| প্রচ্ছদ

নুসরাতের জন্য রাস্তায় নামলেন সেলিব্রিটিরা

পুন্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৮৯ বার

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) যৌন নিপীড়নের পর কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় রাস্তায় নেমেছেন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের সেলিব্রিটিরা। শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কর্পোরেশনের সামনের রাস্তায় যৌথভাবে মানববন্ধন করে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও ডিরেক্টরস গিল্ড। খবর যুগান্তর অনলাইন

মানববন্ধনে অংশ নেন শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন-বরেণ্য চিত্রনায়ক আলমগীর, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকন, ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক, শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুল আলম সাচ্চু, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম, চিত্রতারকা রিয়াজ ও অঞ্জনা, নাট্যজন সারা যাকের, পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী ও সংগঠক রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ।

মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, নুসরাতের সঙ্গে যা হয়েছে, তা বাংলাদেশের কেউ মেনে নেয়নি। নিতে পারে না। আমরা নুসরাতকে বলছি, আমাদের যতক্ষণ নিশ্বাস আছে, আমরাও প্রতিবাদ করে যাব।

নুসরাত হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বাঁচাতে একটি শ্রেণি উঠেপড়ে লেগেছে। আমরা চাই, সাত দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হোক। প্রধানমন্ত্রী যে আদেশ দিয়েছেন, সেটা যেন ভিন্ন খাতে কেউ প্রবাহিত না করেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ড এবং তার বিচার দাবি জাতীয় দাবি। এখানে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যেন কেউ পার না পায়।

চিত্রনায়ক আলমগীর এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, নুসরাতের সঙ্গে যা হয়েছে, তা বাংলাদেশের কেউ মেনে নেয়নি। নিতে পারে না। বিচারের দাবিতে আজ সবার সঙ্গে আমরা সাধারণ শিল্পীরাও রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। সাত দিনের মধ্যে যদি সমাধানের দিকনির্দেশনা না পাই, তবে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, মৃত্যুর আগে নুসরাত বারবার বলেছিল, যতক্ষণ নিশ্বাস আছে, প্রতিবাদ করে যাবে। আজ নুসরাত নেই। তবে আমরা আছি। নুসরাতকে বলছি, আমাদের যতক্ষণ নিশ্বাস আছে, প্রতিবাদ করে যাব।

অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, আমি লজ্জিত, কারণ, আমার জন্মভূমিতে এই ঘটনা হয়েছে। আমি নুসরাতের বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের যারা এই ঘটনায় অপরাধীর পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

নাট্যনির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক বলেন, আমরা এমন একটি বিচার দাবি করছি, যেন এই বিচার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মাটিতে আমরা এমন নৃশংসতা দেখতে চাই না।

গত বুধবার রাতে না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত।

তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এরপর না ফেরার দেশে চলে যান মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

মন্তব্য