| প্রচ্ছদ

ব্যবসার পরিকল্পনা আছে কিন্তু অর্থ নেই, তারাই সুযোগ পাবে

বগুড়ার তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে জামানত ছাড়াই ঋণ দেবে চেম্বার কর্তৃপক্ষ

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ৩৭৪১ বার। প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ ।

বগুড়ার বেকার তরুণদের ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিআই)। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদেরই এ সুযোগ দিতে চায় বগুড়ার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এ সংগঠনটি। আগ্রহী তরুণদের জামানত ছাড়াই এক বছরের জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। মূলত: যাদের মাথায় বিভিন্ন ব্যবসার পরিকল্পনা রয়েছে কিন্তু অর্থের অভাবে শুরু করতে পারছেন না তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আরও বিস্তারিত জানতে পুণ্ড্রকথা ইউটিউব চ্যানেল দেখুন।

কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী পাঁচ বছরে দেশের এক কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বগুড়া চেম্বারের পক্ষ থেকে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী বগুড়া জেলার বাসিন্দা তরুণদেরকে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বিসিসিআই সভাপতি বরাবর ওই আবেদন করতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মধ্য প্রকৃত পক্ষেই যারা উদ্যোক্তা হতে চায় এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত-এমন তরুণদের বাছাই করে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ব্যবসার জন্য ঋণ প্রদান করা হবে। 
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন জানান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে চাকরি, শিল্প কলকারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং উদ্যোক্তা তৈরি-এই তিন ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বেকারত্ব ঘোচানো সম্ভব।তবে একটি জেলায় সরকারি- বেসরকারি দপ্তরে বিপুল জনগোষ্ঠীকে তো আর চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া এ জেলায় ছোট-বড় যেসব কলকারখানা রয়েছে তাতেও সবাইকে যুক্ত করা যাবে না। তবে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে বগুড়ার ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরাও আমাদের তরুণদের জন্য বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প তথা ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে কর্মসংস্থানের যে বিষয়টি আছে সেটি অনেকটাই নিরসনে সহায়ক হবে।’
উদ্যোক্তাদের বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে বিসিসিআই সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন জানান, আবেদন গ্রহণের পর প্রত্যেকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। সেখানেই জানার চেষ্টা করা হবে কে কোন ধরনের উদ্যোগ নিতে চান। তিনি বলেন, ‘যারা শূণ্য থেকে শুরু করতে চান আমরা তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেব।’ ঋণের সীমা ২ লাখ ৮০ টাকা করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আইন অনুযায়ী ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ওপরে কেউ বিনিয়োগ করতে গেলে তাকে কর দিতে হবে। যেহেতু নতুন একজন উদ্যোক্তার পক্ষে কর পরিশোধ করা কষ্টকর হবে তাই আমরা ঋণ সীমা আপাতত ২ লাখ ৮০ হাজারেই সীমাবদ্ধ রেখেছি। তবে যদি কেউ ভাল করতে পারে তাহলে আমরা বছর বছর তার ঋণের পরিমাণ বাড়াবো।’
বগুড়ার উদ্যোক্তারা সফল হবে-এমন আশার কথা জানিয়ে বিসিসিআই সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে শীর্ষ স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা বাবা-মা’র কাছ থেকে ১০ টাকা সহায়তাও পাননি। বরং ধার-কর্য করেই তারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন। এভাবে আমরা যদি কাউকে সাপোর্ট দিতে পারি তারা অবশ্যই সফল হতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর আমরা যদি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারি তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র  হয়ে উঠবে।’

মন্তব্য