| প্রচ্ছদ

ধারাবাহিক আলোচনা

রাসুলুল্লাহ্‌র (সা.) জীবনী-৩ঃ দুধ ভাইয়ের সামনে পেট খুলে ফেলা হয়েছিল

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৮৮ বার

[মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী আমরা অনেকেই জানিনা, হয়তো কখনো পড়ারও সুযোগ হয়নি। এই অধমের মত এমনও অনেকে  আছেন যে, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)-এর জীবনী পড়ার জন্য বই কিনেছেন কিন্তু তা অনেক মোটা হওয়ায় অল্প কিছুদিন পড়ে সময়ের অভাবে অথবা অলসতার কারণে শেষ করতে পারেন নি। যেহেতু এখন প্রায় সবার হাতে স্মার্ট ফোন রয়েছে এবং দিনে অন্তত একবার হলেও অনলাইন ভিত্তিক পোর্টালে ঢুঁ মারেন। তো তাদের কথা চিন্তা করেইপুণ্ড্রকথা রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.) -এর জীবনী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে।

বলে রাখা ভাল, রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)-এর এই জীবনীটি প্রথমা প্রকাশনের ‘সিরাতে রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.)’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। ইবনে ইসহাকের লেখা গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন শহীদ আখন্দ। তিনি জানিয়েছেন, বইটির মূল লেখক ইবনে ইসহাকের জন্ম ৭০৪ খৃস্টাব্দে। ৬৩২ হিজরিতে মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ্‌ (সা.) এর ইন্তেকালের ৭২ বছর পরে। অর্থাৎ মহানবীর (সা.) ইন্তেকালের এক শতাব্দীর কাছাকাছি কোন সময়ে তাঁর এই জীবনী রচিত হয়। বাংলা ভাষায় এদেশে বইটি প্রথম প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।পাঠকদের সুবিধার্তে পরিসর ছোট করার জন্য বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠার বর্ণনা তুলে না ধরে কেবল গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোই বেছে নেওয়া হয়েছে। - সম্পাদক]

 

আগের লেখা যেখানে শেষ হয়েছিল
আমি তাঁর মাকে বললাম, ‘আমি চাই ছেলে বড় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুক। মক্কায় তো অসুখ-বিসুখের মহামারি লেগেই আছে। ওকে এখানে রাখতে আমার ভয় লাগে। ওকে আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দিন।’
আমরা জেদ ধরলাম। জেদ দেখে তিনি রাজি হলেন। তাঁকে আমাদের সঙ্গে ফেরত যেতে দিলেন। 

 

পরের অংশ
আমরা দেশে ফিরে আসার কয়েক মাস পর। একদিন তিনি আর তাঁর ভাই তাঁবুর পেছন দিকে মেষ চড়াচ্ছিলেন। তাঁর ভাই দৌড়ে এল আমাদের কাছে। বলল, ‘দু’জন লোক সাদা কাপড় পরা আমার কোরাইশি ভাইকে ধরেছেন, ধরে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন। মাটিতে ফেলে তাঁর পেট খুলে ফেলেছেন, এখন তাঁরা তাঁর পেটের ভেতর কী যেন নাড়াচাড়া করছেন।’

 

আমরা ছুটে গেলাম সেখানে। দেখলাম, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। চেহারা নীল হয়ে আছে। তাঁকে  কাছে টেনে নিলাম, কী হয়েছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ‘সাদা পোশাক পরা দু’জন লোক আমাকে মাটিতে ফেলে আমার পেট খুলে ওখানে কি জানি খুঁজেছেন।’

 

তাঁকে আমরা তাঁবুতে নিয়ে এলাম।

তাঁর বাবা আমাকে বললেন, ‘আমার কেমন জানি ভয় হচ্ছে, ছেলে বোধ হয় কোনো আঘাত পেয়েছে। কোনো কিছু হওয়ার আগেই ওকে নিয়ে যাও, ওর পরিবারের কাছে দিয়ে এসো।’ 

 

তাঁকে নিয়ে আমরা তাঁর মায়ের কাছে চলে গেলাম। তাঁর মা জিজ্ঞেস করলেন, তাঁকে রাখার জন্য এত শখ ছিল আমাদের, তাঁর ভালো-মন্দের জন্য এত উদ্বিগ্ন ছিলাম আমরা, সে জন্যই তো তখন নিয়ে গেলাম। তাহলে এখন কেন ফিরিয়ে আনলাম।

 

আমি তাঁকে বললাম, ‘আল্লাহ্ আমার ছেলেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি আমার কর্তব্য করেছি। আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে, তাঁর অসুখ হতে পারে। কাজেই আপনার ইচ্ছামতো তাঁকে আপনার কাছেই নিয়ে এলাম।’

 

তিনি বার বার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আমাকে  জেরা করতে লাগলেন কী হয়েছিল। কিছুতেই আমাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত আমি তাঁকে সব বলে ফেললাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাঁকে কোনো জিনে আসর করেছে বলে আমার মনে হয় কি না। আমি বললাম, হয়। তিনি বললেন, কোনো জিনের তাঁর ছেলের কিছু করার ক্ষমতা নেই। কারণ, তাঁর সামনে আছে এক বিপুল সম্ভাবনা। তখন তিনি বললেন, পেটে থাকার সময় কেমন করে তাঁর শরীর থেকে একটা আলো নির্গত হতো, সেই আলোতে তিনি বিভাসিত বোসরার প্রাসাদ দেখতে পেতেন। বললেন, তাঁর জন্মের সময় তাঁর কোনো কষ্ট হয়নি। এ রকম সচরাচর হয় না। জন্মের সময় ছেলে নিচে মাটিতে দুই হাত রেখে ওপরে আকাশের দিকে তাকিয়েছিল।

 

তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে রেখেই যান ওকে। আপনি শান্তিতে থাকুন।’

 

সাউর ইবনে ইয়াজিদ আমার (ইবনে ইসহাক) কাছে আরেক বিবরণ দিয়েছেন। তিনি এটা পেয়েছেন এক জ্ঞানী লোকের কাছ থেকে। সেই জ্ঞানী লোক সম্ভবত খালিদ ইবনে মাদান আল-কালাই। তিনি বলেছেন, ‘আমার পিতা ইবরাহিম যে জিনিসের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যে সুসংবাদের কথা বলেছিলেন, আমি সেই-ই। আমি যখন মায়ের পেটে, তখন মায়ের শরীর থেকে এক আলো বেরোত। সেই আলোতে তিনি সিরিয়ার প্রাসাদ দেখতে পেতেন। বন্ধু সাদ ইবনে বাকরের লোকজনের সঙ্গে আমি স্তন্যপান করে বড় হই। একদিন আমার দুধভাইয়ের সঙ্গে আমি তাঁবুর পেছনে মেষ চড়াচ্ছিলাম। তখন সাদা পোশাক পরা দু’জন লোক আমার কাছে এলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল তুষারভর্তি একটি সোনার পাত্র। তাঁরা আমাকে ধরে আমার পেট খুলে ফেললেন। পেট থেকে হৃৎপিণ্ড বের করে তা ভেঙে ফেললেন। ভাঙা কলিজা থেকে কালো একটি বিন্দু বের করে তা  ফেলে দিলেন।  ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁদের একজন বললেন, একে এদের আরও ১০ জনের বিপরীতে ওজন করো। তাঁরা ওজন করলেন। দেখা গেল, আমার ওজন বেশি। এরপর তাঁরা আমাকে অন্য ১০০জনের বিপরীতে ওজন করলেন, তারপর এক হাজার জনের বিপরীতে ওজন করলেন। এক হাজার জনের চেয়েও আমার ওজন বেশি হলো। তিনি বললেন, ‘ওকে একা একা থাকতে দিন। আল্লাহর নামে বলছি, তাকে তার সমস্ত লোকজনের বিপরীতে ওজন করলেও তার ওজন বেশি হবে।’

 

(চলবে.. চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে)

মন্তব্য