| প্রচ্ছদ

রেস্তোরাঁর মান নির্ধারণে চালু হলো স্টিকার পদ্ধতি

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১১১ বার। প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০১৯ ।

দেশে প্রথমবারের মতো রেস্তোরাঁর মান নির্ধারণে স্টিকার পদ্ধতি চালু হয়েছে। রবিবার প্রথম পর্যায়ে ৫৭টি হোটেল-রেস্তোরাঁর মধ্যে ১৮টিকে ‘এ +’  এবং ৩৯টিকে ‘এ’ গ্রেডের স্টিকার দেওয়া হয়েছে। হোটেলগুলোর মানের উন্নতি-অবনতির সঙ্গে এই গ্রেড বাড়বে ও কমবে বলে জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে এই গ্রেডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেস্তোরাঁয় সবুজ স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে এখানকার মান ‘এ+’ (এ প্লাস) অর্থাৎ বেশ ভালো। আর মান একেবারেই খারাপ হলে লাগানো থাকবে কমলা রঙের স্টিকার। এই রঙের স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে এটি অনিরাপদ। কোনও হোটেল কর্তৃপক্ষ কমলা রঙের স্টিকার পাওয়া মানে বুঝতে হবে এই হোটেলকে সতর্ক করার জন্য এক মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গ্রেডিং সিস্টেমের আওতায় খাবারের মান, বিশুদ্ধতা, পরিবেশ, ডেকোরেশন, মনিটরে রান্নাঘরের পরিবেশ দেখা যাওয়ার ব্যবস্থা ও ওয়েটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁগুলোতে চার ক্যাটেগরিতে চিহ্নিত করা হবে। এসব বিচারে ৯০ নম্বরের বেশি স্কোর হলে রেস্তোরাঁটি ‘এ+’ ক্যাটেগরির বলে গণ্য হবে এবং এতে থাকবে সবুজ রঙের স্টিকার। স্কোর ৮০ এর ওপরে হলে রেস্তোরাঁটি গণ্য হবে এ ক্যাটেগরির এবং থাকবে  নীল রঙের স্টিকার।  হোটেলের সার্বিক মান ৫৫ থেকে ৭৯ –এর মধ্যে হলে এটি গণ্য হবে মোটামুটি মানের খাবার হোটেল হিসেবে। এটি তৃতীয় ধাপের রেস্তোরাঁ, এর মান হবে ‘বি’ ক্যাটেগরির  আর  এতে লাগানো থাকবে হলুদ বর্ণের স্টিকার। হলুদ স্টিকারধারী রেস্তোরাঁকে আপাতত তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে তাদের মান ও গ্রেড উন্নতির জন্য।

তবে কোনও খাবার হোটেলের স্কোর ৪৫ থেকে ৫৫ এর মধ্যে হলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মান অনুযায়ী এটি নিম্নমানের খাবার হোটেল বা রেস্তোরাঁ। এটি চতুর্থ বা শেষ ধাপের রেস্তোরাঁ। এর কোনও গ্রেড নেই। এর স্টিকারের রঙ থাকবে কমলা। তাকে গ্রেড পাওয়ার জন্য এক মাসের সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে রেস্তোরাঁর মানোন্নয়ন ঘটাতে না পারলে তার লাইসেন্স বাতিল ও সিলগালা করে দেওয়া হবে।  

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হোটেল বা রেস্তোরাঁটির মান কেমন তা ক্রেতাদের শুরুতেই জানাতে হবে। এজন্য রেস্তোরাঁর প্রবেশ পথেই বাধ্যতামূলকভাবে লাগাতে হবে এসব স্টিকার। ক্রেতারা রেস্তোরাঁয় প্রবেশের সময় স্টিকার দেখেই বুঝে নিতে পারবেন এর ভেতরের পরিবেশ পরিস্থিতি কেমন, কিচেনের অভ্যন্তরে কী ধরনের দূষণ বা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রয়েছে। এই গ্রেডেশন পদ্ধতির অন্যতম শর্ত হলো রেস্তোরাঁর রান্না ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকতে হবে এবং তার মনিটর থাকবে রেস্তোরাঁর ভেতরে যাতে ক্রেতারা সরাসরি রান্নাঘরের বাস্তব অবস্থাটা দেখতে পারেন। 

রবিবার রাজধানীর পল্টনের ফারস হোটেলে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার বলেন,  অনেকে এসএসসি-এইচএসসিতে ‘এ’ প্লাস পেয়ে থাকে। কিন্তু তারা কি সেটা শেষপর্যন্ত ধরে রাখতে পারে? ছোটকালে কেউ চিন্তা করে ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু বড় হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায়। তেমনি আপনাদের যারা ‘এ+’ প্লাস ও ‘এ’ গ্রেড পেলেন আমরা আশাকরি সরকারের দেওয়া এই স্বীকৃতিটুকু ধরে রাখবেন। রেস্তোরাঁর ভালো মান বজায় রাখতে হবে। মনে রাখবেন আমরা একাত্তরে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, এখন যদি ব্যবসায়িক লোভ ত্যাগ না করতে পারি তাহলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অনেকটাই কঠিন হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি ভালো গ্রেডপ্রাপ্তদের উদ্দেশে  বলেন,  আপনাদের এই স্বীকৃতি সরকারি স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে আপনাদের ব্যবসা ও লাভ আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যাবে। আশাকরি আপনারা সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবেন।

তিনি আরও বলেন, ভালো গ্রেডপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ রেস্তোরাঁর মান যে কমবে না এটা কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবে না। তাই আমি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের অনুরোধ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত গ্রেডিং পদ্ধতি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। রেস্তোরাঁ মালিকরা বারবার মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে জরিমানা দেওয়ার ফলে আমাদের কাছে স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন। আমরা তাদের জন্য এই সিস্টেম এনেছি। এতে রেস্তোরাঁ মালিকরাও খুশি হয়েছেন। ভবিষ্যতে দেশব্যাপী রেস্তোরাঁগুলোকে এই গ্রেডিংয়ের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের এপ্রিলের ২ তারিখে কস্তুরী হোটেলে স্টিকার লাগিয়ে এই কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন ও সচিবালয় এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। খবর বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্য