| প্রচ্ছদ

কোরআন নাযিলের ইতিহাস: ২

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ১৮৫ বার। প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০১৯ । আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৯ ।

ওহী আগমনের পরবর্তী অবস্থা:
সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূল (সা:) ঘরে ফিরে আসেন। তাঁর বুক ধুক ধুক করছিলো। তিনি হযরত খাদিজা (রা:) কে বললেন-“আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। বিবি খাদিজা (রা:) তাঁকে চাদর জড়িয়ে শুইয়ে দিলেন। তাঁর ভয় আস্তে আস্তে কেটে যেতে থাকে। এরপর তিনি খাদিজা (রা:)-কে সব খুলে বললেন। তিনি বললেন-“আমার কি হয়েছে? নিজের জীবনের ব্যাপারে আমি আশঙ্কা করছি। বিবি খাদিজা (রা:) তাঁকে অভয় দিয়ে বললেন-“আল্লাহ্তায়ালা আপনাকে অপমান করবেন না। আপনি আত্মীয় স্বজনদের হক আদায় করেন। বিপদগ্রস্ত লোকদের সাহায্য করেন। মেহেমানদারী করেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।” 
এরপর খাদিজা (রা:) রাসূল (সা:)-কে নিয়ে গেলেন আপন চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেল-এর কাছে। ওয়ারাকা আইয়ামে জাহেল যুগে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু ভাষায় ইঞ্জিল লিখতে পারতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বৃদ্ধ। তিনি রাসূল (সা:)-এর কাছ থেকে সব ঘটনা শুনে বললেন-“আপনার কাছে যে দূত এসেছিলেন তিনি সেই ফেরেস্তা যিনি মুসা (আ:)-এর কাছে এসেছিলেন।” সেই সাথে তিনি আরও বললেন- আপনাকে আপনার নিজ কওম (জাতি) বের করে দিবে।” দেশান্তরিত হওয়ার কথা শুনে রাসূল (সা:) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন-তবে কি আমার কওম আমাকে সত্যি বের করে দিবে?” উত্তরে ওয়ারাকা বললেন-“হ্যাঁ, আপনি যে ধরণের বাণী লাভ করেছেন, এ ধরণের বাণী যাঁরাই পেয়েছেন তাঁদের সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে।” অতপর ওয়ারাকা ওয়াদা করলেন “যদি আমি বেঁচে থাকি তবে অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করবো।” এর কিছুদিন পরই ওয়ারাকা ইন্তেকাল করেন।    


সাময়িকভাবে ওহীর আগমন স্থগিত:
প্রথমবার ওহী আগমনের পর কিছুদিনের জন্য ওহীর আগমন স্থগিত হয়ে যায়। এই সময়ে রাসূল (সা:)-কে বিষন্ন ও চিন্তাযুক্ত দেখা যায়। তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি ভাবলেন কোরায়েশরা তাঁর ওহীর কথা শুনে না জানি কবি বা পাগল ভেবে বসে। মানসিক অস্থিরতায় তিনি ছটফোট করতে থাকেন। কখনো তিনি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে ঝাঁপ দিয়ে নিচে পড়ে নিজেকে শেষ করে দিতে চাইতেন। ভাবতেন, তাহলে হয়তো চিরকালে জন্য শান্তি পেয়ে যাবেন। এরূপ চিন্তা করে পাহাড়ের মাঝামাঝি ওঠার পর আসমান থেকে আওয়াজ এলো- “হে মুহাম্মদ (সা:), আপনি আল্লাহ্র রাসূল, আর আমি জিবরাঈল। রাসূল (সা:) এই আওয়াজ শোনার পর আকাশে দিকে মাথা তুলে দেখেন জিবরাঈল (আ:) মানুষের আকৃতি ধরে দিগন্তে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলছেন-“হে মুহাম্মদ, আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি জিবরাঈল ফেরেস্তা।” রাসূল (সা:) সেখানে দাঁড়িয়ে জিবরাঈল (আ:) দেখতে থাকেন। যে ইচ্ছায় তিনি পাহাড়ের উপর উঠেছিলেন তা ভুলে যান। তখন তিনি সামনেও যেতে পারছিলেন না পেছনেও যেতে পারছিলেন না। আকাশের যে দিকেই তাকাচ্ছিলেন সে দিকেই জিবরাঈল (আ:)-কে দেখতে পাচ্ছিলেন। রাসূল (সা:) সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন। এর মধ্যে খাদিজা (রা:) তাঁর খোঁজে লোক পাঠান। তারা মক্কা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু রাসূল (সা:) নিজের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকেন। জিবরাঈল (আ:) চলে যাওয়ার পর রাসূল (সা:) ঘরে ফিরে আসেন। খাদিজা (রা:)-এর উরুতে হেলান দিয়ে বসে পড়েন। খাদিজা (রা:) জিজ্ঞেস করলেন-আবুল কাশেম, আপনি কোথায় ছিলেন? আপনার খোঁজে আমি লোক পাঠিয়েছি, সে মক্কা পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে এসেছে, কিন্তু আপনাকে পায়নি। রাসূল (সা:) তখন যা কিছু দেখেছেন তাই বললেন। খাদিজা (রা:) বললেন-“আপনি খুশি হোন এবং দৃঢ়পদে থাকুন, আমার আশা, আপনি এ উম্মতের নবী হবেন।” [ওহীর আগমন কতদিনের জন্য স্থগিত ছিল সেই সময়কাল নিয়ে মতভেদ আছে। কারো মতে ২ বা ৩ বছর, কারো মতে ৩ মাস, আবার কারো মতে ১০ দিন। তবে ১০ দিন যাবৎ ওহীর আগমন বন্ধ থাকার যুক্তিই জোরালো। নিশ্চয় আল্লাহ্ পাক ভালো জানেন।]  চলবে...

 

মন্তব্য