| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় বিএনপি’র পুনর্গঠন নিয়ে গুঞ্জনঃনেতৃত্বে কী পরিবর্তন আসছে?

পুণ্ড্রকথা রিপোর্টঃ
পঠিত হয়েছে ১৯৬ বার। প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০১৮ । আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৮ ।

বগুড়ায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি পুনর্গঠনের পর এবার জেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা কমিটির পাশাপাশি দলের সদর উপজেলা এবং শহর কমিটিও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে হাইকমাণ্ড।
সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে পছন্দ অনুযায়ী পদ পেতে অনেকে এরই মধ্যে কেন্দ্রে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচীতে নিয়মিত হাজির থাকছেন। এতে শহরের নওয়াববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশী বেষ্টনীর মধ্যে পালিত কর্মসূচীগুলোতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসছে সংসদ নির্বাচন এবং সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজনের দাবি নিয়ে ডাক দেওয়া আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বগুড়ায় বিএনপির জেলা কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে তৃণমুলের নেত-কর্মীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন সেটা তারা নানাভাবে জানার চেষ্টা করছেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং তার মুক্তির দাবিতে গত ১১ জুলাই কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে জেলার কাহালু থেকে আসা থেকে আসা মজিবর রহমান নামে এক কর্মী জানান, বিএনপির নতুন কমিটি হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কেউ বলছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্ব পরিবর্তন হচ্ছে; আবার কেউ কেউ বলছেন সভাপতিকে রেখে অন্য পদগুলোতে নেতৃত্ব পরিবর্তন করা হচ্ছে। বুঝতে পারছি না কি হচ্ছে আসলে?’ আরিফুর রহমান নামে শহরের বাদুড়তলা এলাকার এক কর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কের পশ্চিমে এবং দক্ষিণে পুলিশের দেওয়া তারকাঁটাসহ লোহার তৈরি বেষ্টনী দেখিয়ে বলেন, ‘ওই বেরিকেডের মধ্যে মিছিল করে পত্রিকায় ছবি ছাপিয়ে কোন লাভ হবে না। বেরিকেড ভাঙ্গার মত নেতা লাগবে। এ জন্য নতুন নেতৃত্ব চাই। তা না হলে কোনদিনই শক্ত আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।’
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় বগুড়াকে তাঁর দল বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই আখ্যায়িত করা হয়। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচন জেলার দু’টি আসন হাতছাড়া হওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের সেই ঘাঁটি অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে যায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২০১১ সালের পর থেকে কয়েক বছর দলটির নেতা-কর্মীদের রাজপথে কিছুটা সক্রিয় হতে দেখা যায়। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং একের পর মামলার কারণে নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
বগুড়ায় বিএনপির সর্বশেষ জেলা কমিটি গঠিত হয় ২০১১ সালে ৭ এপ্রিল। ৩ সদস্য বিশিষ্ট (সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক) ওই কমিটি গঠনের প্রায় নয় মাসের মাথায় ২০১২ সালের শুরুতে ১৭২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা থাকলেও অর্ধযুগে তা করা সম্ভব হয়নি।
দলীয় সুত্রগুলো জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ২০১৫ সালের শুরুতে বগুড়ায় দলটিকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা কমিটি পুনর্গঠনের দাবি তোলা হয়। এমনকি কেন্দ্র থেকেও কয়েকবার তাগাদা দেওয়া হয় এবং একই বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তা কার্যকর করতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এবং ৩১ ডিসেম্বর আর দু’ দফা দফা সময় দেওয়া হলেও তা ভেস্তে যায়। অভিযোগ রয়েছে, আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি। এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।
মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন না করা নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যকার এই বিরোধ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় হাইকমাণ্ডের পক্ষ থেকে প্রায় এক বছর আগে বগুড়ায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকমা-ের কাঠের মনোভাব বুঝতে পেরে ২০১৭ সালের আগস্টের শুরুতে জেলা নেতারা প্রথমে তৃণমুল পর্যায়ে কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও জেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। তবে গত ৫ জুন থেকে ১৫ জুনের মধ্যে ১০ দিনে বগুড়ায় একে একে মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি পুনর্গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এবার আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। সহযোগী ওই তিনটি সগংঠনের মধ্যে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নতুন মুখের হাতে তুলে দেওয়া হলেও যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্ষেত্রে সভাপতিকে স্বপদে বহাল রেখে অন্যান্য পদে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দু’টি প্রক্রিয়ার কথা বেশ আলোচিত হচ্ছে। একটি হলো- বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দু’টি পদেই পরিবর্তন আনা এবং অপরটি হলো সভাপতিকে স্বপদে রেখে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদ পরিবর্তন করা। বলা হচ্ছে তৃণমুলের নেতা-কর্মীরা প্রথম প্রক্রিয়াটির প্রতিই বেশি সমর্থন জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন এবং সাধারণ সম্পদাক হিসেবে জেলা কমিটির বর্তমান সহ-সভাপতি এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর হেনার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তবে বর্তমান জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলামের অনুসারীরা তাকে স্বপদে বহাল রেখে সাধারণ সম্পাদক পদে দলের জেলা কমিটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শোকরানাকে দেখতে চান। তবে এসবের বাইরে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাবেক জেলা সভাপতি বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, এম আর ইসলাম স্বাধীনসহ আরও একাধিক নেতার নাম কম-বেশি আলোচনায় রয়েছে।
অবশ্য একাধিক সূত্র বলছে, কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি পুরোপুরি লন্ডনে বসবাসরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি যাদেরকে উপযুক্ত মনে করবেন তাদেরকেই দায়িত্ব দিবেন। জানতে চাইলে, জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পদাক জয়নাল আবেদীন চাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিটি পুনর্গঠনের কথা অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু কবে এবং কিভাবে হবে সে বিষয়টি শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দই বলতে পারেন। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষে কিছুই বলা সম্ভব নয়।’

মন্তব্য