| প্রচ্ছদ

শুধু গেইলকে হারিয়েই জিতে গেল রংপুর

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১২৩ বার

লক্ষ্য মাত্র ৬৪ রানের। তাই কোনও ঝুঁকি নেয়নি রংপুর রাইডার্স। শুধুমাত্র ক্রিস গেইলের উইকেটটি হারিয়ে পেয়েছে এবারের বিপিএলের টানা দ্বিতীয় জয়। বোলিংয়ে কুমিল্লাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ১২ ওভারে মাশরাফিরা নিশ্চিত করেছে ৯ উইকেট বড় জয়।

ড্রেসিংরুমে থেকেও মাঠে নামা হয়নি গেইলের। টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে টুর্নামেন্টের শুরুতেই বিশ্রামে রাখার কোনও কারণ নেই রংপুরের। পরে জানা গিয়েছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে আসতে না পারায় মাঠে নামা হয়নি তার। কুমিল্লা ম্যাচের আগে সেটা পেয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবারই মাঠে নামেন তিনি।

কিন্তু কুমিল্লা মাত্র ৬৩ রানে গুটিয়ে গেলে দর্শকরা হয়তো একটু হতাশই হয়েছিলেন। ‘কাঙ্ক্ষিত’ গেইল-ঝড়টা যে দেখা যাবে না! যদিও প্রত্যাশার কিছুই মেটাতে পারেননি হার্ডহিটার এই ব্যাটসম্যান। এবারের বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রান করে তাকে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। আবু হায়দারের বলে গেইল ফেরার পর আর কোনও উইকেট হারায়নি রংপুর। মেহেদী মারুফ ও রাইলি রোসের ব্যাটে ভর দিয়ে নিশ্চিত করেছে বড় জয়।

ওপেনার মেহেদী মারুফ ৩৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। আর ওয়ান ডাউনে নেমে রোসো ২৮ বলে এক ছক্কায় খেলেন হার না মানা ২০ রানের ইনিংস। সহজ লক্ষ্যের পেছনে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিংয়েই জয় নিশ্চিত করেছে রংপুর।

এর আগে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। রংপুর রাইডার্স অধিনায়কের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারকাখচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ১৬.২ ওভারে মাত্র ৬৩ রানে অলআউট স্টিভেন স্মিথরা।

মঙ্গলবার বিপিএলের ষষ্ঠ ম্যাচে টস জিতে বোলিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি মাশরাফি। ফিল্ডিংয়ে নেমেই রংপুর কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে কুমিল্লার ব্যাটসম্যানদের। বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বোলিংয়ে সামনে শুরু থেকেই এলোমেলো কুমিল্লা। মাশরাফির বিধ্বংসী রূপটাই বেশি দেখেছে তারা। রংপুর অধিনায়ক গড়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচায় মাশরাফির শিকার ৪ উইকেট। এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার তার হাতেই মানায়।

এতদিন ৪ ওভারে ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট ছিল এই ফরম্যাটে তার সেরা বোলিং। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্টের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন বিধ্বংসী এই বোলিং। বিপিএলে মঙ্গলবারের ম্যাচে আগের রেকর্ডটি নতুন করে লেখার পথে মাশরাফি আউট করেছেন তামিম ইকবাল (৪), এভিন লুইস (৮), ইমরুল কায়েস (২) ও স্টিভেন স্মিথকে (০)।

কুমিল্লার টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানই মাশরাফির শিকার। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের তোপে দিশেহারা কুমিল্লা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তার অসাধারণ বোলিংয়ের পর জ্বলে ওঠেন শফিউল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম। ৩ উইকেট শিকারি নাজমুল নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ শহীদ আফ্রিদির উইকেট। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান খেলেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ২৫ রানের ইনিংস। ১৮ বলের ইনিংসে ৩ চারের সঙ্গে মেরেছেন এক ছক্কা। আফ্রিদিই শুধুমাত্র যেতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘরে!

বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন শফিউল ইসলামও। শোয়েব মালিক (০) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে (৭) প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়েছেন এই পেসার। অন্যদিকে ফরহাদ রেজা তার উইকেটের ঘর পূরণ করেন এনামুল হককে (২) সাজঘরে ফিরিয়ে। শফিউলের বোলিং ফিগারটা এমন- ২-১-৮-২।

মন্তব্য