| প্রচ্ছদ

সুখ-অসুখের বইমেলা-৫

আমির খসরু সেলিম
পঠিত হয়েছে ১৫৯ বার। প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ । আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ।

কিছু মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, যা-ই ঘটুক, বগুড়া বইমেলা নিয়ে প্রতিদিন লিখব। হলো না। ‘হলো না’ এটাও আবার পুরোপুরি ঠিক না। কাগজে-কলমে (যেহেতু কাগজে-কলমে বহুদিন লিখি না, বলা উচিত কিবোর্ডে-মনিটরে..) না লিখি, মগজে-হৃদয়ে ঠিকই লিখেছি। প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি।

মন অন্ধকার থাকলে চোখও আলো দেখে না। বিরক্তি কাঁঠালের আঠার মতো চিপকে থাকে। তখন মনে হয় সব ছেড়ে-ছুঁড়ে দরজা-জানালা আটকে বসে পুরনো কোনো বই পড়ি।

বইমেলা নিয়ে লিখতে গিয়ে নানারকম মন্তব্য পাচ্ছি।উদাহরণ দিচ্ছি, সরাসরি: ‘বাহ, সুন্দর লিখছো, চালিয়ে যাও।’ কিংবা ‘ভাল বিষয় নিয়ে ভালই তো লিখছো, মন্দগুলো না লিখলেও পারতে।’ অ-সরাসরি: ব্যাটার কাম-কাজ নাই, জ্ঞান দিয়ে বেড়াচ্ছে।’ কিংবা ‘খালি তো গলাবাজি, পারলে বইমেলা করে দেখা।’

জ্ঞান বিতরণ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করছি না, তবে বইমেলার আয়োজন বিষয়ে সরাসরি আমাকে কিছু বলা খুব শক্ত। বন্ধুদের সাথে নিয়ে আমরা আয়োজন করেছি বগুড়ার প্রথম ‘বিজয়ের বই উৎসব’। আরো করেছি গ্রীষ্মের বই উৎসব, বসন্তের বই উৎসবসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বই নিয়ে নানা আয়োজন। এর কোনটাই আস্ত বইমেলার চেয়ে কম ছিল না।শুভবুদ্ধির কিছু মানুষ পাশাপাশি থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব।

বগুড়া বইমেলার নানারকম শূন্যতার ঘটনায় মন ভাল রাখাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অতি-গুরুত্বপূর্ণ (বলা যায়, সবচেয়ে বড়) আয়োজন এই বইমেলা। অথচ সামান্যতম প্রচারের ব্যবস্থা নেই।পরশু রাতে দেখলাম, বিভিন্ন স্টলের মালিক নিজেরাই স্টল-প্রতি একশ টাকা চাঁদা তুলে মাইকিং-এর ব্যবস্থা করছে।সামান্য ব্যয়ে একটা সাদা-কালো পোস্টারও কি ‘জোট’ করতে পারত না?

যারা নিজের চোখে মেলাপ্রাঙ্গনটি দেখেছেন, তারা সহজেই বুঝবেন, মেলার দুই প্রান্তে মাত্র দুজন মানুষ পাহারা দিলেই পুরো মেলার রাত্রিকালীন নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব। এদিকে স্টলগুলি থেকে ধারাবাহিকভাবে চুরি যাচ্ছে চেয়ার-টেবিল, ব্যানার-ফেস্টুন।

‘সামাজিক’ উৎপাত থেকেই রেহাই পাচ্ছি না, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ঐশ্বরিক’ উৎপাত। বৃষ্টি। শুনেছি ১ মার্চ শুক্রবার থাকায় দিনটিকে বইমেলার সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। এটা ভাল খবর।

অতীতের বইমেলাগুলিতে এরকম বেশ ক’বার ঘটেছে।সরকারি দপ্তরের বাজেট যুক্ত হয়ে বইমেলা তিন বা চারদিন বেড়ে গেছে।শুধু ব্যানারে ‘একুশে বইমেলা’ বদলে ‘স্বাধীনতার বইমেলা বা উৎসব’ লিখতে হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সৌজন্যে সেসব দিনের বাড়তি ভাড়াও দিতে হয়নি।

জানি না, কোনো ‘সম্মিলিত’ মগজে এসব ভাবনা আসে কি না! আমি শুধু করতে পারি প্রত্যাশা আর প্রতীক্ষা!

মন্তব্য