| প্রচ্ছদ

হৃদরোগের সত্যিকার চিকিৎসা ‘সাওল’

রোটারিয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদঃ
পঠিত হয়েছে ৬৮৩ বার। প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৮ । আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৮ ।

হৃদ রোগ আধুনিক সময়ের সবচেয়ে সাধারণ আর ঘাতক রোগ। বিগত বছরগুলোয় ধারণা ছিল, একবার হৃদরোগ হলে তা শুধু বেড়েই চলে। অর্থাৎ এটা লাগাতার বেড়ে চলা এক রোগ। দীর্ঘ কয়েক দশক এ রোগের কোন চিকিৎসা ছিল না। বিপুল সংখ্যক লোকের হার্ট অ্যাটাক হতো। তাদের অর্ধেক হাসপাতালে পৌঁছাবার আগেই মারা যেতো। এ রোগের প্রধান কারণ হার্টের ধমনীতে চর্বি জমে থাকা। অর্থাৎ কোলোস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের স্থায়ী জমা হওয়া। আর এ বিষয়কে আমরা আধুনিক জীবনযাপন বৈশিষ্ট্যের দ্বারা বাড়িয়ে তুলেছি। আমরা শারীরিক পরিশ্রম করা প্রায় বন্ধ করেছি। তেল, ঘি বা অন্য ফ্যাটস্ দিয়ে তৈরি যে খাবার খাই, তা আমাদের শরীর পূর্ণরূপে নিঃশেষ করতে পারে না। অনিঃশেষিত চর্বি বা ফ্যাট-মানসিক চাপ, ধূমপানের অভ্যাস, ডায়াবেটিস, অতি ওজন ইত্যাদি আরও কারণে শরীর ও হার্টের ধমনীতে জমতে শুরু করে। ফলে হৃদরোগের উৎপত্তি হয়। আমরা এ সাধারণ ব্যাপারকে বছরের পর বছর উপেক্ষা করে এসেছি। যার পরিণাম- মানব সমাজ ক্রমাগত বেড়ে চলা ও প্রাণঘাতী হৃদরোগের শিকার হচ্ছে।

ভালো খবর এই, আমরা আমাদের জীবনপদ্ধতিতে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে হৃদরোগের সম্ভাবনাকে থামাতে এবং হৃদরোগ কমাতে পারব। হার্টের ধমনীতে রক্তের প্রবাহকে বাধা সৃষ্টিকারী ফ্যাট ও কোলেস্টেরল সরানো যেতে পারে। চিকিৎসা গবেষণায় এখন এনজিওগ্রাফির দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, হৃদরোগ আধুনিক মেডিসিন- মেশিনের প্রয়োগ, আদর্শ জীবনপদ্ধতি, পরিকল্পিত খাদ্য-অভ্যাস, ব্যায়াম বিনা তেলের রান্না, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা, ধ্যান ও সাধারণ জ্ঞানের ভিত্তিতে কম করা যেতে পারে। এমন কি শেষ করাও যেতে পারে। আমরা পূর্ণাঙ্গ এ পদ্ধতির নাম রেখেছি সাওল- যার অর্থ বিজ্ঞান ও জীবনযাপন পদ্ধতির সুন্দর বোঝাপড়া। SAAOL-Science and Art Of Living.

অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান মানব শরীর সম্বন্ধে জ্ঞান রাখে, কোলেস্টেরল জমা হওয়ার ব্যাপারে জানায়, ট্রাইগ্লিসারাইডের রাসায়নিক ক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দেয়। অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান এও জানায়, কোন্্ খাদ্যবস্তর মধ্যে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড পাওয়া যায়, শরীরে কতটা ক্যালরি প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এ তথ্য ছাড়া, আমরা রোগ এবং তার কারণ সম্পর্কে জানতে পারি না। আধুনিক মেডিকেল যন্ত্র আর পদ্ধতি-ইসিজি, টিএমটি, কোলেস্টেরল টেস্ট ইত্যাদি করে আমরা হৃদরোগের অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে পারি। একজন মেডিকেল ডাক্তার হিসেবে ডা. বিমাল ছাজেড় [Dr. Bimal Chhajer, MBBS, MD] অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎকার ভালো জিনিসগুলোকে হৃদরোগের চিকিৎসায় সফলতাপূর্বক গ্রহণ করেছেন। এ চিকিৎসা বিজ্ঞানের কিছু অসঙ্গত জিনিসকে তিনি বর্জনও করেছেন।

অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার কিছু ত্রুটি আছে। এতে জীবনের সেসব চাপের ব্যাপারে কোথাও উল্লেখ নেই যা আজকের যুগে হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ। অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা মানসিক চাপের মাত্রা ও গভীরতাকে মাপতে অসফল হয়েছে। শুধুমাত্র কিছু ঘুমের ট্যাবলেট ও অস্থিরতা কম করার ওষুধ ছাড়া অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসায় এ সমস্যার কোন সমাধান নেই। যদিও এ চিকিৎসা প্রণালি এটা জানে, মানুষের মস্তিষ্কই হচ্ছে এসব চাপের বাসস্থান। কিন্তু এ চিকিৎসা মেনে নিতে অসমর্থ যে, ধ্যান ও মনোচিকিৎসার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

যদিও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এটা জানায়, কেবল কোলেস্টেরল ও ফ্যাটই হার্টে ব্লকেজের কারণ। কিন্তু এটা জানাবার চেষ্টা করে না যে, কোলেস্টেরলকে বাদ দিয়ে খাবার কি করে বানানো যাবে। এ চিকিৎসা ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, কিন্তু হৃদ রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপকারী ব্যায়াম যোগাসনকে এখনও স্বীকার করে না। অ্যালোপ্যাথি বিজ্ঞান সাধারণ বুদ্ধিকেও ভুলে বসেছে। হৃদরোগের বাস্তবিক সমসাগুলোর সমাধান করার বদলে এ বিজ্ঞান অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক পদ্ধতি বাইপাস সার্জারি এবং এনজিওপ্লাস্টিকে গ্রহণ করেছে। হার্ট ব্লকেজের মূলগত সমাধান না করে যত বেশি সম্ভব ওষুধ এবং ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এসব কারণে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার অযৌক্তিক জিনিসগুলোকে সাওল গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, সাওল হার্ট প্রোগ্রামের অধীনে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার ভালো জিনিস অর্থাৎ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রের ব্যবহার এবং লাইফস্টাইলের ভালো জিনিস নিয়ে দুটো অতি উত্তম সংমিশ্রণ করা হয়েছে। এই মিশ্রিত পদ্ধতিকে গত ২০ বছরে কিং জর্জ মেডিকেল কলেজ, অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স এবং গোটা ভারতে সাওল হার্ট প্রোগ্রাম নামে বিস্তার ও বিকশিত করা হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে সাওলের সার্থকতা লক্ষাধিক রোগীর দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। সাওল পদ্ধতির বিস্তার করার সময় হৃদরোগ ও হার্টের ব্লকেজ কম করার জন্য আমরা লাখো ব্যক্তিকে সহায়তা করেছি। সাওল ২৩ বছরে গভীর গবেষণা ও বিকাশের পরিণাম। সাওল ছোট একটি সংস্থা রূপে ১৯৯৫ সালে নতুন দিল্লিতে কাজ শুরু করে। আজ পৃথিবীময় সাওল ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের বিশেষত হৃদরোগীদের প্রশংসা আর স্বতঃস্ফূর্ত প্রচার দ্বারাই এর বিস্তার হয়েছে। যাঁরা এ পদ্ধতির চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন, তাঁরা অন্য রোগীকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমরা আমাদের রোগীকে সাওল পরিবারের একজন মনে করি এবং এ সংস্কৃতির নাম দিয়েছি সাওল সাংস্কৃতি। আজ সাওল শব্দটি সার্বভৌমিক হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর ৩০টির বেশি দেশে সাওল প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও আমেরিকা জুড়ে সাওল হার্ট সেন্টারের ৭০টি শাখা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

মন্তব্য