| প্রচ্ছদ

কোরআনের কিছু কথা- ১ 

কোরআনের কথা লিখে শেষ করা যাবে না

জুবাইর হাসান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী
পঠিত হয়েছে ১৩০ বার

কোরআন সম্পর্কে সর্ব সাধারণ মুসলমানরা এই প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস করে থাকে যে, ১) কোরআন আল্লাহতায়ালার কথা ২) কোরআন মুহাম্মাদুর রাসূল সাঃ এর ওপর নাযিল হয়েছে এবং ৩) কোরআন স্বয়ং আল্লাহতায়ালার হেফাজতে নিখূঁত নির্ভুল ও পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষিত আছে ও থাকবে। এ কাল পর্যন্ত কোরআনে কোনোই সংযোজন-বিয়োজন হয়নি এবং কেয়ামত পর্যন্ত হবেও না। আমাদের এই তিনটি বিশ্বাসকে দৃঢ়মূল করতে হলে সেসব সম্পর্কে কিছু জানা চাই। এতদসংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞানের পর্যায়ভূক্ত বিষয়গুলো হলো- ওহী জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা, ওহী নাযিল পদ্ধতি, কোরআন নাযিলের ইতিহাস, কোরআন নিয়ে সন্দেহের বিরুদ্ধে আল্লাহর জবাব, কোরআনের মতো কিছু একটা রচনার ব্যাপারে আল্লাহর চ্যালেঞ্জ, কোরআন অবতীর্ণ কালীন সময়ে রাসূল সাঃ -এর প্রতি কুরাইশদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ-কটাক্ষ-বিরোধিতার ধরন, কেন কোরআন একটা জীবন্ত মুজিযা, কোরআন সংরক্ষন ও সংকলনের ইতিহাস ইত্যাদি। এসব বিষয় নিয়ে হাজারো পৃষ্ঠা লিখলেও তা হবে কোরআনের কিছু কথা মাত্র। কারণ কোরআনের কথা লিখা তো শেষ হবার নয়। সে সম্পর্কে পরে আসছি, তার আগে আরেকটা দিকে কিছু বলি। 
কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়, তোমার প্রিয় শখ কি? হয়তো উত্তর আসবে বই পড়া। কিন্তু কেউ কখনো কি বলেছে যে, আমার প্রিয় শখ কোরআন পড়া? কেউ হয়তো বলেনি। তবে তাই বলেতো কোরআন পড়া থেমে থাকেনি। হাজার, লক্ষ, কোটি মানুষ কোরআন নিয়মিত পড়ে যাচ্ছেন। তাদের ওপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন, আমীন। রমজান মাস কোরআন নাযিলের মাস। আর রমজান মাস সিয়াম (রোজা) সাধনের মাস। এই দুটো দিক থেকেই এ মাসই সবচেয়ে উত্তম সময় কোরআনের কিছু কথা জানা ও শোনার। এ মাসেই আমরা ‘কোরআন পড়া’-কে প্রিয় শখ হিসাবে বেছে নিতে পারি।
আর কেনইবা কোরআন পড়ব না। কোরআন আল্লাহর কথা। আর আল্লাহ আমাদের কে? আমাদের কাছে আল্লাহ হলেন- তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ- তিনিই প্রকাশিত এবং তিনি গোপনও। এই কথাতো আল্লাহই বলে দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে- “তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই ব্যক্ত, তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।”- সূরা হাদীদ:৩।
যখন কিছুই ছিলো না তখনও আল্লাহ ছিলেন এবং যখন কিছুই থাকবে না তখনও তিনি থাকবেন। সব প্রকাশের চাইতেও তিনি অধিক প্রকাশ কেননা বিশ্বজগত কেবলমাত্র তাঁরই গুণ, তাঁরই কার্যবলী, তাঁরই নূরের প্রকাশ মাত্র। আবার তিনি সকল গোপনের চাইতেও অধিক গোপন। 
যাহোক, শিরোনাম প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আসলে কোরআন এক অন্তহীন অসীম জ্ঞানের মহাসাগর। এগুলো লিখে শেষ হবার নয়। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর ধরে কোরআন সম্পর্কিত লক্ষ-কোটি কেতাব লিখা হয়েছে। কোরআনের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত তাফসীর গ্রন্থ, হাদীসের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত শরাহ গ্রন্থ, রাসূল সাঃ -এর জীবন সংক্রান্ত সীরাত গ্রন্থ প্রভৃতিসহ হাজারো ক্যাটাগরির লক্ষ-কোটি পুস্তক রচিত হয়েছে। তবু শেষ করা যায়নি, যাবেও না। আল্লাহর কালাম সম্পর্কে লেখা পাণ্ডুলিপিটা যত বড়ই হোক না কেন, তুলনামূলক বিচারে তা অতিক্ষুদ্র কর্মযজ্ঞে চিত্রায়িত হয়ে পড়ে। বৃহৎ বৃহৎ আকারের কেতাব লিখেও ভবিষ্যতের জন্যে লেখার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। বরং তা চলছে অবিরাম। এ জন্যেই মহান আল্লাহ তায়ালা বলছেন,
“(হে নবী,) তুমি (এদের) বল, আমার মালিকের (প্রশংসার) কথাগুলো (লিপিবদ্ধ করা) এর জন্যে যদি সমুদ্র কালি হয়ে যায়, তাহলে আমার মালিকের কথা (লেখা) শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র শুকিয়ে যাবে, এমনকি যদি আমি তার মতো (আরো) সমুদ্রকে (লেখার কালি করে) সাহায্য করার জন্যে নিয়ে আসি (তবুও)।”-সূরা কাহফ-১০৯।
অন্যত্র আল্লাহ বলছেন-
“যমীনের সমস্ত গাছ যদি কলম হয় এবং মহাসমুদ্রগুলোর সাথে যদি আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে তা কালি হয়, তবুও আল্লাহ তায়ালার গুণাবলী সম্পর্কিত কথাগুলো লিখে শেষ করা যাবে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।”-সূরা লোকমান-২৭।

চলবে...
 

মন্তব্য