| প্রচ্ছদ

ককটেল বিস্ফোরণ

নওগাঁর রাণীনগরে দুধর্ষ ডাকাতিঃএকজন নিহত ১,আহত ৪

নওগাঁ প্রতিনিধি 
পঠিত হয়েছে ৯৪ বার। প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ০৮ জানুয়ারী ২০১৯ ।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের আমগ্রামে দুধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ওই গ্রামের মজিবর রহমান আকন্দের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে গৃহকর্তার ভাগ্নে মোফাজ্জল হোসেন(৫৫) নিহত হয়েছেন এবং দূর্বত্তদের মারপিটে ওই পরিবারের আরো ৪ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ডাকাতি ঘটনার সময় ওই বাড়ির লোকজনের চিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে ডাকাতদের প্রতিরোধ করার চেষ্ঠা করলে ডাকাতরা পরপর ৪টি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ওই বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্নলংকারসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে এলাকা ত্যাগ করে। ঘটনার জানার পর রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে এবং আশে পাশের বিভিন্ন এলাকায অভিযান চাল্য়া বলে পুলিশ জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। মঙ্গলবার সকালে নওগাঁ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লেমন রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 
রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান ও গৃহকর্তা মজিবর রহমান আকন্দের ছেলে আব্দুল মজিদ জানান,সোমবার দিবাগত রাত অনুমান ১টা দিকে বাড়ীর পূর্বপাশের দরজা ভেঙ্গে ২০/২৫ জনের মূখোশধারী একদল ডাকাত বাড়ীতে প্রবেশ করেই অতর্কিতভাবে বাড়ীর লোকজনদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেধড়ক মারপিট করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করতে থাকলে বাড়ীর লোকজনদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসতে থাকে। এসময় মজিবর রহমানের ভাগ্নে মোফাজ্জল হোসেন ছুটে এসে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে ডাকাতের ছুরিকাঘাতে গুরুত্বর আহত হয়। এরই মধ্যে গ্রামের লোকজন ডাকাতদের ঘিরে ফেলে তাদের আটকের চেষ্টা করলে ডাকাতরা পর পর ৪টি ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন মোফাজ্জলকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় পথি মধ্যে মারা যায়। নিহত মোফাজ্জল একই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে। ডাকাতদের মারপিটে গৃহকর্তা মজিবর রমানের ছেলে আব্দুল মজিদ (৬০),মোকছেদ আলী (৪৮) মজিবর রহমানের মেয়ে রেবেকা (৩২) ও আব্দুল মজিদের ছেলে আবির হোসেন (১২) আহত হয় । আহতদের রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে। এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার সকালে অপর দিকে একই রাতে একই ইউনিয়নের সিলমাদার গ্রামের আব্দুছ সামাদ হোসেনের ছেলে ময়নুল হককে বেধে রেখে মারপিট করে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা ও দশ আনা স্বর্ণের গহনা এবং একটি মোবাইল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে ময়নুলের স্বজনরা জানিয়েছে।
এব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন রাতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অভিযান অব্যাহত আছে দুর্বত্তদের আটক ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত আছে। এই ঘটনায থানায মামলা দায়েরর প্রস্ততি চলছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য