| প্রচ্ছদ

সুখ-অসুখের বইমেলা-১

আমির খসরু সেলিম
পঠিত হয়েছে ২১০ বার

আমাদের দেশের বেশির ভাগ বইমেলার আয়োজক সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশকদের সংগঠনটি।  ভিন্নতায় এটির আয়োজন করেন স্থানীয় লেখকদের সংগঠন।  সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক আয়োজনে যুক্ত হয়।  বগুড়ায় এর ব্যতিক্রম।
জোট যদিও প্রতিবছর এই মেলা করে থাকে, তবুও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা তাতে থাকে না, ঢাকার সাথে তুলনাও করতে পারছি না, যেহেতু ওখানে শুধুমাত্র প্রকাশনা সংস্থা অংশ নেবার যোগ্যতা রাখে।  বগুড়ায় প্রকাশক স্বল্প, ৯০ ভাগ অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীও নয় ।  ফলে বগুড়ায় ‘শুধুমাত্র বইমেলা’ করা প্রায় অসম্ভব।  তারপরও অনেক তাড়াহুড়োর মাঝে বেশ ভালভাবেই বইমেলা শুরু হয় এবং শেষও হয়।  কথায় বলে, যার শেষ ভাল, তার সব ভাল। 

কিন্তু শুরু এবং শেষের মধ্যবর্তী সুখ-অসুখের গল্পগুলি কিছু মানুষেকে বড্ড নাড়া দেয়।  দহনে আহত করে।  তাই বলে মধুরতম দৃশ্যবলির সংখ্যাও এখানে কম নয়।
একটা শিশু দুহাতে বই আঁকড়ে ধরেছে।  প্রচণ্ড জিদে তার চোখমুখ লালচে।  বইটা এখনই কিনে দিতে হবে।  মা বলছেন, বাবা, চলো ঘুরি আগে, পরে কিনে দেব।  কিন্তু না, শিশুটির দাবি বিন্দুমাত্র কমে না।  খেয়াল করি, শিশুটির মায়ের মুখে রক্তবর্ণের ছটা আরো প্রবল।  হয়তো তার টাকার থলিটি পর্যাপ্ত ভারি নয়।  এরকম তীব্র সময়ে এগিয়ে আসেন বিক্রেতা।  উপহার দিয়ে বসেন বইটি।বিনীত মা তখন বিব্রত হতে থাকেন।  বিক্রেতা বলেন, দিয়ে যেয়েন আপা সময় করে!

আদিবাসী পরিষদের গবেষক নজরুল সাহেব, কবি মাসুদ রানা খেয়াল করছেন, যেসব লেখক নিজ উদ্যোগে বই প্রকাশ করেছেন অথচ বই রাখার জায়গা পাচ্ছেন না, ওরা তাদের জায়গা করে দিচ্ছেন।  বই তো রাখছেনই, লেখককেও বসার জায়গা করে দিচ্ছেন। 

কবি আজিজার রহমান তাজ তার দীর্ঘজীবী পত্রিকা ‘মল্লিকা’ ও জাতিয় কবিতা পরিষদের ব্যানার নিয়ে পরিশ্রম করেছেন।  গতরাতে তার স্টল থেকে ডেকোরেটর-টেবিলের লোহার পায়াটি চুরি গেছে।  এই নিয়ে তার কষ্ট আর ক্ষোভের প্রকাশ করলেন।  তাকে আর বললাম না, আমার বন্ধুদের স্টল থেকেও একই ঘটনা ঘটেছে। কি হবে কষ্ট বাড়িয়ে!

মন্তব্য