| প্রচ্ছদ

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ২১ জানুয়ারি

পঠিত হয়েছে ৮০ বার। প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী ২০১৯ ।

নাইকো দুর্নীতি মামলার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে  অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি  দিন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এই আদেশ দেন। এই মামলায় মওদুদ আহমেদের অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ না হওয়ায় আদালত নতুন দিন ঠিক করেন।

 

এর আগে, শুরুতে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু করেন। তার শুনানি শেষে বিচারক আসামি পক্ষে আইনজীবী মওদুদ আহমেদকে অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু করতে বলেন। তারপর শুনানি শুরু করেন মওদুদ আহমেদ। কিছুক্ষণ পরেই মওদুদ আহমেদ তার কাছে শুনানি করার মতো প্রয়োজনীয় ডুকুমেন্ট নাই বলে অভিযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন, ‘মামলার নথিতে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে মোতাবেক রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নথি আমাদের দেওয়া হচ্ছে না।’  

তারপর বিচারক বলেন, ‘গত তারিখেও আপনি একই অভিযোগ করেন। আপনি তো বললেন- গত তারিখে নথির সার্টিফায়েড কপির জন্য দরখাস্ত দেবেন। সে দরখাস্ত তো নথিতে নাই।’ জবাবে মওদুদ বলেন, ‘স্যার আমরা আজকে দরখাস্ত দেবো। আপনি বলে দেবেন যেন তাড়াতাড়ি সরবরাহ করা হয়।’ খবর বাংলা ট্রিবিউন

এরপর বিচারক আবার বলেন, ‘আপনারা যা যা আদালতে দরখাস্ত দিয়ে চাইবেন, সেটা যদি আইন অনুযায়ী হয় তাহলে আমি দেব। আর এ মামলায় গত ১০ বছর ধরে বিচার চলছে। আর আপনারা এখন বলতেছে, আপনাদের কাছে ডুকুমেন্ট নাই। আচ্ছা এখন আপনার নিকট যা আছে তা দিয়ে শুনানি শুরু করেন।’ এরপর মওদুদ আহমেদ শুনানি শুরু করেন।

মওদুদ আহমেদ অভিযোগ গঠন শুনানির মাঝখানে বলেন, ‘আজকে আমরা বিরোধী দল, সেজন্য আমাদের এ অবস্থা।’  

এ কথার প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা কী বিরোধী দলে আছেন? তখনই আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিরোধীদল সরকারেও হয়। সংসদের বাহিরেও হয়। বিরোধীদল সবখানেই হয়।’ 

এরপর আজকের মতো শুনানি শেষ করার জন্য সময় চেয়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আজকে আমার হাইকোর্টে ৩৬৫ জন আসামির আগাম জামিন আছে। আমাকে ওইখানে যেতে হবে। আজকের মতো সময় দেওয়া হোক।’ এরপর আদালত পরবর্তী অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। 

এর আগে, সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে আদালতের উপস্থিত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়াকে আদালতে নিয়ে আসার পরে বেশ কিছুক্ষন মির্জা ফখরুল ইসলাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপ করেন। এরপর আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে তিনি (ফখরুল) আদালত থেকে বের হয়ে যান।

প্রসঙ্গত, কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে আনা হয় ১২টা ২২ মিনিটে। এরপর বিচারক তার এজলাসে আসেন ১২টা ২৫ মিনটে। আদালতের কার্যক্রম চলে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। প্রায় দেড় ঘণ্টা আদালতের কার্যক্রম চলার সময় খালেদা জিয়া তার নির্দিষ্ট হুইল চেয়ারে বসা ছিলেন। এরপর আদালতের কার্যক্রম শেষে ১টা ৫৫ মিনিটে কারাগারে নেওয়া হয় তাকে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম সাহেদুর রহমান।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

মন্তব্য