| প্রচ্ছদ

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৯

‘পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ১২৩ বার। প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ । আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে বিসেফ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ২ ফেব্রুয়ারী, শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব এর কনফারেন্স রুমে ‘পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নাগরিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
 
কৃষিবিদ ডঃ সৈয়দ মনোয়ার হোসন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিবিসি টেলিভিশনের বিজনেস নিউজ এডিটর প্রণব সাহা, জাতিসংঘের খাদ্য কৃষি সংস্থার সিনিয়র ন্যাশনাল এডভাইজার ডাঃ শাহ মনির হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডঃ সৈয়দ আরিফ আজাদ, নিরাপদ খাদ্য নেটওয়ার্ক এর চেয়ারম্যান মহিদুল হক খান, গবেষক টিআইএম জাহিদ হোসেন, ডঃ তাজুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য হোসনে আরা লাভলীসহ খাদ্য ও কৃষিখাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মিটন। 
 
সভায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ২৪০০ কোটি টাকার খাবার গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সকলেরই জানে উক্ত খাবারে বেশির ভাগই অনিরাপদ। খাদ্যে ভেজাল ও দুষণ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণে এক বিরাট ঝুঁকি হিসেবে এখনও বিরাজমান। তাই ক্ষেত থেকে পাত পর্যন্ত খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। এই প্রেক্ষাপটে “সুস্থ সবল জাতি চাই, পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০১৯ সালের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। জানামতে, বাংলাদেশ পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যেখানে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ পালিত হয়। 
 
বাংলাদেশের মহান সংবিধানের ১৫ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিকের খাদ্যের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম ‘মৌলিক দায়িত্ব’। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যক্তির শারিরীক ও মানসিক চাহিদাপূরণ, আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ খাবারের স্থায়ী যোগানের নিশ্চয়তা বিধানই হচ্ছে খাদ্য অধিকারের মূল কথা। 
 
সভায় আলোচকবৃন্দ তাঁদের বক্তায় উল্লেখ করেন, খাদ্য নিরাপদ হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় নানা প্রক্রিয়ায় খাদ্য দূষিত হচ্ছে। বাড়ছে অসংক্রামক রোগ। উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে খাদ্য নিরাপদতায় সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সভায় উপস্থিত সকলেই রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের খাদ্য অধিকারের অংশ হিসেবে নিরাপদ খাদ্যের দাবী ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আলোচকদের বক্তব্য ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে বিসেফ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মহলের নিকট নিম্নোক্ত প্রস্তাবসমূহ পেশ করা হয়: 
 
১.  আইন, বিধি ও প্রয়োগ সম্পর্কিত / সার্টিফিকেশন ইত্যাদি 
- কোডেক্স এর আলোকে বাংলাদেশ মানদন্ড (গ্যাপ) চূড়ান্ত করা
- কমিউনিটি সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা (পিজিএস) তৈরী করা
- মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা সহজলভ্য করা (বাজার ও ভোক্তা পর্যায়ে)
- নিরাপদ খাদ্য আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা
- হাট/বাজারভিত্তিক কমিটি গঠন করে নিরাপদ খাদ্য বিপণন তদারকির দায়িত্ব প্রদান করা
- নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবীক্ষণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একটি ‘হটলাইন সেবা’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা  
২.  নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন
- নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় লাগসই প্রযুক্তি গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা
- খাদ্য উৎপাদনে অনিয়ন্ত্রিত / ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান  যেমনঃ আগাছানাশক, কীটনাশক, এন্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, ইত্যাদি) ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও ব্যবহার হ্রাস করা।
- খাদ্য উৎপাদনে বিকল্প নিরাপদ প্রযুক্তি (বায়ো ফার্টিলাইজার / পেষ্টিসাইড, ইফেকটিভ মাইক্রোঅর্গানিজম, নিরাপদ সংরক্ষক, ইত্যাদি) দেশে উৎপাদন ও বাজারে সহজলভ্য করা 
- উৎপাদিত খাদ্যের বিবরণ, ব্যবহৃত উপাদান, খাদ্য/পুষ্টিমান, সম্ভাব্য ঝুঁকি/পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি লেবেলিং নিশ্চিত করা 
- নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক উপকরণ সহজলভ্য করা, প্রয়োজনে ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা
- নিরাপদ খাদ্য উৎপাদক সমিতি বা কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ গঠনকে উৎসাহিত করা, রেজিষ্টেশন প্রদান করা
৩.  প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ, বিপণন 
- নিরাপদ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা 
- ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি কমিউনিটি উদ্যোগে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট স্থাপনে সহায়তা করা
- ‘কমিউনিটি ষ্টোরেজ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করা 
- নিরাপদ খাবার বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা জোরদার করা 
- বাজার কমিটি বা কমিউনিটি কর্তৃক সত্যায়িত নিরাপদ খাবার বিপণনের ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা
- গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করে সামাজিকভাবে ‘গুড উইল ব্র্যান্ডিং’ সৃষ্টি করা  
- উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের সংগ্রহোত্তর নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা
৪.  বিনিয়োগ / অর্থায়ন
- নিরাপদ খাদ্য গবেষণা ও সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এই খাতে অনুদান প্রদানকে ‘কর রেয়াত’ সুবিধা প্রদান করা 
- নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বিশেষ তহবিল গঠন এবং ‘নিরাপদ খাদ্য ফাউন্ডেশন’ গঠন করা
- নিরাপদ খাদ্য ‘ভ্যালু চেইন’ ব্যবস্থাপনায় স্পেশাল ফিনানন্সিয়াল প্যাকেজ চালু এবং কৃষিঋণ নীতিমালায় অন্তর্ভূক্ত করা
- নিরাপদ খাদ্যে সহজলভ্য এবং স্বল্প সুদে ঋণ পাবার নিশ্চয়তা বৃদ্ধি করা 
- বিনিয়োগ ও অর্থায়ন সম্পর্কিত বিদ্যমান তথ্যাদি সর্বস্তরে সহজবোধ্য ভাষায় প্রচার করা 
 
৫.  নিরাপদ খাদ্য সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন/ বিকল্প পরিবহণ 
- দেশের সকল বাজারের ভৌত পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নত করা
- নিরাপদ খাদ্য / উৎপাদক বান্ধব বাজার তৈরীতে সহায়তা প্রদান করা
- খাদ্য অপচয়রোধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা
- নৌপথ, রেলপথসহ সকল ক্ষেত্রে বিশেষায়িত ও অগ্রাধিকারমূলক পরিবহন ব্যবস্থাপনা তৈরী করা
- পথখাবারের দোকান, খুচরা বিক্রেতা, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ খাদ্য পরিবেশনের সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত বিক্রয় যান / বিক্রয় কেন্দ্র তৈরীর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান 

মন্তব্য