| প্রচ্ছদ

নওগাঁয় ডাক্তারের ধর্ষনের শিকার হয়ে প্রাণ দিলেন খাতিজা আক্তার নামে গৃহবধূ

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
পঠিত হয়েছে ৩৫১ বার। প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ২৬ জানুয়ারী ২০১৯ ।

নওগাঁয় কর্মস্থলেই  ডাক্তারের যৌন লালসার শিকার হয়ে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে খাতিজা আকতার (৩০) নামে এক গৃহবধূ। মারা যাবার পর তার ফোন রেকর্ড থেকে যৌন নিপিড়নের বিষয়টি জানা যায়। ওই ঘটনায় শুক্রবার অভিযুক্ত ডাক্তার হেলাল আহম্মেদ লিটনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে মৃত খাতিজার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ওই লম্পট চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।


নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল হাই ও খাতিজার স্বজনরা জানান, খাতিজা শহরতলীর আরজী নওগাঁ মধ্যপাড়ার রাজমিস্ত্রি জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী। ডাক্তার হেলাল আহম্মেদের বাড়ী নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া শিবপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম সরদার। ৫ বছর আগে শহরের পাটালীর মোড়ে শাহিন হোসেনের বাসার দুটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে পাইলস্ কিউর সেন্টার স্থাপন করেন ডাঃ হেলাল আহম্মেদ। প্রায় ৩ সপ্তাহ আগে ওই সেন্টারে আয়া কাম চেম্বার সহকারী হিসেবে চাকরি নেন এক সন্তানের জননী খাতিজা আকতার। ১৮ জানুয়ারী বিকেল ৫ টার দিকে ডাক্তার হেলাল আহম্মেদ তার চেম্বারের ভিতরে খাতিজা কে জোর পূর্বক ধর্ষন করে।

 

খাতিজার জা আয়েশা সিদ্দিকা জানান, ধর্ষনের শিকার হয়ে প্রাণ চঞ্চল খাতিজা নিরব পাথর হয়ে যান। খাতিজার হঠাৎ করে নিরব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার অনেক চেষ্টা করলে,সে জানায় ডাক্তার তাকে ধর্ষন করেছেন। এ লজ্জায় স্বামী, সন্তান বা অন্য কারও দিকে সে তাকাতে পারছে না। এক পর্যায়ে সে তার স্বামীর গৃহে ২০ জানুয়ারী বিকেলের দিকে বিষ পান করলে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালে ২২ জানুয়ারী রাতে মারা যায় খাতিজা।
 

খাতিজার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ২২ জানুয়ারি খাতিজাকে দাফনের পর খাতিজার মোবাইল ফোনে ওই ডাক্তার একাধিকবার ফোন করেন । কিন্ত আমি ফোন রিসিভ করিনি। ফোন চেক করতে গিয়ে ফোনে পাওয়া যায় তাকে ধর্ষনের বর্ণনাসহ রেকর্ড।পরে বিষয় টি নওগাঁ সদর থানায় জানানো হয়। এরপর পুলিশ খাতিজার বাবাকে বাদি করে ২৫ জানুয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই পুলিশ ডাক্তার হেলাল আহম্মেদকে গ্রেফতার করেন। খাতিজার মা সাহানাজ খাতুন বলেন ওই ডাক্তার আমার ৫ বছর বয়সী নাতনী জামিয়া খাতুনকে মা হারা করেছে। আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।
 

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল হাই জানান, শুক্রবার ডাঃ হেলাল আহমেদকে তার পাটালীর মোড়ের চেম্বার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের জিঙ্গাসাবাদে খাতিজাকে ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছেন ডাঃ হেলাল আহম্মেদ। 
 

মন্তব্য