| সাহিত্য

রেশমা [দ্বাদশ পর্ব]

পঠিত হয়েছে ২৬৪ বার

দেলোয়ার মন্ডলের স্ত্রী,ছেলের জন্ম দিতে গিয়ে ১৫ দিন আগে মারা গেছে,২ বছরের আর একটা মেয়ে আছে রোকসানা। মা হারা বাচ্চা দুইটার জন্য যত চিন্তা। দেলোয়ার স্কুল শিক্ষক,৪ মাইল দুরের পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা। বাড়ির লোকেরা আবার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখছে। কেউ একজন খোঁজ দিয়েছে বসির উদ্দিনের মেয়ে সুফিয়ার। দেলোয়ার মন্ডল শুক্রবার যাবে মেয়ের বাড়ি,কথা ঠিক থাকলে সেদিনই বিয়ে। দেলোয়ার যতটুকু খবর নেওয়ার নিয়েছে। একটা সাড়ে চার বছরের মেয়ে আছে তার। তাতে দেলোয়ারের কোন আপত্তি নাই। দেলোয়ারের সন্তানদের যদি ঠিক ভাবে ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করে তাহলে সুফিয়া  কেনো সে তার সন্তানকে রেখে আসবে?

সব ভেবেই দেলোয়ার কিছুটা মত দিয়েছে,বাকীটা মেয়ের বাড়িতে যেয়ে ঠিক হবে।

এসব বিষয়ে বসির উদ্দিন বড় নাতির হাতে সালেহাকে চিঠি লিখে পাঠালেন-

মা সালেহা,
পত্রযোগে খবর পাঠালাম তাই আগেই মেয়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

বিয়ান কে আমার সালাম আর নিজে ভালোবাসা নিও। আমরা সবাই আল্লাহর অশেষ কৃপায় ভালো আছি। রেশমা ও ভালো আছে,তবে সে তার বড় মা আর দাদীর কথাও কম বলেনা!

মা সালেহা,তোমার বড় ফুপুর যে গ্রামে বিবাহ হয়েছে সেই গ্রামের ছেলে দেলোয়ার মন্ডন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ১৬/১৭ দিন আগে এক পুত্র সন্তান জন্মদিতে যেয়ে তার স্ত্রী বিয়োগ হয়। তার ২ বছরের একটা কন্যা আর সদ্যজাত পুত্র রয়েছে। বাকী সব খবরা-খবর ভালো। তারা রেশমাকেও নিতে আগ্রহী। এমনই প্রস্তাব করেছে তারা। আগামী শুক্রবার তারা সুফিকে দেখতে আসবে,আর সব কথা ঠিক থাকলে তখনই বিবাহ পড়াবে।

মা সালেহা তুমি ছাড়া তোমাদের বাড়ির বউ, মেয়ের বিষয়ে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না,তাই মা তোমাকে আর বিয়ানকে আমাদের পাশে অতিব প্রয়োজন। আমরা পথ চেয়ে আছি।

ইতি
তোমার আব্বা

সালেহা পত্র পেয়ে আর দেরি করেনি সব দায়িত্ব হাস্না নানিকে বুঝিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবারই সুফিয়ার বাবার বাড়ি রওনা হলো। কারণ সুফিয়ার কাছে রেশমা ছিলো এইটুকু তারা মেনে নিতে পারে কিন্তু সালেহা আর লাইলী যতক্ষণ বেঁচে আছে,রেশমাকে কোন ভাবেই অন্য কারো কাছে রাখবে না। যে করেই হোক রেশমাকে নিজের বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনবে সে।

সবাই বসেছে একটা সিদ্ধান্ত নিতে। রেশমার  মামা,নানার চাওয়া রেশমা থাকুক নানার বাড়ি,তাদের কোন আপত্তি নাই,রেশমার যত্নে কোন কমতি হবেনা।

সুফিয়া চায় সে যেখানেই থাকবে রেশমা তার সাথে থাকুক। এইটা যদি হয় তবেই সে এই বিয়েতে মত দিবে।

অনেক বুঝানোর পর সুফিকে বিয়েতে রাজি করানো হয়, আর সব শেষে সালেহা,সুফিয়া আর তার পরিবারের সদস্যরা বসে সিদ্ধান্ত নেয়,রেশমা থাকবে সালেহার কাছে। রেশমা ফিরে যাবে তার নিজের বাড়ি। তবে যখন মন চাইবে তখনই সে তার মার কাছে আসতে পারবে বা সুফিয়া চাইলেই মেয়ের কাছে যাবে।

স্বামীর সম্পত্তি পাওনা হিসেবে সুফিয়াকে ১০ বিঘা ধানী জমি,ছোট আম বাগান,পুকুরের এক অংশ আর বাড়ির জায়গার বদলে আরো দুই বিঘা দূরের ধানী জমি লিখে দেওয়া হয়েছে। তবে সুফিয়ার ভাইরা এখানে সুফিয়ার সম্পত্তি নিয়ে একটা মতামত জানায়,আর তা হলো-যেহেতু রেশমা পরবর্তিতে মা এর অংশ পাবে তাই সুফি যেনো আগেই রেশমাকে কিছু দিয়ে দেয়,যেমন- বাগান আর পুকুর। এগুলো সুফির দূর থেকে দেখা সম্ভব না, তাই রেশমাকে লিখে দিলে সালেহার নজরদারিতেই থাকবে। আর বলা যায় না সুফি যদি ভবিষ্যতে এই জমিগুলো রাখতে না পারে!?

সুফিয়া তার ভাইদের সিদ্ধান্ত মতে রেশমাকে পুকুর আর বাগান দিয়ে দেওয়ায় সম্মত হয়।

বিয়ের সময় সালেহার সব গহনা সুফিয়াকে দিয়েছিলো তাই কথা মতো অর্ধেক অংশ সুফিয়া নিবে আর অর্ধেক অংশ রেশমা পাবে। সেটাও সুফিয়া রেশমার জন্য দিয়ে দেয়।

শুক্রবার সুফিয়া আর দেলোয়ারের বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু তার স্ত্রী বিয়োগের মাস পার হয়নি তাই ঠিক করা হয় ১২ দিন পর তারা সুফিয়াকে ঘরে তুলবে। আর ১২ দিন পর রেশমাও তার নিজের ঘরে ফিরবে।

সালেহা মেয়েকে আবার ফিরে পাবার আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরে। লাইলী যেনো আবার জীবন ফিরে পেলো রেশমা ফরে আসার খবরে। পুরা বাড়িতে আবার নতুন প্রান ফিরে পাবে। রেশমাও চায় তার বড় মা'র কাছে ফিরতে। (চলবে)

মন্তব্য