| প্রচ্ছদ

৫৬ ছবির বছর

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১১২ বার

বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশীয় চলচ্চিত্র দর্শক-খরায় ভুগছে। মুক্তিপ্রাপ্ত কোনো ছবিই যেন ব্যবসা সফল হতে পারছিল না। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালও বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। দিন দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হলের সংখ্যা। আর ব্যবসার মন্দায় মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির তালিকাও ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। বাণিজ্যিক ও বিকল্প ধারার ছবি মিলিয়ে এ বছর মোট ৫৬টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। তবে খাতা-কলমে এই ৫৬ ছবির মধ্যে যৌথ প্রযোজনার রয়েছে চারটি। আর আমদানি করা ৪টি।

নিরেট দেশি ছবি তাহলে দাঁড়ায় ৪৮টি! এর মধ্যে বেশিরভাগ ছবিতেই বিনিয়োগ করা পুঁজি তুলতে পারেননি প্রযোজকরা। দু'একটাতে যে ব্যতিক্রম নেই তা নয়। সেটিও 'দশটা ল্যাংড়া ঘোড়া দৌড় দিলে একটা তো এগিয়ে থাকবেই' প্রবাদ বাক্যের মতোই! যে ইন্ডাস্ট্রিতে বছরে এক সময় দু'শ-আড়াইশ' ছবি মুক্তি পেত, সেখানে ৩৬৫ দিনে মাত্র অর্ধশত ছবি মুক্তি! সারাবছরে টেনেটুনে হাফ সেঞ্চুরি। মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে শাকিব খানের আটটি। ঢালিউডে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নাম্বার ওয়ান পজিশন ধরে রেখেছেন শাকিব খান। ব্যবসায়িক সিনেমার ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনিই সেরা। তাই তার ছবি বেশি মুক্তি পাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সেরা এ নায়ক এ বছর সফল ছবি দিতে পারলেন কই! 

 

গত কয়েক বছরে তিনি সর্বমহলে জনপ্রিয়তা পান তার নয়া গেটআপে। এই তো কিছুদিন আগে এক বিজ্ঞাপন করেও বেশ আলোচিত হন। এ বছর শাকিব অভিনীত এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আকাশের 'আমি নেতা হবো' ও 'চি.পো.নো.মা' জয়দেব মুখার্জীর 'চালবাজ' ও 'ভাইজান এলো রে', আশিকুর রহমানের 'সুপার হিরো'. আবদুল মান্নানের 'পাংকু জামাই', ওয়াজেদ আলী সুমনের 'ক্যাপ্টেন খান', রাজিব বিশ্বাসের 'নাকাব'। এর মধ্যে চালবাজ ও ভাইজান এলো রে কলকাতার একক প্রযোজনায় নির্মিত। গড়পড়তা শাকিব খানের ছবিগুলো  ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলকাতার পরিচালকদের পরিচালনায় 'চালবাজ' ও 'ভাইজান এলো রে' সেরা ছবি। বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে 'ক্যাপ্টেন খান' আলোচনায় ছিল। বলতে হয়, এ বছর শাকিব খানের ভালো-মন্দ মিলে বছর কেটেছে। তবে শাকিবের বেশ কয়েকটি সিনেমা দেখে মানুষ যারপরনাই বিরক্ত। শাকিব নাম্বার ওয়ান নায়ক। তার কাছে তাই প্রত্যাশাও আকাশচুম্বী। এ বছর তা পূরণ করতে পারেননি। আগামী বছর শাকিব অভিনীত বেশ কয়েকটি আলোচিত সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। আশা করি সেগুলোতে শাকিব নিজেকে নতুন করে মেলে ধরতে পারবেন।

২০১৮ সাল যেন নিজের করে নিয়েছেন নতুন জুটি সিয়াম-পূজা। এ বছরের অন্যতম আলোচিত ছবি 'পোড়ামন-২' ও 'দহন'। দু্ি‌টরই নায়ক-নায়িকা তারা। যদিও 'পোড়ামন-২' ব্যবসায়িকভাবে সফল হলেও 'দহন' তেমন ব্যবসা করতে না পারলেও আলোচরায় ছিলো সিয়াম। তার অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক। এ ছবিটি মুক্তির মাধ্যমে পুরো বছরই যেন নিজের ব্র্যাকেটবন্দি করেছেন সিয়াম ও পূজা। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত দুটি ছবিই পরিচালনা করেছেন রাইহান রাফি। মন্দার এ সময়ে আশা জাগিয়েছে।

 

এ বছরের অন্যতম চমক ছিল জয়া আহসানের 'দেবী'। প্রযোজকের হিসাবমতে, চলতি বছরের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ও আলোচিত ছবি। হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মিত হওয়ায় আগে থেকেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল দেবী। এ ছাড়াও জয়ার প্রথম প্রযোজনা, ভিন্ন রকম প্রচার-প্রচারণার কারণে দর্শকদের মাঝে এক ধরনের আগ্রহও তৈরি হয়। ছবিটি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। কেউ বলেছেন, হরর মুভি হয়ে গেছে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের দেবী এতে দেখানো হয়নি। তবে আলোচনা-সমালোচনা যা-ই হোক, দর্শকরা দেবীকে সফল বানিয়েছে। জয়া অভিনীত 'পুত্র' ছবিটিও মুক্তি পায় এ বছর। টিভি পর্দার বাইরে আলোচিত হয়নি ছবি। বলা যায়, নামকাওয়াস্তে মুক্তি। 

চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী অভিনীত তিনটি ছবি মুক্তি পায় এ বছর। এর মধ্যে দুটি ছবিতে দুই নবাগত নায়িকার অভিষেক হয়েছে তার সঙ্গে। ইস্পাহানি আরিফ জাহানের 'নায়ক' ও মো শাখাওয়াত হোসেনের 'আসমানী'তে যথাক্রমে নায়িকা ছিলেন অধরা খান ও সুস্মি রহমান। 'নায়ক' আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে বাপ্পির নতুন লুক ও অভিনয়ে পরিণত ভাবটা এসেছে। এছাড়াও শানুর 'পলকে পলকে তোমাকে চাই' ছবিকেও ব্যবসাসফল বলেছেন এর প্রযোজক। এতে বাপ্পিপ্পর নায়িকা ছিলেন মাহি। 

 

চলতি বছরে যৌথ প্রযোজনার নতুন নিয়মের কারণে যৌথ প্রযোজনার তেমন কোনো ছবি নির্মিত হয়নি। যা হয়েছে তার সংখ্যাও অপ্রতুল। এ জন্যই ছবির সংখ্যা কম বলে মন্তব্য অনেকের। তবে যৌথ প্রযোজনা ও সাফটা চুক্তির আওতায় টালিউডের বেশ কটি ছবি মুক্তি পেয়েছে দেশের হলে। এগুলো হলো 'ইন্সপেক্টর নটি কে', 'মনে রেখো', 'নূর জাহান', 'তুই শুধু আমার', 'সুলতান : দ্য সেভিয়ার', 'আমি শুধু তোর হলাম', 'ফিদা', 'পিয়া রে', 'জিও পাগলা', 'গার্লফ্রেন্ড', 'চালবাজ' ও 'ভাইজান এলো রে'। এর মধ্যে শুধু ভাইজান এলো রে ছবিটিই দর্শকরা গ্রহণ করেছে। তাই সাফটায় ছবিগুলো আমদানি করে এক প্রকার লোকসানই গুনতে হয়েছে আমাদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে। 

তবে ভিন্নধারার ছবি 'মাটির প্রজার দেশে'. 'কালের পুতুল', 'আহত ফুলের গল্প', 'স্বপ্নজাল', 'পাঠশালা', 'সনাতন গল্প' ব্যবসা না করলেও প্রশংসিত হয় সব মহলে। জয় করেছে অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও। এর মধ্যে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের 'স্বপ্নজাল' মুক্তির আগে আলোচিত হলেও ব্যবসাসফল হয়নি। তবে পরীমনির ক্যারিয়ারের সেরা ছবি এটি। 'স্বপ্নজাল' ছাড়া এ বছর পরীমনির ঝুলিতে কোনো ছবি নেই। 

এ বছরের ব্যর্থ নায়ক বলা যায় আরিফিন শুভ। দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে তার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ভালো থেকো ও নায়ক আলমগীর পরিচালিত 'একটি সিনেমার গল্প'। দুটি ছবিই ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ।

'জান্নাত' সিনেমার মাধ্যমে সাইমন আলোচনায় ছিলেন। তবে মুক্তির পরই দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নেয় ছবিটি থেকে। মাহিয়া মাহির সঙ্গে জুটি বেঁধেও হিট করাতে পারেননি সাইমন। একই সঙ্গে নতুন নায়িকা অধরার সঙ্গে 'মাতাল' ছবিটিও হয় ব্যর্থ। ছবিটির বিনিয়োগ ঘরে তুলতে পারেননি প্রযোজক।

 

 চলতি বছরের বাজে ছবির তালিকায় রয়েছে 'প্রেমের কেনো ফাঁসি', 'রাঙা মন', 'ধূসর কুয়াশা', 'পাগল মানুষ', 'লিডার', 'ফিফটি ফিফটি লাভ' এগিয়ে থাকবে। তবে ভালো কিছু করার চেষ্টা দেখা গেছে এ বছর; এর মধ্যে ছিল ববি অভিনীত 'বিজলী'। সুপারহিরোইনের গল্প বলেও ব্যবসায়িকভাবে হতাশ করেছে। বছরের একেবারে শেষে এসে মুক্তি পায় 'পোস্ট মাস্টার ৭১', 'স্বপ্নের ঘর' ও 'অর্পিতা'। তিনটি ছবিই গল্পনির্ভর। ছবিগুলো তেমন একটা প্রেক্ষাগৃহে এ বছর না পেলেও নতুন বছরে মহাসমারোহে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজকরা।

২০১৮ সালে ছবি মুক্তি কম ও ব্যবসায়িক মন্দা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অনেক হয়েছে ও হচ্ছে। এগুলো নিয়েই চলছে ঢাকাই ছবির ইন্ডাস্ট্রি। একদিন ঘুরে দাঁড়াবে- এই স্বপ্ন নিয়েই নতুন বছরে পথ চলা শুরু হবে আবার। সম্ভাবনা যে নেই, তা কিন্তু নয়। সেই সম্ভাবনার ওপর ভর করেই নতুন বছরে বেশ কিছু ছবি ইতিমধ্যে এসেছে আলোচনায়। এবার অপেক্ষার পালা। দেখা যাক ২০১৯ সাল ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্য কী নিয়ে আসে।

 

 চলতি বছরের বাজে ছবির তালিকায় রয়েছে 'প্রেমের কেনো ফাঁসি', 'রাঙা মন', 'ধূসর কুয়াশা', 'পাগল মানুষ', 'লিডার', 'ফিফটি ফিফটি লাভ' এগিয়ে থাকবে। তবে ভালো কিছু করার চেষ্টা দেখা গেছে এ বছর; এর মধ্যে ছিল ববি অভিনীত 'বিজলী'। সুপারহিরোইনের গল্প বলেও ব্যবসায়িকভাবে হতাশ করেছে। বছরের একেবারে শেষে এসে মুক্তি পায় 'পোস্ট মাস্টার ৭১', 'স্বপ্নের ঘর' ও 'অর্পিতা'। তিনটি ছবিই গল্পনির্ভর। ছবিগুলো তেমন একটা প্রেক্ষাগৃহে এ বছর না পেলেও নতুন বছরে মহাসমারোহে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজকরা।

২০১৮ সালে ছবি মুক্তি কম ও ব্যবসায়িক মন্দা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অনেক হয়েছে ও হচ্ছে। এগুলো নিয়েই চলছে ঢাকাই ছবির ইন্ডাস্ট্রি। একদিন ঘুরে দাঁড়াবে- এই স্বপ্ন নিয়েই নতুন বছরে পথ চলা শুরু হবে আবার। সম্ভাবনা যে নেই, তা কিন্তু নয়। সেই সম্ভাবনার ওপর ভর করেই নতুন বছরে বেশ কিছু ছবি ইতিমধ্যে এসেছে আলোচনায়। এবার অপেক্ষার পালা। দেখা যাক ২০১৯ সাল ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্য কী নিয়ে আসে। সমকাল অনলাইন

 

 

মন্তব্য