| প্রচ্ছদ

ঢাকায় ওষুধের দোকানদার: টাঙ্গাইলে সলিমুল্লার বিভাগীয় প্রধান ও বিসিএস ডাক্তার

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৮২ বার। প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০১৯ । আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৯ ।

ঢাকায় ছিলেন ওষুধের দোকানদার। ২০ বছরের দোকান কর্মচারি। তিনি টাঙ্গাইলে গিয়ে হয়ে গেলেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান এবং বিসিএস ডাক্তার। জমিয়ে বসলেন ব্যাপক প্রাকটিস ও চেম্বার।

‘বিসিএস ডাক্তার’ নামধারী এই ভূয়া চিকিৎসককে আটক করে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ডাক্তারি কোন সনদ না থাকলেও জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেই বিসিএস ক্যাডারের ডাক্তার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন এই প্রতারক। তার নাম এফএম শাহ সেকেন্দার (৪৭) । চেহারা ব্যবহার আচার আচরণে পুরোই ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। কারও মনে সন্দেহ হওয়ার উপায় ছিল না। কিন্তু বিধি বাম।

গত শনিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রোকনুজজামান এ দন্ডাদেশ দেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকায় একটি ওষুধের দোকানে থাকতেন। এক পর্যায়ে তিনি ‘টাঙ্গাইল ক্লিনিক এন্ড হসপিটাল’ এ ডাক্তার সেজে রোগী দেখার কাজ করতে থাকেন। শাহ সেকেন্দার ডাক্তার না হলেও তিনি বিসিএস ডাক্তার পরিচয় দিতেন।

দন্ডপ্রাপ্ত শাহ সেকেন্দার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকার ওমর আলী ফকিরের ছেলে। প্রায় ৫ মাস ধরে বিসিএস ডাক্তার পরিচয়ে রোগী দেখতেন। এর আগে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি ঢাকার একটি ফার্মেসিতে কাজ করতেন বলে ডিবি পুলিশ জানায়।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (দক্ষিণ) এর এসআই ওবায়দুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি টাঙ্গাইল ক্লিনিক এন্ড হসপিটালে শাহ সেকেন্দার নামে একজন ভুয়া বিবিএস ডাক্তার রয়েছে। এমনকি তার নেইমপ্লেটেও বিসিএস ক্যাডার স্বাস্থ্য লেখা রয়েছে।

পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এসআই ওবায়দুর রহমান আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শাহ সেকেন্দার কোনো ডাক্তার নয় বলে স্বীকার করেন। এছাড়া তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকায় একটি ওষুধের দোকানে থাকতেন। পরে তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেই বিসিএস ক্যাডারের ডাক্তার বনে যান। এক পর্যায়ে তিনি ‘টাঙ্গাইল ক্লিনিক এন্ড হসপিটাল’ এ রোগী দেখা শুরু করেন। পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, তার কোনো ডাক্তারি সনদ নেই। তার সাইনবোর্ডসহ ভুয়া ভিজিটিং কার্ড রয়েছে। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান বলে নিজেকে প্রচার করেন

মন্তব্য