| প্রচ্ছদ

ধারাবাহিক আলোচনা

রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.) জীবনী-১ঃ নবীজী গর্ভে থাকা অবস্থায় মা আমিনা যা শুনতে পেতেন

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ১৯৯ বার। প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০১৯ । আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ।

[মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী আমরা অনেকেই জানিনা, হয়তো কখনো পড়ারও সুযোগ হয়নি। এই অধমের মত এমনও অনেকে  আছেন যে, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)-এর জীবনী পড়ার জন্য বই কিনেছেন কিন্তু তা অনেক মোটা হওয়ায় অল্প কিছুদিন পড়ে সময়ের অভাবে অথবা অলসতার কারণে শেষ করতে পারেন নি। যেহেতু এখন প্রায় সবার হাতে স্মার্ট ফোন রয়েছে এবং দিনে অন্তত একবার হলেও অনলাইন ভিত্তিক পোর্টালে ঢুঁ মারেন। তো তাদের কথা চিন্তা করেই পুণ্ড্রকথা রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.) -এর জীবনী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে।

বলে রাখা ভাল, রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)-এর এই জীবনীটি প্রথমা প্রকাশনের ‘সিরাতে রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। ইবনে ইসহাকের লেখা গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন শহীদ আখন্দ। তিনি জানিয়েছেন, বইটির মূল লেখক ইবনে ইসহাকের জন্ম ৭০৪ খৃস্টাব্দে। ৬৩২ হিজরিতে মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ্‌ (সা.) এর ইন্তেকালের ৭২ বছর পরে। অর্থাৎ মহানবীর (সা.) ইন্তেকালের এক শতাব্দীর কাছাকাছি কোন সময়ে তাঁর এই জীবনী রচিত হয়। বাংলা ভাষায় এদেশে বইটি প্রথম প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।পাঠকদের সুবিধার্তে পরিসর ছোট করার জন্য বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠার বর্ণনা তুলে না ধরে কেবল গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোই বেছে নেওয়া হয়েছে। - সম্পাদক]

 

কিংবদন্তি আছে রাসুলুল্লাহর (সা.) মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব প্রায়ই বলতেন রাসুলুল্লাহকে (সা.) গর্ভে ধারণ করা অবস্থায় একটি কণ্ঠ তাঁকে বলত ‘আপনি এই জাতির রাজাধিরাজকে গর্ভে ধারণ করে আছেন। তাঁর জন্মের পর আপনি বলবেন, সমস্ত হিংসুকের বদনজর থেকে তাঁকে আমি অদ্বিতীয়ের হেফাজতে সোপর্দ করলাম; তাঁর নাম রাখাবেন মুহাম্মদ।’ যখন তিনি তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তাঁর দেহ থেকে একটা আলো বেরোত। সেই আলোয় তিনি সিরিয়ার বুসরার প্রাসাদ  দেখতে পেতেন। কিছুদিন পর রাসুল্লাহর (সা.) বাবা আব্দুল্লাহ্ ইন্তেকাল করেন।


হাতির বছরে [রাজা আবরাহারের হাতির বাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণের বছর] ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার রাসুল (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। একদিন ইয়াসরিবের (বর্তমান নাম মদিনা, মদিনা অর্থ শহর) এক দূর্গের চূড়া থেকে গলার সমস্ত জোর দিয়ে প্রাণপণে চিৎকার করছিলেন এক ইহুদি, ‘এই ইহুদির দল।’ সব লোক ছুটে এল। তারাও চিৎকার করে বলল, ‘কী হচ্ছে এসব, অ্যাঁ? কী হয়েছে?’ সেই ইহুদি জবাব দিলেন, ‘আজ রাতে এক তারকার উদয় হয়েছে, সেই তারকার নিচে জন্মগ্রহণ করবে আহমদ।’


ছেলের জন্মের (রাসুলুল্লা সা.) পর তাঁর মা লোক পাঠালেন দাদু আবদুল মুত্তালিবকে সংবাদ দিতে। ছেলে সন্তান হয়েছে তার। তিনি যেন দেখতে আসেন। আবদুল মুত্তালিব এলে মা আমিনা তাঁকে সব কথা খুলে বললেন। গর্ভবর্তী অবস্থায় নিজের দেহের আলোয় বুসরার প্রাসাদ দেখার কথা। একটি কণ্ঠ যে কথা তাঁকে বলে গেছে, তাঁর নামকরণ সম্পর্কে তাঁকে যে হুকুম দেওয়া হয়েছে, তার বিবরণ। সব তিনি আবদুল মুত্তালিবকে খুলে বললেন।


কথিত আছে আবদুল মুত্তালিব তখন রাসুলকে (সা.) নিয়ে গেলেন কাবাঘরে। সেখানে দাাঁড়িয়ে তিনি আল্লাহর কাছে শোকরগোজারি করলেন এই অপূর্ব উপহারের জন্য। তারপর বাইরের এসে তাঁকে তাঁর মায়ের কোলে তুলে দিলেন। তিনি তক্ষুণি একজন ধাত্রী-জননীর অনুসন্ধানে তৎপর হয়ে গেলেন। বনু সাদ ইবনে বকরের হালিমা বিনতে আবু জু-আয়বকে বলা হলো তাঁকে স্তন্যদানের জন্য।


রাসুলের (সা.) দুগ্ধপিতা ছিলেন আল-হারিস ইবনে আবদুল ইজ্জা। তাঁর দুধ ভাই ছিলেন আব্দুল্লাহ আল-হারিস। উনায়সা ও হুজায়ফা ছিলেন তাঁর দুধবোন। হুজায়ফাকে আশ-শায়মা নামে ডাকা হতো। তাঁর নিজের লোকেরা তাঁর ভাল নাম ব্যবহার করত না। মাকে সাহায্য করার জন্য আশ-শায়মা নবী (সা.)-কে কোলে রাখতেন বলে জানা যায়।


নবী (সা.)-এর ধাত্রী মা হালিমা বলতেন, তিনি স্বামী এবং ছোট বাচ্চা নিয়ে নিজের দেশ থেকে তাঁর গোত্রের অন্য মেয়েদের সঙ্গে লালন করার মতো বাচ্চার অনুন্ধানে বেরিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য, বাচ্চা পেলে তিনি তার ধাত্রী-মা হবেন। দুর্ভিক্ষের বছর ছিল সেটা। তাঁদের সহায়-সম্বল কিছু ছিল না। তাঁর নিজের কালচে রঙের একটা গাধায় চড়ে তিনি যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল একটা বুড়ো মাদি উট। এক ফোঁটা দুধ ছিল না স্তনে তাঁর। ক্ষুধার্ত শিশুর কান্নায় সারা রাত কারও ঘুম হয়নি। তাঁর নিজের বুকে দুধ ছিল না, সকালে এক চুমুক দুধও দিতে পারেনি উট।


আমরা আশা করেছিলাম বৃষ্টি হবে, ঠাণ্ডা হবে প্রকৃতি। আমি একটা গাধার পিঠে চড়ে যাচ্ছিলাম। এই গাধাটি খুব দুর্বল আর হাড় জিরজিরে ছিল। ফলে সব কটার পেছনে পড়ে গিয়েছিল। বাকি সব কটার সঙ্গে সমানতালে চলতে পারছিল না বলে অন্যগুলোর অসুবিধা হচ্ছিল। আমরা মক্কায় পৌঁছেই দুগ্ধপুত্রের সন্ধানে তৎপর হলাম। রাসুলুল্লাহকে (সা.) গ্রহণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হলো। কিন্তু যে-ই সবাই শুনল তিনি এতিম, কেউ তাঁকে নিতে রাজি হলো না। কারণ, সবাই শিশুর মা-বাবার কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তির আশায় ছিলেন।

(চলবে, চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে)

মন্তব্য