের ডেনিম প্যান্টের দাম পড়বে ১ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার এবং চিনো’র দাম পড়বে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা।
স্যাণ্ডেল: পাঞ্জাবী বা কাবলীর সঙ্গে নাগড়া বা চটি স্যান্ডেল পড়তে পারেন। আর প্যান্ট শার্টের সঙ্গে এবারও লোফারই বেশি প্রাধান্য পাবে।

তরুণীদের  ট্রেন্ড: তরুণীদের ড্রেস বলতেই আমরা ‘থ্রী পিস’ অর্থাৎ জামা, সালোয়ার এবং ওড়নাকেই বুঝি। কিন্তু এখন তার প্রচলন অনেক কমে গেছে। তার বদলে নতুন ডিজাইনের অনেক ড্রেস এসেছে বাজারে। এসবের মধ্যে ওয়েস্টার্ন ও ইন্ডিয়ান পোশাকের মিশেলে ‘এ’ কাটের লং কামিজ, ক্লক, লং টপস্ বেশি চলছে। এছাড়া ফ্লোর টাচ্ গাউনগুলোও তাদের পছন্দের তালিকাতে রয়েছে। টিনএজারদের জন্য রয়েছে টিউনিক টপস্, ফ্লোরাল মোটিফসহ সিম্পল কাটের ফতুয়া, কুর্তি বা কামিজ। আর যারা বোরকা পড়েন তারা ঈদে বোরকার বিকল্প হিসেবে তার্কিস ফ্যাশনের অ্যাবোয়া বা কাপ্তানকে বেছে নিতে পারেন। গরমের কারণে তরুণীরা শ্যামুজ কাপড় এবং ফ্ল্যাড লিলেন, লিলেন ফেব্রিক্স, ফ্ল্যাড কটন এবং প্রিন্টের জর্জেট কাপড় বেছে নিতে পারেন। কিছু কিছু পোশাকে জারডোগী (কারচুপি)’র কাজ রয়েছে। এসব পোশাকের সঙ্গে এবার ঈদে প্লাজো স্কাট এবং প্যান্ট চলবে বেশি। আর ওড়নার পরিবর্তে হিজাব, স্টোল (শর্ট ওড়না) ও কোটিকে বেছে নিতে পারেন। এবার ঈদে ইয়োলো, ব্লু, গ্রীন, সি-গ্রীন, মেজেন্ডা ও ব্ল্যাক কালার চলবে বেশি।

দামঃ  ফ্লোর টাচ গাউনের দাম পড়বে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৮ হাজার টাকা, লং কামিজ ১হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজর ৫০০।  টু-পিস এবং থ্রী-পিস ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা, টিউনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা, অ্যাবারা ১হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার এবং কাপ্তান ১হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ক্যাজুয়াল পোশাকের সাথে তরুণীরা বাছাই করতে পারেন সাধারণ স্যান্ডেল। তবে একটু উঁচু হিলও পছন্দ করতে পারেন।

ফিটফাট-এর হেড অব অপারেশন্স হিল্লোল তৌহিদ জানান, ঈদের ড্রেস মানেই স্পেশাল কিছু। তাই ড্রেসগুলোকে স্পেশাল করেই ডিজাইন করা হয়েছে। ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়ালেখা করা বগুড়ার এ তরুণ ইতিপূর্বে দেশি-বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজও করেছেন। তবে নিজ জেলার মানুষের হাতে স্বল্প দামে ভাল কিছু তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তিনি বগুড়ায় চালু করেছেন ফ্যাশন হাউস ‘ফিটফাট’। বগুড়ায় আপাতত ফিটফাটের দু’টি শো-রুম খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বড়দের ড্রেসগুলো মিলবে জলেশ্বরীতলায় আর ছোটদের কেনাকাটার ব্যবস্থা রয়েছে রানার প্লাজায়।

মন্তব্য