| প্রচ্ছদ

লাশ ছয় টুকরো করে ওয়ার্ডরোবে রাখে স্ত্রী

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২১৭ বার। প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী ২০১৯ । আপডেট: ২৭ জানুয়ারী ২০১৯ ।

বেতনের টাকা নিয়ে কলহের জেরে স্বামী রফিকুল ইসলামকে হত্যার পর ছয় টুকরো করে বস্তায় ভরে ফেলে দেয় তার স্ত্রী জীবননাহার মেঘলা। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় স্বামীর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করলে খাট থেকে নিচে পড়ে যান রফিকুল। পরে উপর্যুপরি ইটের আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে তার শ্বাসরোধ করা হয়। এরপর ওয়ার্ডরোবে লাশ লুকিয়ে রেখে কারখানায় কাজে চলে যায় মেঘলা। ওইদিন রাতে বাসায় ফিরে বঁটি দিয়ে স্বামীর লাশ ছয় টুকরো করে বাড়ির কিছু দূরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় সে। শুক্রবার সকালে লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আটক করা হয় মেঘলাকে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।

পুলিশকে দেওয়া স্বামী হত্যার বর্ণনায় মেঘলা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে কারখানা থেকে বাসায় ফিরে লাশটি ওয়ার্ডরোব থেকে বের করে বঁটি দিয়ে কনুই থেকে দুই হাত, হাঁটু থেকে দুই পা ও ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে সে। পরে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ বস্তায় ভরে পাশের বাঁশঝাড়ে পা দুটি, কিছু দূরে একটি টয়লেটের পাশে মাথা এবং দুই হাতের খণ্ডিত অংশগুলো ড্রেনে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে এলাকাবাসী বাঁশঝাড়ের নিচে রক্তমাখা বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশের ভাষ্য, হত্যার আলামত ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে রফিকুলের লাশ ছয় টুকরো করে মেঘলা।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জীবননাহার স্বীকার করেছে, বেতনের টাকা নিয়ে রফিকুল ও মেঘলার মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এরই জেরে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামীকে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে ফেলে দেয়, যাতে সে ধরা না পড়ে। ঘটনার পর নিহতের বাবা আবদুল লতিফ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। এই দম্পতির মাজিয়া আক্তার রোজা নামে চার বছরের এক কন্যা রয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, পাঁচ বছর আগে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার উলামাকান্দি এলাকার আবদুল লতিফের ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষমপুর গ্রামের চাঁনমিয়ার মেয়ে জীবননাহারের বিয়ে হয়। তাদের মেয়ে রোজা নানাবাড়ি থাকত। ঘটনার দিনও সে বাসায় ছিল না। চাকরির সুবাদে রফিকুল স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ির মেঘনা কারখানার সীমানা প্রাচীরের পাশে গিলারচালা এলাকায় আবদুল হাই মাস্টারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

রফিকুল স্থানীয় 'হাউ আর ইউ' টেপটাইল কারখানায় লোডার পদে ও মেঘলা স্থানীয় মেঘনা নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় সুইং অপারেটর পদে চাকরি করত। স্বামী বেতন পেতেন সাত হাজার টাকা আর স্ত্রী পেত ১৩ হাজার টাকা। বিভিন্ন সময়ে স্বামী তার স্ত্রীর বেতনের টাকা তার কাছে দিতে বলতেন। তবে জীবননাহার বেতনের টাকা তার কাছে না দিয়ে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিত। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। সপ্তাহখানেক আগে জীবননাহার স্বামীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলেছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে রফিকুল খাটে শুয়ে থাকেন। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবননাহার ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করে।

শ্রীপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে রফিকুলের বাবা আবদুল লতিফ বাদী হয়ে জীবননাহারকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় জীবননাহারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মন্তব্য