| প্রচ্ছদ

নন্দীগ্রামে ছিনতাইকায়ে ৫ ভুয়া ডিবি পুলিশ গ্রেফতার

বগুড়ায় আবারও নকল পুলিশের উৎপাত বেড়েছে: জনমনে আতঙ্ক

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৩৮০ বার। প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ ।

মাঝে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বগুড়ায় আবারও নকল পুলিশের উৎপাত বেড়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই পাঁচ দিনের ব্যবধানে তারা জেলার দুই উপজেলা কাহালু ও নন্দীগ্রামে তিনটি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ জনতার সহায়তায় হাতে-নাতে ৫ ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কাহালুর দেওগ্রাম বাজারের দোকানগুলো থেকে লুট করা ৪০লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা যায়নি। অবশ্য ওই ঘটনায় দেওগ্রাম বাজার কমিটির সভাপতি ও দুই নৈশপ্রহরীসহ ৫জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পাশাপাশি দুই উপজেলায় গভীর রাতে এবং প্রকাশ্য দিনের আলোতে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের তিনটি ঘটনায় জনমনে বিশেষত ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক জানান, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার যখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটলো। এসব ঘটনা মানুষের মনে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি করে। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ কিংবা র‌্যাব পরিচেয় ভবিষ্যতে কেউ যাতে এধরনের অপকর্ম করতে না পারে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ কিংবা র‌্যাব সেজে গ্রেফতার নাটকের মাধ্যমে টার্গেট করা ব্যক্তিকে নিজেদের গাড়িতে তুলে মোট অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা বগুড়ায় এর আগেও একাধিকবার ঘটেছে। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৯ জুলাই নন্দীগ্রামেরই কুন্দারহাটে গ্রেফতারের নাটক সাজিয়ে এক ব্যবসায়ীর সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা সময় জনতা পাঁচ ভুয়া র‌্যাব সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল। পরে ২০১৪ সালের ১৫ জুন শাজাহানপুর উপজেলার টেঙ্গামাগুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ভুয়া পুলিশের গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। আর সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের নাটক সাজিয়ে জালাল উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা হয়েছিল বগুড়া সদরের যশোপাড়া এলাকায়। তবে জনতা এগিয়ে আসায় তিনি রক্ষা পান।
চলতি বছরের শুরুতে নকল পুলিশের দল প্রথম ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় গত ৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে নন্দীগ্রামে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের ইসবপুর এলাকায়। পুলিশ পরিচয়ে তারা ওইদিন গ্রেফতারের নাটক সাাজিয়ে আব্দুস সালাম নামে ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর চার দিনের মাথায় ৭ জানুয়ারি সোমবার গভীর রাতে কাহালু উপজেলার দেওগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে দুর্বৃত্তদের ডাকাতির ঘটনাটি ছিল অভিনব। ওই বাজার কমিটির সভাপতি নাসিম উদ্দিন জানান, গভীর রাতে ২০/২৫জন দুর্বৃত্ত ট্রাক নিয়ে দেওগ্রাম বাজারে আসে। এরপর তারা সেখানকার এক নৈশপ্রহরীর কাছে নিজেদেরকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে জানায়, ফেন্সিডিলের একটি বড় চালান আটকের জন্যই তারা দেওগ্রাম বাজারে এসেছে। এভাবে তারা ওই বাজারের আরও ৬ নৈশ প্রহরীকে ডেকে নেয় এবং পর ৭জনকেই বেঁধে ফেলে। এরপর তারা বাজারের ২২টি দোকানের তালা ভেঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে নন্দীগ্রামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর তার কাছে থাকা ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওইদিন নন্দীগ্রামের দমদমা গ্রামের তফির উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ইসলামী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে পাঁচ লাখ ৭ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজ প্রতিষ্ঠান প-িতপুকুর যাওয়ার জন্য সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশায় ওঠেন। পথিমধ্যে নকল ডিবি পুলিশের একটি দল ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিজেদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়। তবে  গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে জনতা পুলিশে খবর দিলে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ তাদের পিছু নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৫ ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেফতার ও তাদের কবল থেকে টাকাসহ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।  
নন্দীগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) আনিসুর রহমান জানান, সোমবার ছিনতাইকালে যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও প্রতারণার অভিযোগ মামলা দেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘এরা আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের সদস্য। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে। একই একই চক্র ৩ জানুয়ারী ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের কাছ থেকে টাকা-পয়সা লুট করেছিল।’
কাহালুর দেওগ্রাম বাজারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি শওকত কবীর জানান, ওই ঘটনায় ১০ জানুয়ারি থানায় মামলা হয়েছে। দেওগ্রাম বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আমরা বাজার কমিটির সভাপতি নাসিম এবং দুই নৈশ প্রহরীসহ ৫জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান করেছি।’ জনমনে আতঙ্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কের কিছু নেই। আমরা সজাগ রয়েছি। কেউ কোন অপকর্ম ঘটিয়ে পার পাবে না।

 

মন্তব্য