| প্রচ্ছদ

দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা

বগুড়ার হোটেল ‘নাজ গার্ডেন’ বিক্রির জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ২৪৭৫ বার। প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ । আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ।

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ‘নাজ গার্ডেন’ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শোকরানা। শহরের ছিলিমপুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে ১৫ দশমিক ১৯ একর জায়গার ওপর নির্মিত  ওই হোটেলের দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা। একাধিক সূত্র জানায়, আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারার কারণেই মালিক পক্ষ দৃষ্টি নন্দন ওই হোটেলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মালিক পক্ষের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ওই হোটেলটি বগুড়ার একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান ১২০ কোটি টাকায় কেনার জন্য প্রস্তাব করেছিল। অপরদিকে পাবনায় ওষুধ ব্যবসা শুরু করা বর্তমানে দেশের প্রসিদ্ধ একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ ১৬৭ কোটি টাকায় সেটি কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু মালিক পক্ষ তাতে রাজি হননি। এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক মোহাম্মদ শোকরানা ১৬ ফেব্রুয়ারি কানাডার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তার বড় ছেলে শাফিন আহম্মেদ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। রমজানের পূর্বেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বগুড়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে আলোচিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানা প্রায় দেড় দশক পূর্বে ১০৪ কক্ষ বিশিষ্ট তারকা খচিত (তিন তারকা) ওই হোটেলটি নির্মাণ করেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব (বর্তমানে ওই দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, লন্ডনে অবস্থান করছেন) তারেক রহমানের অনুরোধেই মোহাম্মদ শোকরানা হোটেলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এক সময়ের যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ শোকরানা ১৯৯৯ সালে তারেক রহমানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তবে ২০১৮ সালে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি।
মোহাম্মদ শোকরানার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। যে কারণে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের কথা ভাবছেন এবং হোটেলসহ সবকিছু বিক্রি করে কানাডায় বড় ছেলে শাফিন আহমেদের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মোহাম্মদ শোকরানা হোটেল বিক্রির পরিকল্পনার কথা স্বীকার করলেও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। পুণ্ড্রকথাকে তিনি বলেন, ‘আমি কেন দেশ ছাড়বো। আমার দুই নাতিকে দেখার জন্যই কানাডা যাচ্ছি। রমজানের পূর্বেই ফিরে আসবো।’ 
হোটেল বিক্রির কারণ জানতে চাইলে কয়েক মাস আগে নাজ গার্ডেনের বার সিলগালা করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায় নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোথাও আমরা প্রতিকার পাচ্ছি না। সে কারণে হোটেলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বগুড়া শহরের বাদুড়তলায় তার পুরনো বাড়ি বিক্রির কথাও জানান। রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া সংক্রান্ত গণমাধ্যমের খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ আমার বয়স এখন ৬৯। এই বয়সে দলকে আমি বেশি সময় দিতে পারবো না। তাই অবসরের কথা ভাবছি।’

মন্তব্য