| প্রচ্ছদ

ঈদের কেনা-কাটা: রুচি আর ঐতিহ্য বোঝে ‘সুকন্যা’

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট:
পঠিত হয়েছে ১০৪৯ বার। প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৮ । আপডেট: ০৯ জুন ২০১৮ ।

ফ্যাশন কার না পছন্দ! পোশাক জুড়ে বাহারী নকশা আর রঙের খেলা, যেনো সময়কেই করে তোলে; ভীষণরকম রঙিন। আর উৎসব হলে তো কথাই নেই। তাইতো ঈদ সামনে রেখে নতুন কালেকশন বাজারে এনেছে বগুড়া শহরের অভিজাত এলাকা হিসেবে খ্যাত জলেশ্বরীতলার সব ফ্যাশন হাউসগুলো।
যারা বিশেষ করে নারীরা এখনও ঈদের পোশাক কেনেননি বা তৈরি করেননি তাদের জন্য কেনাকাটার সবচে সুবিধাজনক জায়গা হলো শহরের জলেশ্বরীতলার ফ্যাশন-হাউস কিংবা বুটিক সেন্টার। ওই এলাকার অধিকাংশ বিপণীবিতানেই তৈরি পোশাক বিক্রি হয়। কিছু কিছু ফ্যাশন হাউস আনস্টিচ পোশাকও রাখেন। কোন কোন ফ্যাশন হাউস তাদের খদ্দেরদের সুবিধার কথা মাথায় ফ্যাশন হাউসের সঙ্গেই দর্জির দোকানও করেছেন। যেন গ্রাহকদের আনস্টিচ পোশাক কেনার পর পোশাকটি তৈরি নিয়ে গ্রাহকদের ঝামেলায় পড়তে না হয়। সেজন্য অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘পুণ্ড্রকথা’ কিছু আইডিয়া সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চায়।

ঈদের মাত্র আর ক’টা দিন বাকি আছে। মার্কেটের দর্জির দোকানগুলো ইতোমধ্যে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাই তাদের কথা মাথায় রেখে জলেশ্বরীতলার ‘সুকন্যা ফ্যাশন হাউস’ যেমন কিশোরী ও তরুণীদের জন্য চোখ ধাঁধাঁনো সব পোশাক এনেছে। পাশাপাশি যারা শাড়ি পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে হাল ফ্যাশনের বাহারি শাড়ি।এবার ঈদে কিশোরী ও তরুণীদের জন্য ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে চলছে ক্লপ টপ গাউন। এই গাউনের বিশেষত্ব তার ঘের ও শোল্ডার। দুটি শোল্ডার এবার চলছে। কোল্ড শোল্ডার গাউন ও অফ শোল্ডার গাউন। টিন এজাররাই এই পোশাকটি পছন্দ করছে বেশি। জর্জেট, সিল্ক, নেট, এবং শার্টিনের উপর বিভিন্ন সিক্যুয়েন্সের কাজ করা এই গাউনগুলো তৈরি করা হয়েছে। এই পোশাকগুলি দিল্লী, বোম্বে ও কোলকাতার তৈরি। দাম রাখা হচ্ছে ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা। মিতু বলেন শুধু যে কিশোরীরাই নয়, তরুণী, বিববাহিতা নারীরাও এই পোশাকটি কিনছেন। ত্রিশের নিচে যাদের বয়স তারাই এই পোশাকগুলো মূল ক্রেতা। এছাড়া আনস্টিচ থ্রীপিসও বেশ চলছে। তবে ফ্যাশন হাউসগুলোর ক্রেতারা ভারতীয় ও পাকিস্তানী থ্রীপিস বেশি পছন্দ করেন। তবে এবার দিল্লী বুটিকস্ ও জেনামের জর্জেট থ্রীপিস, বিশালের সিল্ক, ইস্তা, বেবেক, জয়-বিজয়, গঙ্গা, জেনাম ও  ভীর পেপার কটন থ্রীপিসও সমান তালে চলছে। এছাড়া পাকিস্তানী ক্যাটালগ থ্রীপিস মারিয়াম মারী, নারায়ন জি, আউস, আদনান, ফেরদৌস ও সানা সাফিনা থ্রীপিসের কদরও রয়েছে বেশ। কারণ এবার ঈদে যেমন কড়া রোদের সম্ভবনা রয়েছে তেমন বৃষ্টির রয়েছে। তাই গ্রাহকরা এই দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই ঈদের পোশাক কিনছেন। এসব থ্রীপিসের মূল্য পড়ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ঈদের দিন যারা শাড়ি পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য এবার সুকন্যা ফ্যাশন হাউস ট্রাডিশনাল শাড়ির পাশাপাশি বাহারী বেশ কিছু শাড়ি এনেছে। তবে দাম ও পছন্দ দুটোই হাতের মধ্য থাকায় তরুণীরা বেশি পছন্দ করছেন বেলা সিল্কের ক্যাটালগ শাড়ি। বেলা সিল্কের দাম পড়ছে মাত্র ৪ হাজার টাকা। এছাড়া এক রঙের জমিনের সঙ্গে আঁচল ও কাতান পারের ক্যাটালগ শাড়িও এবার খুব চলছে। এই শাড়িরও দামটা মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যেই । মাত্র ৪ হাজার ৩শ’ টাকা। এছাড়া যারা একটু বেশি দাম দিয়ে কেনার সামর্থ রাখেন তাদের জন্য এবার এসেছে দক্ষিণ ভারতীয় জোড়া সিল্ক, পাকিস্তানী কামদানী জর্জেট শাড়ি। ম্যাট গোল্ডেন রঙের জোড়া সিল্কের দাম রাখা হচ্ছে ১৩ হাজার ৫শ’ টাকা আর পিওর জর্জেটের উপর মেটালের কাজ করা কামদানী জর্জেটের দাম পড়ছে ৭ হাজার টাকা। যারা একটু ট্রাডিশনাল কিন্তু দামী শাড়ি পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই ফ্যাশন হাউস এনেছে পিওর সিল্কের উপর পুঁথি, মতি ও সুতার কাজ করা ব্যাঙালোরের কাতান। যার দাম পড়ছে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া তো রয়েছেই সেই আদি কানজি ভরম, কানজি পুরান, চুনরি কাতাস, কাতান মিনাকারি, পিওর সিল্ক তো রয়েছেই। এসব শাড়ির দাম পড়ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর ঈদের সকালে পাট ভাঙা শাড়ি ছাড়া যাদের চলে না তাদের জন্য রয়েছে ইন্ডিয়ান রাজগুরু কটন ও আমাদের দেশীয় তাঁতের শাড়ি। এসব শাড়ি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে।এখন সময়ই না কি জমকালো ও গর্জিয়াস ওড়না পরার। জামা-সালোয়ার যত কম দামই হোক না কেন তার সাথে যদি একটি দামি ওড়না থাকে তবে সব মিলে মনে হয় বেশ দামি পোশাক। তাই যারা ওড়নাটি গর্জিয়াস পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে কাতান ও কাঁথা স্টিচের ওড়না। এক রঙা কাপড়ের উপর হাতে করা কাঁথা সেলাই ও পাট্টা বসানো হয়েছে কাঁথা স্টিচের ওড়নায়। এই ওড়নার দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২ টাকা। আর কাঁতান শাড়ির মতই দেখতে কাঁতান ওড়নার দাম পড়ছে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা।

সুকন্যা ফ্যাশন হাউসের সত্ত্বাধিকারী ইশরাত জাহান মিতু বলেন, ঈদ মানেই বিশেষ কিছু, জমকালো কিছু। যার যেমন সামর্থ্য আছে তা দিয়েই ঈদকে বিশেষ করে তুলতে সবারই আয়োজন থাকে। তাদের কথা ভেবেই ঈদের জন্য ফ্যাশন হাউসে বিশেষ ও দামি দামি কিছু পোশাক আনা হয়। আর এই এলাকার ক্রেতারা কিন্তু বেশির ভাগই শহরের এবং মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত শ্রেণীর । তাই তারা ঈদের পোশাক সব সময়ই মান সম্মত দামি পোশাকই খোঁজেন। তাদের জন্যই দামি পোশাকগুলো রাখা হয়। এছাড়া মধ্যবিত্তরাও এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। নিউ মার্কেটে যেমন একটা সময়ের পর ভীড় কমে যায় কারণ সেখানে মেয়েদের বেশির ভাগ পোশাকগুলি হয় আসস্টিচ। আর মার্কেটের দর্জিরা সাধারণত ১৫ বা ২০ রোজার পর আর অর্ডার নেন না। আর ফ্যাশন হাউসগুলোর সাথে যে দর্জির দোকানগুলো রয়েছে তারা ঈদের ৫ দিন আগে পর্যন্তও অর্ডার নেন। তাই ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ফ্যাশন-হাউসগুলোর বেচাকেনা ভালো চলে।

মন্তব্য