| প্রচ্ছদ

২০১৮ সাল মাতানো যত সিনেমা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১৪৭ বার

ঢাকাই সিনেমার এই বছরের শুরুটা ভালো ছিল না। এই মন্দা কাটতে সময় লেগেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় বড় বাজেটের দুটি ছবি। একটি ঢালিউড সেরা শাকিব খানের ‘আমি নেতা হবো’, অন্যটি যৌথ প্রযোজনার ‘নূর জাহান’।

দুটি ছবিই মুখ থুবড়ে পড়েছিলো। দর্শক টানতে ব্যার্থ হয়নি। মন্দার হতাশা কাটানোর আশায় গুড়ে বালি পড়ে। এরপর কয়েক সপ্তাহ ছিল নতুন সিনেমার খরা।

বছর শেষে হিসেব করে দেখা যায়, সব মিলিয়ে ৫৮টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। তারমধ্যে ব্যবসা করতে পেরেছে ৩-৪টি ছবি। আর কিছু ছবি সেই অর্থে ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও সিনেপ্লেক্সের কল্যাণে বেশ আশা জাগানিয়া ফল ঘরে তুলেছে।

বছর মাতানো এমন কিছু ছবি নিয়ে এই প্রতিবেদন-

পোড়ামন ২
এই বছরের সবচেয়ে সফল ছবি ছিল রায়হান রাফি পরিচালিত ‘পোড়ামন ২’। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবিটি দিয়ে সিনেমার নায়ক হয়ে অভিষিক্ত হন সিয়াম আহমেদ। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে হাজির হন আরেক নতুন মুখ পূজা চেরী। প্রথম ছবিতেই সফল হয় এই জুটি।

দেশজুড়ে হলগুলোতে দর্শক উপচে পড়ে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ছবিটি দেখতে। টানা ৪-৫ সপ্তাহ ধরেই ‘পোড়ামন ২’ ছিলো আলোচনায়।

ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দাবি, ব্যবসায়িকভাবে সুপারহিট ‘পোড়ামন ২’। এই ছবিতে প্রায়াত নায়ক সালমান শাহর একজন ভক্ত সুজন শাহের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম।

অন্যদিকে একই গ্রামের ধনীর দুলালি পরির চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি। এই সূজন আর পরির প্রেম কাহিনী নিয়েই নির্মিত ছবিটি।

সুপারহিরো
এই বছরে ঈদুল ফিতরের ছবি হিসেবে মুক্তি পেয়েছিন শাকিব-বুবলী অভিনীত ‘সুপার হিরো’। ঈদের সেরা ছবির তালিকায় ছিল এই ছবিটি। বছরের সেরা ছবির তালিকাতেও এগিয়ে এটি।

আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘সুপার হিরো’ ছবিটি সারাদেশে ৭৪টির মতো হলে মুক্তি পেয়েছিলো। দারুণ ব্যবসা করেছে ছবিটি। ‘পোড়ামন ২’র পরেই ব্যবসায়িক সাফল্যে অবস্থান হার্টবিট প্রোডাকশন প্রযোজিত এই ছবিটির।

ক্যাপ্টেন খান
কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এই বছরও ঈদুল আযহায় এগিয়ে ছিল শাকিব-বুবলী অভিনীত ‘ক্যাপ্টেন খান’। ১৭৫টি হলে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। ঈদের দিন থেকেই সিনেমা হলে ‘ক্যাপ্টেন খান’ দেখতে ভিড় করেছে দর্শক।

রোমান্স, অ্যাকশন, থ্রিলার সব কিছুর মিশেলে শাপলা মিডিয়ার প্রযোজনায় ছবিটি খুব ভালো সাফল্য পেয়েছে। এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নির্মাতা ওয়াজেদ আলী সুমন।

দেবী
অনম বিশ্বাস পরিচালিত এ বছরের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ছিল ‘দেবী’। সরকারি অনুদান ও জয়া আহনের প্রযোজনায় নির্মিত হয় ছবিটি। ১৯ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি মুক্তির দিন থেকেই সাড়া ফেলতে শুরু করে। ৎ

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী, রানু চরিত্রে অভিনয় করেন জয়া। এই ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সিনেমায় অভিষেক হয় শবনম ফারিয়ার।

প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও মন্দার বাজারে ‘দেবী’ একটি আশা জাগানিয়া ছবির নাম। দেশ মাতিয়ে বিদেশেও দর্শকদের মন জয় করে চলেছে ‘দেবী’।

দহন
নভেম্বর মাসের শেষে মুক্তি পায় সিয়াম-পূজা জুটির দ্বিতীয় ছবি ‘দহন’। টানা কয়েক সপ্তাহ জুড়ে হল মাতিয়েছে ছবিটি। অ্যাকশন, প্রেম, নোংরা রাজনীতি, সন্ত্রাসবাদ-এসব নিয়ে নির্মিত হয়েছে দহন।

শিগগিরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও মুক্তি পেতে যাচ্ছে দহন, জানান ছবির প্রযোজক আব্দুল আজিজ।

এ সিনেমায় সিয়ামকে একজন নেশাগ্রস্ত যুবক আর পূজাকে একজন পোশাককর্মীর চরিত্রে দেখা যায়। আর ছোটপর্দার অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম অভিনয় করেছেন একজন সাংবাদিকের চরিত্রে। দহন ছবির বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, তারিক আনাম খান, ফজলুর রহমান বাবু, রাজ রিপা, শিমুল খান, হারুন রশিদ, রাইসা, সুষমা প্রমুখ।

জান্নাত
এই বছর ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছিল ‘জান্নাত’ ছবিটি। ‘পোড়ামন’ সিনেমার সফল জুটি সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি অভিনয় করেন এই ছবিটিতে। বছরজুড়েই আলোচিত ছিলো ছবিটি। মুক্তির পর বেশ ভালোই সাড়া পায় দর্শকের।

মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত প্রথমে মুক্তি পায় মাত্র ৩৫টি সিনেমা হলে। দর্শকের আগ্রহের কারনে পরের সপ্তাহে বাড়ে হল সংখ্য। ছবিটির গল্প, নির্মাণশৈলী, শিল্পীদের অভিনয়, বিশেষ করে সাইমন-মাহির রসায়ন মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।

নায়ক
বছরের অক্টোবর মাসে ৭০টিরও বেশি হলে মুক্তি পায় বাপ্পি চৌধুরী-অধরা খান অভিনীত ‘নায়ক’ সিনেমাটি। বাপ্পির এই বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ছিল এটি। বাপ্পির নায়িকা ছিলেন নবাগত অধরা খান।

‘নায়ক’ সিনেমাটি পরিচালনা করেন ইস্পাহানি আরিফ জাহান। সিনেমাতে অধরার বোনোর চরিত্রে মৌসুমীর অভিনয় ছিল অনবদ্য। বাপ্পীর মায়ের চরিত্রে রেবেকাও ভালো অভিনয় করেছেন। আর বাবার চরিত্রে সুব্রত’র অভিনয় বেশ ভালো।

এছাড়া অমিত হাসান, আমান রেজা, নুসরাত জাহান পাপিয়াসহ সিনেমার প্রত্যেকেই তাদের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে বছরের আলোচিত সিনেমার মধ্যে ছিল ‘নায়ক’।

মাতাল
ড্যাশিং ডিরেক্টর খ্যাত শাহীন সুমন পরিচালিত ‘মাতাল’ ছবিটি সারা দেশের সিনেমা হলে মুক্তি পায় ২৬ অক্টোবর। বিভিন্ন কারণেই ছবিটি আলোচনায় আসে। এই সিনেমার মাধ্যমেই এই বছর নতুন নায়িকা অধরা খানকে উপহার দিয়েছেন নির্মাতা।

অ্যাকশন, রোমান্টিক ঘরানার ছবিটিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা অধরা খান ও সাইমন সাদিক। সিনেমায় সাইমন-অধরা ছাড়া আরও ছিলেন ‘দেশা দ্য লিডার’ খ্যাত নায়ক শিপন ও অরিন।

এছাড়া অভিনয় করেছেন শক্তিমান খলঅভিনেতা মিশা সওদাগর, জয়রাজ, শরীফ চৌধুরীসহ অনেকে। ‘মাতাল’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন শরীফ চৌধুরী। কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন শাহীন সুমন নিজেই।

এই সিনেমায় তুখোড় অভিনয় করে ছোটপর্দার জয়রাজ সিনেমা পাড়াতে আলোচনায় এসেছেন।

স্বপ্নজাল
মনপুরা খ্যাত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের দ্বিতীয় সিনেমা ‘স্বপ্নজাল’ মুক্তি পায় এই বছর ৬ এপ্রিল। আরও একটি মনপুড়ার মতো বিগ হিট সিনেমা উপহার দিবেন সেলিম সেই ভাবনায় ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা ছিলো আকাশ ছোঁয়া। তবে সে অনুযায়ী সাড়া পায়নি। তবে গল্প-নির্মাণ ও অভিনয় দিয়ে যৌথ প্রযোজনার ছবিটি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।

দেশের গন্ডি পেরিয়ে নিউ ইয়র্ক, ভার্জেনিয়া, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলিনা এবং ডালাসে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি।

সিনেমায় অপু চরিত্রে ইয়াশ রোহান ও শুভ্রার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পরীমনি। চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে পরীমনির উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে সিনেমাটি।

স্বপ্নজাল সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, ফজলুর রহমান বাবু, শাহানা সুমী, শহিদুল আলম সাচ্চু, শিল্পী সরকার, ইরফান সেলিম, ফারহানা মিঠু, ইরেশ যাকের এবং শাহেদ আলী প্রমুখ।

এটি প্রযোজনা করেছে বেঙ্গল ক্রিয়েশনস।

বিজলী 
ইফতেখার চৌধুরী নির্মাণ করেছেন দেশের প্রথম সুপার হিরো ধাঁচের চলচ্চিত্র ‘বিজলী’। যেখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছন অভিনেত্রী ববি। সুপার ওম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এখানে তার নায়ক ছিল ওপার বাংলার রণবীর।

১৩ এপ্রিল সারা দেশে মুক্তি পায় ‘বিজলী’। বেশ প্রশংসিত হয়েছে ছবিটি। ছবিটিতে প্রযুক্তির ব্যাবহার ছিল নজর কাড়ার মতো। এই ছবিতে ববির বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ববির নায়ক ছিলেন, স্বপ্নজাল খ্যাত রণবীর। ছবিটির নিবেদনে সঙ্গী হয়েছিল দেশের জনপ্রিয় শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পণ্য বিজলী ক্যাবলস।

যতোটা প্রত্যাশা নিয়ে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিলো সে তুলনায় ব্যবসায়িক সাফল্য আসেনি ‘বিজলী’র। তবে ঢাকাই সিনেমাতে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়ে গেল ছবিটি।

এছাড়াও চলতি বছরে সাফটা চুক্তিতে মুক্তি পাওয়া ভাইজান এলো রে, চালবাজ ছবি দুটি বেশ ভালো ব্যবসা করতে পেরেছে।

অন্যদিকে অনেক আলোচনার জন্ম দিয়েও হলে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে চিত্রনায়ক আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিটি। এতে আরিফিন শুভ জুটি বেঁধেছিলেন কলকাতার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সঙ্গে।

চলতি বছরে মন্দের ভালোর তালিকায় নাম রাখা যায় বাপ্পি-মাহির ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ ছবির।

বছরের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো-

১. পুত্র ২. দেমাগ ৩. পাগল মানুষ ৪ .হৈমন্তী ৫. জিও পাগলা (আমদানি) ৬. ইন্সপেক্টর নটি কে (আমদানি) ৭. ভালো থেকো ৮. আমি নেতা হব ৯. নূরজাহান (যৌথ) ১০. রাঙা মন ১১. পাষাণ (যৌথ) ১২. মাটির প্রজার দেশে ১৩. বিজলী ১৪. কালের পুতুল ১৫. স্বপ্নজাল (যৌথ) ১৬.পলকে পলকে তোমাকে চাই ১৭. একটি সিনেমার গল্প ১৮. প্রেমের কেনো ফাঁসি ১৯. আলতাবানু ২০. চালবাজ (আমদানি) ২১. ধূসর কুয়াশা ২২. চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া ২৩. পাঙ্কু জামাই ২৪. কমলা রকেট ২৫. পোড়ামন টু ২৬. সুপারহিরো ২৭. প্রেমিক ছেলে ২৮.নামতা ২৯. সুলতান (আমদানি) ৩০. ভাইজান এলো রে (আমদানি) ৩১. ফিদা (আমদানি) ৩২. পিয়া রে (আমদানি) ৩৩. জান্নাত ৩৪. মনে রেখ ৩৫. ক্যাপ্টেন খান ৩৬. বেপরোয়া ৩৭. ফিফটি ফিফটি লাভ ৩৮. নাকাব (আমদানি) ৩৯. নায়ক ৪০. পবিত্র ভালোবাসা ৪১. মাতাল ৪২. মেঘকন্যা ৪৩. সনাতন গল্প ৪৪. দেবী ৪৫. আসমানী ৪৬. মিস্টার বাংলাদেশ ৪৭. লিডার ৪৮. পাঠশালা ৪৯. ভিলেন (আমদানী) ৫০. দহন ৫১. গার্লফ্রেন্ড (আমদানি) ৫২. আমি শুধু তোর হলাম (আমদানি) ৫৩. পোস্টমাস্টার ৭১ ৫৪. তুই শুধু আমার (যৌথ) ৫৫. স্বপ্নের ঘর ৫৬.অর্পিতা।

মন্তব্য