| প্রচ্ছদ

কোরআন নাযিলের ইতিহাস-১১: ওহীর জ্ঞান ছাড়া মানব জীবন পূর্ণতা পেতে পারে না [১ম পর্ব ]

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ১৬২ বার

আমাদের কিছু প্রাথমিক বিষয় জানা উচিত। যেমন (ক) ওহীর প্রয়োজনীয়তা, (খ) ওহী নাযিলের পদ্ধতি (গ) কোরআন নাযিলের ইতিহাস এবং (গ) কোরআন সংরক্ষণের ইতিহাস। এসব  বিষয় এই জন্যে জানা উচিত যে, এগুলো একেবারে গোড়ার কথা। গোড়ার কথা না জানলে হঠাৎ করে ইসলাম বিষয়ক আলোচনা বোঝাটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেদিকে লক্ষ রেখে এখন ওহীর প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে কিছু আলোচনার  অবতারণা করছি।
সৃষ্টি জগতের নিপুণ কলাকৌশল এবং সেসবের নিয়মমাফিক চলাচল লক্ষ্য করলে একটা অদৃশ্য শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। সেই অদৃশ্য শক্তিই মহান আল্লাহ্তায়ালা। যখন আমরা বিশ্বাস করি, এই মহাবিশ্বে যা কিছু আছে সবই একজন মহাজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি, তিনিই পরম নিপুণতার সাথে এই বিশ্ব প্রকৃতি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রন করছেন এবং কোনো এক বিশেষ উদ্দেশ্যে তিনি মানুষকে এই দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। তখন এই বিশ্বাসের ধারাবাহিকতায় আমাদের স্বাভাবিকভবেই বিশ্বাস করতে হয় মহান সৃষ্টিকর্তা দুনিয়াতে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য অবশ্যই কোনো পথ নির্দেশ দিয়েছেন। এই দুনিয়াতে তিনি আমাদের জ্ঞান দান না করে অন্ধকারে ফেলে দেননি। আমরা দুনিয়ায় কেন প্রেরিত হয়েছি, এখানে আমাদের দায়িত্ব কি, আমাদের এই জীবনের লক্ষ ও উদ্দেশ্য কি, কিভাবে আমরা সেই উদ্দেশ্য পূরণে সফল হবোএসব সংক্রান্ত পরিপূর্ণ গাইড লাইন তিনি আমাদের দিয়েছেন। যেন প্রতিটি প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সেই গাইড লাইন থেকে অর্জিত জ্ঞান দ্বারা আমরা পথ চলতে পারি। 
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝানো যায়। যেমন ধরুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, একজন ব্যক্তিকে বিদেশের কোনো একটি দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দিলেন। সেখানে উক্ত ব্যক্তিকে পাঠানোর উদ্দেশ্য অবশ্যই বর্ণিত থাকবে। সেইসাথে তিনি কিভাবে উক্ত উদ্দেশ্য পূরণ করবেন এবং তাঁর যাবতীয় কার্যপ্রণালি নির্দেশিত থাকবে। এক কথায় তার দায়িত্ব কর্তব্য লিপিবদ্ধ করা থাকবে। কিন্তু তেমনটা ভাবা অমূলক যে রাষ্ট্রপতি উক্ত রাষ্ট্রদূতকে কোনোরূপ সঠিক নির্দেশনা না দিয়েই তাকে পাঠাবেন। বরং তিনি যেন সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেটার গাইড লাইন অবশ্যই থাকবে। সুতরাং একজন রাষ্ট্রদূতের প্রতি একজন রাষ্ট্রপতির যদি গাইড লাইন থাকে, তবে মহান আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের জন্য অবশ্যই গাইড লাইন দিয়েছেন। আর তা তিনি দিয়েছেন ওহীর মাধ্যমে। সুতরাং আল্লাহ্র প্রতি যারা ঈমান এনেছেন তাদেরকে অবশ্যই স্বীকার করতে হযে যে, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে অন্ধকারে ফেলে দেয়ার জন্য হেদায়েতবিহীন অবস্থায় ছেড়ে দেননি। তিনি সঠিক পথের সন্ধান বাতলানোর জন্য একটি নিয়মিত পন্থা দান করেছেন। এই পন্থাটি হলো ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ আল কোরআন। 
প্রত্যেক মুসলমানই জানেন যে, আল্লাহ্তায়ালা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে মানব জাতিকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। তিনি মানুষের উপর কতগুলো বিশেষ দায়িত্ব অর্পন করেছেন এবং তাঁর অন্য সব সৃষ্টিকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এই কারণে জীবনে প্রত্যেক মানুষের উপর দুটি মৌলিক কর্তব্য বর্তায়। প্রথমত: সৃষ্টি জগতের যে সব বস্তু মানুষ ব্যবহার করবে তা যেন যথার্থ সঠিক হয়, দ্বিতীয়ত: আল্লাহ্ প্রদত্ত সেসব বস্তু ব্যবহার করার সময় আল্লাহর আদেশ-নিষেধের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। সাবধান থাকতে হবে কোনো কাজ বা আচরণ যেন আল্লাহ্র ইচ্ছার বিরুদ্ধে না হয়। এই দুটি মৌলিক কর্তব্য পালনের জন্য জ্ঞান প্রয়োজন। প্রথমত: প্রকৃতির বস্তু সমূহের সর্বোচ্চ উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আমাদেরকে জ্ঞান প্রয়োগ করতে হয। ফলে আমরা উক্ত বস্তু দ্বারা পরিপূর্ণ উপকার লাভ করতে পারি। দ্বিতীয়ত: উক্ত বস্তুর সর্বত্তোম ব্যবহারের সময় লক্ষ রাখতে হবে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির। আমাদেরকে জ্ঞান প্রয়োগ করে বুঝতে হবে কোন্ কাজ আল্লাহ্র পছন্দ আর কোন্ কাজটি তিনি অপছন্দ করেন। এ কারণেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা লাভ করার জন্য এবং তা থেকে বিচার, বিবেচনা প্রয়োগ করে কাজ করার জন্য আল্লাহ্তায়ালা তিনটি বিষয় দান করেছেন। (১) পঞ্চ ইন্দ্রিয় (২) বুদ্ধি (৩) ওহী।

চলবে...

মন্তব্য