| প্রচ্ছদ

বিয়ে করায় এমন শাস্তি!

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৮৩ বার। প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০১৯ ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে সালিশের নামে হাত-পা বেঁধে এক যুবককে নির্যাতন করা হয়েছে। 

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ইউপি সদস্য আকবর হোসেন পাড়কে (৩২) আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার রাতে শ্যামনগর থেকে তাকে আটক করা হয়।

নির্যাতিত আব্দুর রাজ্জাক মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের শিক্ষক দলিল সানার ছেলে। নির্যাতনকারী ইউপি সদস্য আকবর হোসেন পাড় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, শ্যামনগর সদর এলাকার একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে আব্দুর রাজ্জাকের। কয়েক বছর আগে ওই মেয়ে পার্শ্ববর্তী ভুরুলিয়া ইউনিয়নে বিয়ে দেয় পরিবার। কিন্তু বিয়ের পরেও ওই মেয়ের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের সম্পর্ক চলতে থাকে। ছেলেটি আর বিয়ে করেনি। অন্যদিকে মেয়েটি বর্তমানে চার সন্তানে জননী।

আবুল কাশেম আরও বলেন, কিছুদিন আগে স্বামীকে তালাক দিয়ে সন্তানদের রেখে এসে আব্দুল রাজ্জাককে বিয়ে করেন ওই নারী। এরপর ওই নারীর আগের স্বামী সন্তানদের নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে সলিশি বৈঠক ডাকা হয়। তখন আমি উপস্থিত ছিলাম না। ইউপি সদস্য আকবর হোসেন আব্দুর রাজ্জাককে মারপিট করেন। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশ ইউপি সদস্য আকবরকে আটক করেছে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের মধ্যে ২৫ বছরের প্রেম। জোর করে মেয়েকে তার পরিবার অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু আমি বিয়ে করিনি। আমাদের সম্পর্কও থেমে থাকেনি। এখান থেকে ২২ দিন আগে কোর্ট থেকে রেজিস্ট্রি বিয়ে করে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছি। শনিবার দুপুরের দিকে ইউপি সদস্য আকবর আলী আমাকে ও স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারপিট করেন। আমাকে মারপিট করে তালাক দিতে বলেছেন । কিন্তু আমি দিব না, আর স্ত্রী আমাকে ছেড়ে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তাদের। 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আলী আহম্মেদ হাসেমী বলেন, সালিশ বৈঠকের নামে যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় ইউপি সদস্য আকবর আলী পাড়কে আটক করা হয়েছে।

মন্তব্য