| প্রচ্ছদ

অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ

শেরপুরে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ১১৬ বার। প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ১২ জানুয়ারী ২০১৯ ।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা খানমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অপসারণ চেয়ে গতকাল শনিবার থেকে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দুর্নীতিবাজ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একাধিক দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারিভাবে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় বাবদ ৪০ হাজার টাকা, নলকূপ স্থাপনের ২০হাজার টাকা, রেজিস্ট্রার্ড খাতাপত্র ক্রয় বাবদ ১০ হাজার টাকা, উঠান বৈঠকের আয়োজন বাবদ ৫ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু উক্ত পরিমাণ টাকা ভুয়া বিল-ভাওচার তৈরীর মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা খানম আত্মসাত করেন। এছাড়া ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের সঙ্গে দুব্যবহার, কোন কারণ ছাড়াই শ্রেণীকক্ষে ছাত্রদের আটকে রেখে নির্যাতন এবং ছাত্রীদের বেধড়ক মারপিট করারও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে গেলে শামীম আহমেদ, আব্দুল হাইসহ একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যালয়ের নামে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বরাদ্দের টাকা খরচের হিসাব চাইলে সবসময় কৌশলে এড়িয়ে যান ওই প্রধান শিক্ষক। এসব টাকা খরচ করা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি এসব বিষয় জানতে চাওয়ায় বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। কোন কারণ ছাড়াই তাদের বেধড়ক মারপিট করে থাকেন। আবার অনেককে শ্রেণীকক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ওই শিক্ষকের এহেন কর্মকা-ে তাদের মতো সব অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তাই দুর্নীতিবাজ ওই শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে ক্লাস বর্জন করছেন তারা। এই শিক্ষকের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সন্তানদের আর স্কুলে পাঠাবেন না বলেও আল্টিমেটাম দেন ক্ষুব্ধ অভিভাকরা। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল আহমেদ, শাওন রহমান, সুফিয়া খাতুন, অমেলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, এমনিতেই ম্যাডাম আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তুচ্ছ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনসহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এমনকি স্কুল থেকে বের করে দেয়ারও হুমকি দেন। আমরা ম্যাডামের অপসারণ চাই-এই বলে সবাই একসঙ্গে চিৎকার করতে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা খানম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, সবকিছুই ষড়যন্ত্র। তিনি ‘ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার’ বলে দাবি করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত করে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা তিনি মাথা পেতে নেবেন বলেও জানান তিনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। আশা করি আগামি দিনে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসবেন। আর কোন সমস্যা হবে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেরপুর প্রতিনিধি

 

মন্তব্য