| প্রচ্ছদ

ধারাবাহিক আলোচনা

কোরআন নাযিলের ইতিহাস-৩: ওহী নিয়ে পুনরায় জিবরাঈল (আ:)-এর আগমন

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ১১১ বার। প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০১৯ । আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ।

ওহী কিছু কাল স্থগিত থাকার কারণ ছিল, রাসূল (সা:) ভয় পেয়েছিলেন। ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে যায়। অত:পর পুনরায় ওহী প্রাপ্তির আগ্রহ এবং প্রতীক্ষা তাঁর মনে জাগে। বিস্ময়ের ঘোর কেটে যাওয়ার পর বাস্তব অবস্থা তাঁর সামনে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পায়। তিনি সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন তিনি আল্লাহর নবী হয়েছেন। আর যিনি তাঁর কাছে এসেছেন তিনি ওহীর বাণী বাহক; আসমানী সংবাদ বাহক। এই বিশ্বাস তাঁর মনে দৃঢ় হওয়ার পর তিনি আগ্রহের সাথে ওহীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এতে করে মনে হচ্ছিল ভবিষ্যতে ওহী নাযিল হলে তিনি দৃঢ়পদ থাকবেন এবং ওহীর ভারী বোঝা বহন করতে পারবেন। রাসূল (সা:)-এর এমন মানসিক প্রস্তুতির পর জিবরাঈল (আ:) পুনরায় এসে উপস্থিত হোন। সহীহ বোখারি শরীফে হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত হাদিসে বলা হচ্ছে যে, হযরত জাবের (রা:) রাসূল (সা:) এর মুখ থেকে ওহী স্থগিত হওয়ার বিবরণ শুনেছেন। রাসূল (সা:) বললেন-“তিনি পথ চলছিলেন। হঠাৎ আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শোনা গেলো। তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন সেই ফেরেস্তাকে, যিনি হেরা গুহায় এসেছিলেন। তিনি আসমান জমীনের মাঝখানে একখানি কুরসীতে বসে আছেন। রাসূল (সা:) ভয় পেয়ে ঝুঁকে পড়েন। এরপর বাড়িতে ফিরে হযরত খাদিজা (রা:)-কে বললেন-“আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও, আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও।” হযরত খাদিজা (রা:) তাঁকে চাদর জড়িয়ে দিলেন। 
এরপরই আল্লাহ্তায়ালা সুরা মুদ্দাসসির-এর প্রাথমিক কয়েকটি আয়াত নাযিল করেন:
“হে কম্বল আবৃত (মোহাম্মদ)। (কম্বল ছেড়ে) ওঠো এবং মানুষদের (পরকালের আযাব সম্পর্কে) সাবধান করো। তোমার মালিকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। আর তোমার পোশাক আশাক পবিত্র করো। এবং (যাবতীয়) মলিনতা ও অপবিত্রতা পরিহার করো। কখনো বেশি পাওয়ার লোভে কাউকে কিছু দান করো না। তোমার মালিকের (খুশির) উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ করো।”  সূরা মুদ্দাসসির: ১-৭ [সূরা মুদ্দাসসির- এর এই আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার পর ক্রমাগত ওহী নাযিল হতে থাকে। তবে এগুলো সুরা মুদ্দাসসির-এর মোট ৫৬টি আয়াতের প্রথম অংশের ৭টি আয়াত। সূরার অবশিষ্ট ৮নং হতে শেষ পর্যন্ত আয়াতগুলো প্রকাশ্যরূপে ইসলাম প্রচারের সময় নাযিল হয়েছিল। ] চলবে...

মন্তব্য