| প্রচ্ছদ

বগুড়ার আকাশে ড্রোন

মেহেদী মাসুদ বিপু , স্কটল্যান্ড থেকে
পঠিত হয়েছে ১০০৯ বার
বগুড়া সহ বাংলাদেশের সর্বত্র এখন বাড়ছে নিষিদ্ধ ড্রোন (মনুষ্যবিহীন উড়োযান) এর ব্যবহার। সামাজিক মাধ্যমে কিছুদিন হলো দেখা যাচ্ছে  যে,বগুড়াতে ড্রোন ব্যবহার করা যেন এখন অনেকটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রোন দিয়ে ব্যস্ততম জনবহুল এলাকায় উড়ানো হচ্ছে ড্রোন । স্থানীয় প্রশাসনের কোন অনুমতি আছে কিনা জানা নেই তবে  অনেকেই  ব্যবহার করেছেন নিষিদ্ধ ড্রোন। কোমলমতি কিশোরদের কাছে ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ফটোগ্রাফি এখন একটি শখ কার কাছে কত দামি ক্যামেরা আছে আর কে কত দূরপাল্লার লেন্স ড্রোন ব্যবহার করে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বাহবা কুড়ানোর প্রতিযোগীতা এখন প্রকট ভাবে দৃশ্যমান। এটি অনেকটা সংক্রামক রোগের মতো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুততারসাথে । অনেক অভিভাবক এখন সন্তানদের  মন রক্ষায় তাদের দাবী মেনে নিচ্ছেন অনিচ্ছা সত্বেও অর্থ দিচ্ছেন ড্রোন কেনার জন্য। মাঝে মাঝেই সন্তানের দাবি পূরণে ব্যর্থ হলেই ঘটে যাচ্ছে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা । প্রযুক্তি জীবন কে যেমন সমৃদ্ধ করে দিয়েছে জীবনকে গতি তেমনি বাড়িয়ে দিয়েছে অপরাধের মাত্রা এবং সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যা থেকেই দেশে রূপ নিচ্ছে এক অমোঘ অস্থিরতা সেটা রাজনীতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সেটার উদাহরণ এখন অনেক  অভিভাবকরা হয়তো জানেনই না তার সন্তানদের আবদার পূরনের মাধ্যমে কিভাবে ঠেলে দিচ্ছেন সন্তানদের ঝুঁকিপূর্ণ এক  ডিজিটাল আসক্তিতে । সবাই যে এর মধ্যে পরে তা কিন্তু নয় ব্যতিক্রম রয়েছেই কিছু কিছু ব্যাপারে, প্রযুক্তিগত পণ্যের ব্যবহারের অপপ্রয়োগের সম্পর্কে অজ্ঞতা সন্তানদের কে এই ঝুঁকিতে নিয়ে যাচ্ছে কিভাবে তারই এক ধারণা দেবার জন্য এই লেখা । 
 
সম্প্রতি বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রনে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছেন। বিভিন্ন ধরণের মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষ এই আইন প্রণয়নের মূল ব্যাপারটি নিয়ে জ্ঞাত হয়নি। সবাই ভাবেন এটা করা হয়েছে সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য আসলে তা মোটেই নয়। এর অনেক ক্ষেত্র রয়েছে তার একটির অবতারণা করছি। ক্যামেরার লেন্সে ধারণকৃত ছবি বা চিত্রের ব্যবহারবিধি কিভাবে করা যাবে বা যাবেনা তা নিয়ে সাধারণ মানুষের নুন্ন্য়তম ধারণা নেই। আর এই জন্য প্রতিনিয়ত সব অনৈতিক ঘটনা আমরা দেখতে পাচ্ছি খবরে, সামাজিক মাধ্যমে। আধুনিক ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত অপরাধ দমন এবং তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পাশ্চাত্য বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে তখন আমাদের দেশের সীমাবদ্ধতার কথাটাই প্রারম্ভে ভাবা উচিত। সব কিছু রাষ্ট্র বা  সরকার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে আমরা নিজেরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারি না, নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়ব্ধতা আছেই। 
 
এই লেখার মূল কারণ হলো আমরা যে প্রযুক্তি বা যন্ত্র আমাদের দৈনিন্দন জীবনে ব্যবহার করছি তার সাথে রাষ্ট্রের নীতিমালা কি সাংঘর্ষিক? না অবৈধ? সেটাই প্রতিপাদ্য। বাংলাদেশে ভোগ্য প্রযুক্তি পণ্য মোবাইল বা ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে বিধিনিষেধ না থাকলেও ড্রোন নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও বিধিনিষেধ ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে যা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের সবার জানা প্রয়োজন। আমাদের সবার উচিত আমাদের সন্তানদের হাতে ড্রোন তুলে দেবার আগে এই যন্ত্র নিয়ে যে আইন কানুন বা বিধি আছে তা ভালোভাবে জানা। বিত্তবানদের ড্রোন  ফ্যাশনের দিকে ধাবিত হওয়া মানেই আপনি আপনার সন্তান কে কোন পরিণতির দিয়ে ছুড়ে দিচ্ছেন তা একবার হলেও ভাবুন। আমি নিশ্চিত বিত্তবানরা অনেকেই তাদের সন্তানদের এই আবদার শুনে ফেলেছেন। এর ধারাবাহিকতায় এই ড্রোনে ব্যবহার মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের কেও নাড়া দিয়েছে।  যাদের কাছেই আধুনিক ক্যামেরা আছে এতদেরই লক্ষ্য এখন একটি ড্রোন। বাংলাদেশে ড্রোন  কিভাবে ঢুকছে কিভাবে বিক্রি বা তৈরী হচ্ছে  মানুষের কাছে কিভাবে ড্রোন আসছে ইটা আমার এই লেখায় বিবেচ্য নয়।  দেশে যেমন মাদক কিংবা অবৈধ পণ্যের চালান রয়েছে এবং তা বন্ধ করতে সরকার তৎপর  তেমনি এই ড্রোন নিয়েও পুলিশ বা শুল্ক দপ্তর তৎপর হবে আশা করা যায়।   
 
অনেকের কাছেই ড্রোন এখন একটি পরিচিত শব্দ।  বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নীতিমালার তোয়াক্কা না করে চালকবিহীন ছোট উড়ন্ত যান বা ড্রোন এখন বগুড়াতে  তো বটেই সাড়া  দেশে উড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে ড্রোন আমদানির ওপর এক বছর ধরে স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবু ছোট এই উড়ন্ত যান বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। চাইলেই ভাড়াও পাওয়া যায়। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী কিছু ড্রোন দেশেই তৈরি করে দিচ্ছে কিছু প্রতিষ্ঠান।  নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে ড্রোন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু অনেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যত্রতত্র ড্রোন ব্যবহার করছে। নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি অনুমতি ছাড়াই ড্রোন আমদানি। দেশের বিভিন্ন মার্কেটে সহজেই মিলছে রিমোট কন্ট্রোলচালিত চীনে তৈরি ড্রোন। বিমানবন্দর কিংবা পার্শবর্তী দেশ থেকে চোরাচালান হয়েই শিশুদের খেলনার কথা বলে আনা হচ্ছে ড্রোন যা মোটেই খেলনা নয় । সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া দেশেও তৈরি হচ্ছে চালকবিহীন ক্ষুদ্রাকৃতির এ আকাশযান। এসব ড্রোন বিক্রি হচ্ছে কোনো দোকানে নয়, সামাজিক মাধ্যমে বা অনলাইনে। আগেই বলেছি সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইনে অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আমাদের প্রশাসন করতে পারছেন না। বগুড়াতে বিজ্ঞান মেলাতে খুদে বিজ্ঞানীরা ড্রোন  বানালেও সেই ড্রোন আকাশে উড়ানোর অনুমতি দেয়া হয়নি। ছাত্রদের এই উদ্ভাবনী আনন্দ যেন তার পে এই কারণে সরকার এসব দেখেও নিশ্চুপ আছেন। 
 
ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে  কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের সামাজিক মাধ্যমের একাউন্টে,পেজে  বা গ্রুপে ড্রোন ব্যবহার এর ছবি বা চিত্র প্রচার করছে। এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠান যেমন গায়ে হলুদ বা বিয়ের অনুষ্ঠান ভিডিও করতেও এখন লাইসেন্স বিহীন ড্রোনের ব্যবহার হচ্ছে। বাড়ির ছাদে ড্রোন উড়াচ্ছে ঘুড্ডির মত সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তা দেখার জন্য। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, দেশের আকাশসীমায় ড্রোন ওড়াতে হলে দেড় মাস আগে অনুমতি নিতে হয় নির্দিষ্ট একটি ফর্মের মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়ে । আর কেউ নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই ঘোষনা পর্যন্ত দেয়া আছে। কিন্ত অবাক করা কান্ড এই ড্রোন অধীকাংশ অবৈধ চোরাচালানকৃত এবং এসব উড়ানোর কোনো অনুমতি কারো নেই এবং এমনকি কেউ পরোয়া করছে  না ।  এক অর্থে সম্পূর্ণ একটা দন্ডনীয় অপরাধ সংগঠিত করছে বুক ফুলিয়ে।   এখন আসি এই ড্রোন  কেন নিষিদ্ধ? কি হয় ড্রোন উড়ালে আমি তো কোনো ক্ষতি করছি না।  কিন্তু এর ভিতরে একটু নজর দিলেই বেড়িয়ে আসে কিছু প্রকট বিষয়। কিছু  মৌলিক সমস্যার কথা বিবেচনা করেই সরকার ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছেন সাধারনের জন্য। তাহলে দেখা যাক সমস্যা গুলো কি?
 
যেসব কারনে বাংলাদেশের আকাশ সীমায় ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ সেগুলো মূলত : 
 
১. বাংলাদেশের সংবেদনশীল ,সংরক্ষিত স্থাপনা বা এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে ছবি,চিত্র তোলা বা সংরক্ষণ করা সম্ভব  যা একটি  সাধারনের জন্য নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। 
২. ড্রোনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করা সম্ভব যা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ পেয়েছে। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন  ড্রোন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা করা সম্ভব যা জঙ্গি গোষ্ঠী ব্যবহার করতে পারে ।
৩. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা যেমন আকাশে উড়ন্ত বিমান কিংবা হেলিকপ্টারের সাথে সংঘর্ষ হবার সম্ভাবনা কিংবা বৈদ্যুতিক তারের সাথে দুর্ঘটনার মাধ্যমে মারাত্মক  বিপর্যয়ের সম্ভাবনা।
৪. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার নিমিত্তে বা নজরদারি । অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত কিংবা স্থাপনার ছবি তোলা ড্রোন  দিয়ে সম্ভব এবং  ইহা একটি দন্ডনীয় অপরাধ। কোথায় ড্রোন ব্যবহার করা যাবে তার নীতিমালা সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। 
৫. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যা কিনা সর্বোচ্চ একটি বিষয় পুরো জাতির জন্য। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিনা অনুমতিতে দেশের আকাশে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করে  বেসামরিক নির্মাণ চলাচল  । 
৬. দেশীয় অর্থ পাচার রোধ কল্পে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে ড্রোন আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এনবিআর। 
 
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার ড্রোন ব্যবহার শর্ত সাপেক্ষে চালনার অনুমতি দিয়েছেন যা হলো : 
 
যথাযথ কতৃপক্ষের নীতিমালা অনুযায়ী  ড্রোন ওড়ানোর ৪৫ দিন আগে বেসামরিক নির্মাণ চলাচল কতৃপক্ষের থেকে অনুমতি নিতে হবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সেটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দেয় বেবিচক তবেই ড্রোন উড়াতে পৰ যাবে । পাঁচ পৃষ্ঠার এ আবেদন পত্রে ড্রোন কোথায় ওড়ানো হবে, কে ওড়াবে, ড্রোনের আকার, সেফটি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিতে হয় আবেদনকারীকে। এবং ড্রোনটি  অবশ্যি বৈধ লাইসেন্সকৃত হতে হবে। সিনেমা, নাটক প্রামাণ্য চিত্র বিজ্ঞাপন নির্মাণে এই অনুমতি দেয়া হয়েছে সীমিত আকারে। 
 
ড্রোন ব্যবহারের নিয়মাবলী : 
 
বেসামরিক বিমান চলাচল ইতিমধ্যেই ড্রোন নিয়ে একটি নীতিমালা দিয়েছে । রেগুলেশন ফর অপারেটিং রিমোটলি পাইলট এয়ারক্রাফট  সিস্টেম (আরপিএএস) নামে এ নীতিমালায় বলা হয়েছে— আঠারো বছরের কম বয়সী কেউ ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি পাবেন না। মদ্যপানের আট ঘণ্টার মধ্যে কেউ ড্রোন ওড়াতে পারবেন না। ড্রোনটি কোনও ক্ষতি সাধন করলে,ক্ষতির দায় ড্রোনের মালিককে বহন করতে হবে। ড্রোন যে স্থানে ওড়ানো হবে, সে স্থানের ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে অবহিত করতে হবে। ভূমি থেকে ২০০ ফিটের বেশি উচ্চতায় ড্রোন ওড়ানো যাবে না। যে কোনও বিমানবন্দরের , সেনা বা বিমান বাহিনীর এলাকার  ১০ নটিকেল মাইলের মধ্যে ড্রোন ওড়াতে হলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছ থেকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ড্রোন উড্ডয়নে বিধিবিধান মানার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে বলা হয়— ‘বাংলাদেশের আকাশ সীমায় সব বিমান চলাচল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রেগুলেশন এবং বিমানবাহিনীর নির্ধারিত নিয়মনীতি ও সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। পরীক্ষামূলক ড্রোন বা রিমোর্ট কন্ট্রোল চালিত বিমান/হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ানোর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাহিনীর অনুমোদন নিতে হবে।’ একজন ব্যক্তি এক সঙ্গে একাধিক ড্রোন ওড়াতে পারবেন না। কোনো জনবহুল বা উচ্চ দালান আছে এমন স্থানে বা এলাকায় ড্রোন উড়ানো একদম নিষিদ্ধ। 
 
উপরক্ত বিষয় গুলো পর্যালোচনা করলে এই প্রমাণিত হয় না যে আমরা আশেপাশে যেভাবে ড্রোন উড়ানো দেখছি তা কত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মারাত্মক? অথচ এই ড্রোন অনেকেই শখের বশেই উড়িঁয়ে নিজের অজান্তেই বেআইনি কাজ করছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এর ভয়াবহতা নিয়ে যদি আমরা সচেতন না হই তবে আমাদের সন্তানরা যেকোনো সময়ে নিজের জীবন বিপন্ন করতে পারে। আর এর জন্য আমরা অভিভাবকরাই সর্বাগ্রে  দায়ী। তাই সন্তানের এই চাহিদা পূরণ করার আগে তাকে বোঝানো উচিত ড্রোন অবৈধ  অস্ত্রের মতোই একটি বেআইনি পণ্য।
 
আগেই বলেছি আমাদের প্রশাসনের অনেক সীমাবদ্ধতার কথা। দ্রুত প্রসারমান এই তথ্যপ্রযুক্তি দ্বারা কৃত অপরাধ দমন প্রশাসন বা পুলিশের জন্য একটি বিশাল ব্যাপার। খুশির বিষয় বগুড়া জেলাতে সম্প্রতি পুলিশের একটি  সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট পৃথক ভাবে খোলা হয়েছে। তারা এখন অনেক কিছুই করতে সচেষ্ট কিন্ত  তার মানে এই নয় যে তারাই সব কাজ করবে।  আমাদের দায়িত্ব  নিতে হবে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করবার।  সেইদিন আর বেশি দূরে নয় ড্রোন ব্যবহার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় চলে আসবে এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়াতে পরে যাবে এই সংক্রান্ত মামলা । আমাদের বোঝা উচিত একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই রাষ্ট্রের নিরাপত্তার হুমকি স্বরুপ এই ড্রোন ব্যবহারকারীকে সাবধান করা আমাদের সবার কর্তব্য। এর পরও যদি কেও না শোনে তবে যথাযথ কতৃপক্ষের গোচরে আনলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এর নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষ করতে পারবেন। কেউ যদি সামাজিক মাধ্যমে বা ব্লগে  ড্রোন থেকে তোলা কোনো ছবি বা ভিডিও  প্রদর্শন করে তবে তাকে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন বা চ্যালেঞ্জ  করুন তাতেও ব্যবহারকারীর মাঝে সচেতনতা আসবে বলে আশা করা যায়। 
 
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি চিন্তা করে যে আইন বা বিধিমালা সংসদ কিংবা সরকার প্রণয়ন করেন তা বোঝা বা পালন করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। ড্রোন উড়ানোর অপরাধে  আদালতে গিয়ে যদি কেউ বলে আমি আইন জানিনা তবে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হয় না আইনের কাছে।  তাই আমরা  সচেতন হয়ে আমাদের পরবর্তি প্রজন্মকে বোঝানোর দায় কখনোই এড়াতে পারবো না।  সরকারের কাছে জনগণের আশা এই বিষয় গুলোকে মাথায় রেখে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করবেন অচিরেই  এবং জনসচেতনা জন্য সার্বজনিন ভাবে প্রচার করবেন।  একটি দেশ তখন একটি সুন্দর ধারায় চলে যখন একটি পরিবারে  শৃংখ্যলা শিক্ষা ও চর্চা হয়। এটা সরকার কিংবা পুলিশের ব্যাপার না এ পরিবারের ব্যাপার। তাই আসুন আমরা সচেতন হই অন্যকেউ সচেতন করি । 

মন্তব্য