| প্রচ্ছদ

জেনে নিন কোন পরীক্ষার ফি কত

বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালে কখন কিভাবে পরীক্ষা করাবেন

জাকির আরেফিন শুভ
পঠিত হয়েছে ৬৬১ বার। প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০১৯ । আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৯ ।

যে বয়সে চঞ্চলতায় বাড়ী মাতিয়ে রাখার কথা সে বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বিশ্বের অগণিত শিশু কিশোর লোকচক্ষুর আড়ালে একধরনের অব্যক্ত কষ্টের জীবনযাপন করে চলেছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের শিশু কিশোরের সংখ্যা কম নয়। ডায়াবেটিক হাসপাতালগুলোয় খোঁজ নিলেই জানা যায় এর বাস্তব চিত্র! বড়দের পাশাপাশি শিশু কিশোরদের ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বলা যায়, পরিবারের সদ্য প্রসূত শিশু থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ, কেউ আর এখন শংকামুক্ত নয় ডায়াবেটিসের ভয়াল সম্ভাবনা থেকে। গত বছরের ডায়াবেটিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ও ছিল তাই “ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ।”
প্রতিটি রোগের মত ডায়াবেটিস রোগেরও বিশেষ কিছু লক্ষণ আছে। তবে অনেক সময়ই রোগীর শরীরে লক্ষনগুলো ষ্পষ্ট বোধ হয় না। শখের বশে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই ডায়াবেটিস আছে বলে জানতে পারেন। 

 

ডায়াবেটিস পরীক্ষা কোথায় কিভাবে করবেন :-
সব ক্লিনিক বা হাসপাতালেই ডায়াবেটিস নির্ণয়ের পরীক্ষা করা হয়। তবে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি অনুমোদিত ডায়াবেটিক হাসপাতালগুলোর রিপোর্টই অধিকতর গ্রহনযোগ্য।
বগুড়া ডায়াবেটিক সমিতি ১৯৮৩ সাল থেকে ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিসজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে। জেনে নেয়া যাক বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালে ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য আপনার করণীয়গুলি-
(ক) পরীক্ষা আগের দিন রাত ১০/১১ টার মধ্যে রাতের খাবার খেতে হবে। 
(খ) পরদিন সকালে খালি পেটে (অভুক্ত অবস্থায়) বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের আউটডোরে এসে সরাসরি লাইনে দাঁড়াতে হবে। এখানে অগ্রিম সিরিয়াল দেয়া হয়না।
(গ) বাহিরের চিকিৎসকের পরামর্শপত্র সঙ্গে আনলে সেখানে অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম উল্লেখ থাকতে হবে।
(ঘ) বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের কিছু অতি পরিচিত পরীক্ষার ফি জেনে নেয়া যাক- 
 খালি পেটে রক্তের সুগার পরীক্ষা ১২০/- 
 খাবারের দু’ঘণ্টা পর রক্তের সুগার পরীক্ষা ১২০/- 
 গ্লুকোজ খাওয়ার দু’ঘন্টা পর রক্তের সুগার পরীক্ষা ১৪০/- 
 এইচবিএ১সি ৫৫০/- 
 ক্রিয়েটিনিন ২০০/- 
 ট্রাইগ্লিসারাইড ২০০/- 
 কোলেস্টেরল ২২০/- 
 লিপিড প্রোফাইল ৭০০/- 
 ইসিজি ২০০/- 
 ইউরিন আর/ই ১০০/- 
 ইউরিন সুগার ১০/- 
 সিরিঞ্জ ব্যান্ড ১০/- 
 আল্ট্রাসনোগাম (প্রেগনেন্সি প্রোফাইল) ৫০০/-
(ঙ) এখানে ডায়াবেটিসসহ চক্ষু, গাইনী, দন্ত, শিশুরোগ, ফিজিওথেরাপী ইত্যাদি বিভাগও রয়েছে। পদবীভেদে চিকিৎসকের পরামর্শ ফি ১০০ থেকে ২৫০ টাকা।
(চ) বগুড়া শহরের নবাববাড়ী রোড, মাটিডালী (এসওএস স্কুলের বিপরীতে) ও দুঁপচাচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নে বগুড়া ডায়াবেটিক সমিতির ৩টি শাখা রয়েছে। যেকোন একটিতে এসে ডায়াবেটিস নির্ণয়ের পরীক্ষা করাতে পারেন।

 

সহজ কথায় জেনে নিন ডায়বেটিস কি :-
দেহের প্যানক্রিয়াস গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসৃত হয়। এই ইনসুলিন খাদ্যের গ্লুকোজকে ভেঙ্গে শরীরের শক্তি উৎপাদনের সহায়তা করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোন কারনে দেহে ইনসুলিনের উৎপাদন কমে গেলে বা উৎপাদিত ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে যায়। রক্তে গ্লুকোজ আধিক্যের এই পরিস্থিতিকেই বলা হয় ডায়াবেটিস (টাইপ-২ ডায়াবেটিস)। 
অন্যদিকে কারও কারও শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরী হয়না (টাইপ-১ ডায়াবেটিস)। এধরনের রোগীর সংখ্যা আমাদের দেশে তুলনামূলক কম। শতকরা ৫%-১০%। 
সুস্থ্য থাকার জন্য একজন ডায়াবেটিস রোগীকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রম ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহনের মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।


ডায়াবেটিসের লক্ষনসমূহ :-
 ঘন ঘন পিপাসা পাওয়া 
 ক্ষুধা পাওয়া 
 ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
 দুর্বলতা বোধ হওয়া 
 দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি। 

 

ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর দিক:-
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারনে অন্ধত্ব, হৃদরোগ, কিডনী রোগ, স্ট্রোক, দন্তরোগ ও পঙ্গুত্বের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি অনেকগুন বেড়ে যায়। অথচ সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলেই সুস্থ্য ও কর্মঠ জীবনযাপন করা যায়। 

 

ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার কারন :- 
 কায়িক পরিশ্রম না করা 
 মোটা বা স্থুলকায় হয়ে যাওয়া 
 অতিমাত্রায় ফাষ্টফুড খাওয়া ও কোমল পানীয় (সফ্্ট ড্রিংকস) পান করা 
 অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকা 
 ধুমপান করা ও তামাক খাওয়া 
 গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা 
 যাদের বাবা-মা অথবা রক্ত সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়দের ডায়াবেটিস আছে এবং যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশী তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কাজেই ডায়াবেটিস সম্মন্ধে তাদের অধিকতর সতর্ক থাকা দরকার। 

 

পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বে জনজীবনের বড় একটি দুর্ভোগের নাম হচ্ছে “ডায়াবেটিস মেলাইটাস বা ডায়াবেটিস রোগ”। এটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত নির্মূলযোগ্য কোন রোগ নয়। এটি সারাজীবনের সাথী। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এটাই, ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতার শুরু হোক এখন থেকেই। 

মন্তব্য